বুলবুল ফিরেছেন, এবার ফিরুক ক্রিকেটের প্রাণপ্রবাহ
৯৭ প্রতিবেদক: মোহাম্মদ আফজল
প্রকাশ: 2 ঘন্টা আগে আপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
বুলবুল ফিরেছেন, এবার ফিরুক ক্রিকেটের প্রাণপ্রবাহ
বুলবুল ফিরেছেন, এবার ফিরুক ক্রিকেটের প্রাণপ্রবাহ
অনেক গুঞ্জন, অনেক অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশে ফিরেছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। রমজানের আগে পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়া যাওয়া, সেখানে অবস্থান দীর্ঘ হওয়া সব মিলিয়ে একসময় প্রশ্ন উঠেছিল তিনি আদৌ ফিরবেন কি না। এমনকি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নেতৃত্বেও পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথা শোনা গিয়েছিল। কিন্তু সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তাঁর ফিরে আসা অন্তত একটি বার্তা দিয়েছে, তিনি দায়িত্বে আছেন এবং থাকছেন।
দেশে ফিরেই মিরপুরে বোর্ড কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়া, এরপর জাতীয় দলের ফিটনেস ক্যাম্পে গিয়ে প্রধান কোচ ফিল সিমন্স এবং টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে কুশল বিনিময় সবকিছুই ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়। এতে বোঝা যায়, জাতীয় দল নিয়ে অন্তত তাৎক্ষণিক অচলাবস্থা নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, শুধু জাতীয় দলকে ঘিরে এই সক্রিয়তাই কি যথেষ্ট।
বাংলাদেশের ক্রিকেট বাস্তবতা অনেক বড়। জাতীয় দলের আলোয় যারা থাকেন, তারা সংখ্যায় খুবই কম। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা শত শত ক্রিকেটার আছেন, যাদের ঘাম, পরিশ্রম আর স্বপ্নের ওপরই দাঁড়িয়ে আছে এই কাঠামো। অথচ তারাই আজ সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায়।
এর বড় কারণ একটাই, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ বন্ধ থাকা। এই লিগ শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, এটি দেশের ক্রিকেটারদের জীবিকার প্রধান উৎস, প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের প্রধান মঞ্চ এবং জাতীয় দলের পাইপলাইনের মূল ভিত্তি। ডিপিএল না হওয়া মানে শুধু কিছু ম্যাচ বন্ধ থাকা নয়, এর মানে শতাধিক ক্রিকেটারের ক্যারিয়ার স্থবির হয়ে যাওয়া।
বর্তমানে বোর্ডের সঙ্গে ক্লাব সংগঠকদের দ্বন্দ্ব, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন এবং প্রশাসনিক অস্থিরতা সব মিলিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার সবচেয়ে বড় শিকার এই ঘরোয়া ক্রিকেটাররাই। জাতীয় দলের ক্যাম্পে কুশল বিনিময় যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক ততটাই জরুরি এই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ক্রিকেটারদের খোঁজ নেওয়া।
এখানেই এসে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তিনি দেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান, ক্রিকেটারদের মানসিকতা বোঝেন, ঘরোয়া কাঠামোর গুরুত্ব জানেন। তাই তাঁর কাছে প্রত্যাশাটাও বেশি। জাতীয় দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎই যেন তাঁর কার্যক্রমের শেষ না হয়, বরং সেটিই হোক শুরু।
তাই এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ দ্রুত মাঠে ফেরানো। ক্লাবগুলোর সঙ্গে বসে সমাধান খোঁজা, আস্থার সংকট দূর করা এবং একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো তৈরি করা এই পদক্ষেপগুলো এখন সময়ের দাবি। কারণ, ঘরোয়া ক্রিকেট সচল না থাকলে জাতীয় দলের সাফল্যও দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
বুলবুলের দেশে ফেরা যেমন “না ফেরার” শঙ্কা দূর করেছে, তেমনি এখন প্রয়োজন ক্রিকেটকে “না চলার” অবস্থা থেকে ফিরিয়ে আনা। আর সেই পথের প্রথম ধাপ খুবই পরিষ্কার, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ আবার মাঠে নামুক।
বাংলাদেশ ক্রিকেট আজ অপেক্ষায় আছে শুধু নেতৃত্বের নয়, কার্যকর সিদ্ধান্তের। এখন দেখার বিষয়, তিনি সেই প্রত্যাশা কত দ্রুত বাস্তবে রূপ দিতে পারেন।
