ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে সালাউদ্দিন: ‘এশিয়া কাপই শেষ নয়’
৯৭ প্রতিবেদক: মোহাম্মদ আফজল
প্রকাশ: 4 ঘন্টা আগেআপডেট: 1 সেকেন্ড আগে- 1
সিলেটে বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস সিরিজে বড় প্রতিপক্ষ বৃষ্টি
- 2
স্মৃতির শহরে রায়ান কুক, সিলেটে ফিরেই আবেগে ভাসলেন ডাচ কোচ
- 3
সিলেটে সাইফ-লিটনের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নেদারল্যান্ডসকে ৮ হারালো বাংলাদেশ
- 4
সাইফ হাসান: টেস্ট ওপেনার থেকে টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডার, ফিরে আসার গল্পে আছেন এক কোচ
- 5
জয়ের বাইরেও প্রস্তুতির বার্তা: এশিয়া কাপের আগে কতটা তৈরি বাংলাদেশ?

ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে সালাউদ্দিন: ‘এশিয়া কাপই শেষ নয়’
ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে সালাউদ্দিন: ‘এশিয়া কাপই শেষ নয়’
প্রস্তুতির ব্যাকরণে বদল আনছেন সহকারী কোচ। সিলেটে দীর্ঘ ক্যাম্পে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ার লক্ষ্যে জোর দেওয়া হচ্ছে মানসিক দক্ষতা ও ম্যাচ ম্যানেজমেন্টের উন্নয়নে। বাংলাদেশ ক্রিকেটে এমন দীর্ঘ প্রস্তুতির সুযোগ মেলে কদাচিৎ। টানা তিন সপ্তাহ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঘাম ঝরানো দল এবার খুঁজছে কেবল এশিয়া কাপের সাফল্য নয়, ভবিষ্যতের ভিত গড়ার রসদও। আর সেই ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই যেন রোববার সিলেটে সংবাদ সম্মেলনে কথা বললেন সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন।
প্রথাগত গৎবাঁধা কথাবার্তা নয়, কোচে কণ্ঠে ছিল চিন্তার গভীরতা। “এশিয়া কাপই শেষ না,” বলেই শুরু করলেন তিনি। “আমরা জানি ভালো খেলতে হবে, কিন্তু সেটা এক টুর্নামেন্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ না। খেলোয়াড়দের স্ট্যান্ডার্ড আপ করার জায়গা আছে প্রতিদিনই।”
এই টুর্নামেন্টের আগে যে প্রস্তুতির সুযোগ পাওয়া গেছে, তা সালাহউদ্দিনের মতে, খেলোয়াড়দের স্কিল ডেভেলপমেন্টে বড় এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে। “ফিটনেস, ফিল্ডিং, ব্যাটিং; তিন বিভাগেই কাজ হয়েছে এবার। সাধারণত এত লম্বা সময় পাই না। এবার পার্সোনাল স্কিল নিয়ে কাজ করতে পেরেছি, যেটা খুবই ইতিবাচক।”
‘স্কিলের চেয়েও মানসিক প্রস্তুতি জরুরি’
ক্রিকেটে শুধু স্কিলই সব কিছু নয়, এটা বোঝাতে গিয়ে উদাহরণ টেনে আনলেন মুস্তাফিজুর রহমানকে। এই বাঁহাতি পেসারকে সালাহউদ্দিন মনে করেন দলের অন্যতম পরিণত ক্রিকেটারদের একজন।
“মুস্তাফিজ এখন কন্ডিশন বুঝে বল করে, ব্যাটার বুঝে নিজের লেংথ ঠিক রাখে। ছোট ছোট জিনিসে যে ম্যাচ জিতে, সেই ম্যাচুরিটি তার মধ্যে এসেছে। এজন্যই সে টপ ক্লাস বোলার।”
এই উপলব্ধিকে কেবল একজন ক্রিকেটারের নয়, পুরো দলের প্রজন্মগত উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে দেখছেন কোচ। “ছেলেরা এখন শুধু খেলার দিকে না, নিজেদের ম্যানেজ করার দিকেও মনোযোগ দিচ্ছে। এই ধরনের ম্যাচুরিটি না এলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টিকে থাকা কঠিন।”
‘স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা’ দলে মানসিকতা বদলের ইঙ্গিত
সাইফ হাসানের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়েও একইরকম ইতিবাচক বার্তা শোনা গেল এই কোচের কণ্ঠে। একই সঙ্গে মিডিয়ার প্রতি একটা পরামর্শও, “কারও ভালো খেলাকে একদম আকাশে তুলে ফেলবেন না, আবার খারাপ করলে মাটিতে নামিয়ে দেবেন না।”
কিন্তু শুধু পারফরম্যান্স নয়, দলে এখন মানসিকভাবে একটি পরিবর্তনের ছোঁয়া দেখছেন সালাহউদ্দিন। “আগে হয়ত খেলোয়াড়েরা চাইত, অন্য কেউ খারাপ করুক যাতে আমি সুযোগ পাই। এখন তারা নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে দলে জায়গা নিতে চায়। এটা খুব ভালো দিক।”
এই মানসিকতা বদল দলের ভেতরে একটি ‘স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা’ তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতের জন্য খুবই ইতিবাচক বলে মনে করেন তিনি।
ভবিষ্যতের কথা বলেই শেষ করলেন
সালাহউদ্দিনের কথায় কথায় উঠে এল ভবিষ্যতের প্রসঙ্গ, “যে পাঁচজন ক্রিকেটার দেশের হয়ে অনেক কিছু দিয়েছে, তারা চিরকাল খেলবে না। পরের জেনারেশন আরও ভালো না হলে ক্রিকেট এগোবে না। আমাদের কাজ হলো তাদের সেই পথে তৈরি করা।”
এই সময়ের প্রস্তুতি, মানসিকতা ও কাঠামোগত উন্নতির সবটা মিলিয়ে সালাহউদ্দিনের দৃষ্টিতে এখনই সময় ভবিষ্যতের ভিত তৈরি করার।
“কাল কী হবে কেউ জানে না। আমাদের কাজ হলো এখন সেরা প্রস্তুতি নেওয়া, যেন ভবিষ্যতে কোনো গলদ না থাকে।”