সাইফ হাসান: টেস্ট ওপেনার থেকে টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডার, ফিরে আসার গল্পে আছেন এক কোচ
৯৭ প্রতিবেদক: মোহাম্মদ আফজল
প্রকাশ: 4 ঘন্টা আগেআপডেট: 1 সেকেন্ড আগে- 1
সিলেটে বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস সিরিজে বড় প্রতিপক্ষ বৃষ্টি
- 2
স্মৃতির শহরে রায়ান কুক, সিলেটে ফিরেই আবেগে ভাসলেন ডাচ কোচ
- 3
সিলেটে সাইফ-লিটনের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নেদারল্যান্ডসকে ৮ হারালো বাংলাদেশ
- 4
সাইফ হাসান: টেস্ট ওপেনার থেকে টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডার, ফিরে আসার গল্পে আছেন এক কোচ
- 5
জয়ের বাইরেও প্রস্তুতির বার্তা: এশিয়া কাপের আগে কতটা তৈরি বাংলাদেশ?

সাইফ হাসান: টেস্ট ওপেনার থেকে টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডার, ফিরে আসার গল্পে আছেন এক কোচ
সাইফ হাসান: টেস্ট ওপেনার থেকে টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডার, ফিরে আসার গল্পে আছেন এক কোচ
একসময় পরিচিত ছিলেন সম্ভাবনাময় টেস্ট ওপেনার হিসেবে। খেলেছেন একাধিক টেস্ট, কিন্তু সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর ছিল দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষা, ঘরোয়া ক্রিকেটে রান কুড়ানো, ফেরার চেষ্টা।
এবার সেই চেনা সাইফ হাসান ফিরেছেন একদম ভিন্ন রূপে, মাঝের উইকেটে ঝড় তোলা একজন টি-টোয়েন্টি ব্যাটার হিসেবে, যিনি আবার দলের প্রয়োজনে বল হাতে উইকেটও তুলে নিতে পারেন।
সাইফের নতুন রূপ: বদলেছেন মনোভাবে, বদলেছেন ভূমিকায়
সাইফ বাংলাদেশ জাতীয় দলে প্রথম এসেছিলেন টেস্ট ওপেনার হিসেবে। টানা সুযোগ পেয়েছেন, কিন্তু পারফর্ম করতে না পারায় জায়গা হারাতে হয়। এরপর ঘরোয়া ক্রিকেটে যখন রানের জোয়ার বইয়ে দিলেন, তখনো জাতীয় দলে টিকে থাকার লড়াইটা সহজ হয়নি।
তবে এবারকার ফেরাটা আলাদা। নিজেকে সাজিয়েছেন নতুন আঙ্গিকে। পরিণত হয়েছেন এক টি-টোয়েন্টি ব্যাটিং অলরাউন্ডারে, যিনি মিডল অর্ডারে নেমে মারকাটারি ব্যাটিং তো করতেই পারেন, আবার প্রয়োজনে বল হাতেও রাখতে পারেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
তার হাতে রয়েছে চোখ ধাঁধানো সব শট, স্ট্রাইক রোটেট করার দক্ষতা এবং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো ছক্কা মারার সামর্থ্য। আর এই বদলে যাওয়া সাইফকে দেখে মুগ্ধ কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনও। কোচ বলেন, “আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৬-৭ ম্যাচে ব্যর্থ হওয়ার পর ফিরে আসা অনেক কঠিন কাজ। এটা সাইফের ক্রেডিট।”
