বিসিএল নাটকীয় মুহূর্ত, সৈকত ও হাসান-মুশফিকের জয়যাত্রা

৯৭ প্রতিবেদক: মোহাম্মদ আফজল

প্রকাশ: 2 ঘন্টা আগে আপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
বিসিএল নাটকীয় মুহূর্ত, সৈকত ও হাসান-মুশফিকের জয়যাত্রা

বিসিএল নাটকীয় মুহূর্ত, সৈকত ও হাসান-মুশফিকের জয়যাত্রা

বিসিএল নাটকীয় মুহূর্ত, সৈকত ও হাসান-মুশফিকের জয়যাত্রা

শনিবারের বিসিএল তৃতীয় রাউন্ড ছিল ক্রিকেটের জন্য এক অসাধারণ নাটক। রাজশাহী এবং বগুড়া শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে খেলা দুই ম্যাচই শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা, ঝড়ো ব্যাটিং এবং টানটান পরিস্থিতিতে পূর্ণ ছিল। যখন মনে হচ্ছিল জয় নিশ্চিত, ঠিক তখনই সেন্ট্রাল জোনের মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত এবং ইস্ট জোনের হাসান মাহমুদ ও মুশফিক হাসান শেষ ওভারে এসে লড়াইয়ের প্রতিটি মুহূর্তকে চূড়ান্ত করে দেন। নর্থ ও সাউথ জোনের শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে তাদের এই সাহসী ফিনিশিং ফুটিয়ে তোলে বিসিএলের আসল রোমাঞ্চ। সেই সাথে আবারও এটা প্রমাণিত হল যে, যতক্ষণ না শেষ বল, ততক্ষণ পর্যন্ত কিছুই বলা যায় না।

রাজশাহীতে নর্থ জোন প্রথমে ব্যাট করে ৩২২ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে তুললেও, সেন্ট্রাল জোনের তরুণ ব্যাটাররা শেষ পর্যন্ত সেই সংগ্রহকে টপকে যায়। শুরুর ঝাঁপসাড়া উইকেটচাপ সামলিয়ে তাওহিদ হৃদয় ও তানজিদ হাসান তামিম তৃতীয় উইকেটে এক শক্তিশালী জুটি গড়ে নেন। তানজিদ ঝড়ো ছন্দে ৯২ রান করেন, কিন্তু হৃদয় আরও এক ধাপ এগিয়ে যান। মিডল অর্ডারের এই ব্যাটার ১১৩ বল খেলে ৮ চার দিয়ে ১০২ রান যোগ করেন এবং লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। শেষ দিকে সাব্বির রহমান দলের সংগ্রহকে বিশাল করার জন্য ঝড়ো ফিনিশিংয়ে নামেন। ৭৩ বলে ৭৩ রান করে দলের সংগ্রহকে বড় করেন। নর্থ জোনের সংগ্রহ যে বড় তা চোখে পড়ার মতো। কিন্তু ক্রিকেটের অজানা মোড় এখানেই।

জবাবে নেমে সেন্ট্রাল জোনের ওপেনার জিসান আলম শুরু থেকে ঝড়ো আক্রমণ চালান। মাত্র ৩৩ বলেই ফিফটি পূর্ণ করেন, এবং মাহফিজুল ইসলাম রবিনের সঙ্গে ৯৪ রানের জুটি গড়ে দলকে স্থিতিশীল রাখেন। খেলা তখন টানটান থাকে। জিসান ৯৩ বল খেলে ১২৭ রান করেন, মনে হচ্ছিল জয় নিশ্চিত। কিন্তু সেন্ট্রাল জোনকে শেষ পর্যন্ত মাঠের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত উদ্ধার করেন। মাত্র ২৬ বল খেলে অপরাজিত ৫৪ রান করে তিনি শেষ ওভারে দলকে জয়ের দিকে নিয়ে যান। শক্তিশালী নর্থ জোনের সংগ্রহও শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট হয়নি।

নর্থ জোনের ব্যাটিংয়ে কৌশল ও আগ্রাসন ভালো ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তের চাপ সামলাতে পারিনি। অন্যদিকে সেন্ট্রাল জোনের তরুণদের সাহসী ঝড়ো ব্যাটিং এবং সৈকতের নির্ভীক ফিনিশিং ম্যাচের রূপান্তরক হিসেবে কাজ করেছে।

বগুড়া শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আরেক ম্যাচে সাউথ জোন ১৮০ রানে অলআউট হয়। ব্যাটিং লাইনআপের মধ্যে শুধু আনিসুল ইসলাম ইমন কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলেন। ৫৩ বলে ৫০ রান করে তিনি দলের সংগ্রহকে বড় করতে সাহায্য করেন। অন্য ব্যাটাররা চাপ সামলাতে পারছিলেন না। ইস্ট জোনের রান তাড়া শুরুতে ছিল চ্যালেঞ্জিং। মুমিনুল হক ও শাহাদাত হোসেন দীপু ৫২ রানের জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নেন। তবে মাঝের ব্যাটিং ভেঙে গেলে নবম ব্যাটার নাঈম হাসানের আউটের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ৪০ রান প্রয়োজন ছিল এবং শেষ উইকেটে ক্রিজে আসে হাসান মাহমুদ ও মুশফিক হাসান।

দশম উইকেটের জুটি ম্যাচের নাটকীয় মোড়। ধৈর্য ধরে বোলারদের আক্রমণ সামলানো, ভুলত্রুটি কাজে লাগানো এবং সচেতন চাল-চলন সব মিলিয়ে শেষ ১৫ বল বাকি থাকতে জয় নিশ্চিত করে। হাসান মাহমুদ ক্যারিয়ারের সেরা ৩৫ রান যোগ করেন, এবং মুশফিকের সঙ্গে দশম উইকেটে গড়া ৪০ রানের জুটি ইতিহাসের মতো মুহূর্ত তৈরি করে।

উভয় ম্যাচেই শেষ মুহূর্তের ব্যাটিং চূড়ান্ত পার্থক্য নির্ধারণ করেছে। সেন্ট্রাল জোন এবং ইস্ট জোনের তরুণ এবং অভিজ্ঞ ব্যাটাররা দেখিয়েছে এক ঝাপটায় খেলা উল্টে ফেলা সম্ভব। বোলারদের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ হলেও ব্যাটারদের আগ্রাসী খেলা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করেছে।

এই দুই ম্যাচ প্রমাণ করেছে বিসিএল শুধু স্কোর বোর্ড নয়। এটি কৌশল এবং অবিশ্বাস্য ব্যাটিং নাটকের মেলবন্ধন। দর্শকরা খেলার রোমাঞ্চ অনুভব করেছেন, যেখানে প্রতি বল, প্রতি রান এবং প্রতি উইকেটই ছিল উত্তেজনার উৎস।