সাইফের ফিরে আসা নিয়ে যখন চারপাশে প্রশংসা, তখনই কোচ সালাহউদ্দিন মনে করিয়ে দেন বাস্তবতা। “আমি আগেও বলেছি, কাউকে তাড়াতাড়ি আকাশে তুলে ফেলবেন না, আবার তাড়াতাড়ি মাটিতে নামিয়েও দেবেন না।”
তার মতে, একজন ক্রিকেটারকে নিয়ে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তে না গিয়ে বরং সময় দিতে হবে। সাইফ সেটা পেয়েছেন এবং তার সদ্ব্যবহারও করেছেন।
পারফরম্যান্স বলছে অনেক কিছু
সিলেটে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে নামেন চার নম্বরে। আত্মবিশ্বাসী শুরু, মারকাটারি ব্যাটিং! সব মিলিয়ে ১৯ বলে ৩৬ রানের এক অপরাজিত ইনিংস। ইনিংসটিতে ছিল তিনটি বিশাল ছক্কা। আর বল হাতেও রেখেছেন সমান প্রভাব, দলকে এনে দিয়েছেন দুইটি মূল্যবান উইকেট।
ব্যাট-বল দুই বিভাগেই এই অবদান বলছে, সাইফ এখন আর কেবল সম্ভাবনার নাম নন, তিনি বাস্তবতার দাবিদার।
সৌদি থেকে বাংলাদেশের হয়ে লড়াই
সাইফের জন্ম ও বেড়ে ওঠা সৌদি আরবে, বাবা বাংলাদেশি, মা শ্রীলঙ্কান। কিন্তু ক্রিকেটের টান তাকে বাংলাদেশে টেনে আনে। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে দারুণ পারফর্ম করেন, বিশ্বকাপেও নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ যুব দলের অধিনায়ক হিসেবে।
সেই ছেলেটিই নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জাতীয় দলে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করছেন। আশেপাশে আছেন আস্থাশীল কোচ, নেতৃত্ব দিচ্ছেন আত্মবিশ্বাসী অধিনায়ক, পাশে আছেন উৎসাহদাতা সতীর্থরা। এত কিছুর মধ্যেও নিজেকে প্রমাণ করে টিকে থাকার লড়াইয়ে মূল কাজটা তারই করতে হবে।
রোহিত শর্মা: যাকে অনুসরণ করেন সাইফ
ক্রিকেটে সাইফের আদর্শ ভারতের তারকা ব্যাটার রোহিত শর্মা। রোহিত যেমন শুরু করেছিলেন সাত নম্বরে, পরে নিজেকে গড়েছেন মারকুটে ওপেনার হিসেবে; তেমনি সাইফের পথটা উল্টো! টেস্ট ওপেনার থেকে মিডল অর্ডারে নেমে হয়েছেন টি২০'র অলরাউন্ডার।
কিন্তু মিলটা অন্য জায়গায়; দুজনেই মারতে পারেন চোখ ধাঁধানো ছক্কা, চাপে থাকা ম্যাচে ঘুরিয়ে দিতে পারেন খেলার গতিপথ।
চার বছর পর ফিরে আসা, সামনে পা বাড়ানো
এই ফিরে আসা কেবল ফর্মে ফেরা নয়, এটা এক মানসিক রূপান্তর। কোচ সালাহউদ্দিন বলেন, “সাফল্য কতদিন ধরে করে যাচ্ছে এটা জরুরি। অনেকেই চেষ্টা করে। অনেকের ধৈর্য ৬ মাস, ১ বছর থাকে। ওর ৪ বছর ছিল।”
সাইফের এই ফিরে আসা নিয়ে কথা হচ্ছে, প্রশংসাও হচ্ছে। কিন্তু তার আসল চ্যালেঞ্জ এখন শুরু। ধারাবাহিকতা, টিম কম্বিনেশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, নিজের স্কিলকে ধার দিতে থাকা। এসবই বলে দেবে তিনি এই দলে কতটা জায়গা করে নিতে পারেন।
কোচের আস্থা, নিজের আত্মবিশ্বাস, আর দলের সমর্থন নিয়ে নতুন এই সাইফ হাসান—নিঃসন্দেহে দেখতে হবে, ধরে রাখতে পারেন কি না এই রূপান্তরের ধার।