শরিফুলের চোটে বাড়ে টেনশন, তবু সেঞ্চুরি ছুঁয়ে হাসলেন লিটন

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ: 2 ঘন্টা আগে আপডেট: 9 মিনিট আগে
শরিফুলের চোটে বাড়ে টেনশন, তবু সেঞ্চুরি ছুঁয়ে হাসলেন লিটন

শরিফুলের চোটে বাড়ে টেনশন, তবু সেঞ্চুরি ছুঁয়ে হাসলেন লিটন

শরিফুলের চোটে বাড়ে টেনশন, তবু সেঞ্চুরি ছুঁয়ে হাসলেন লিটন

ব্যাটিং বিপর্যয়ের ধাক্কায় যখন দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারাতে বসেছিল বাংলাদেশ, তখন এক প্রান্ত আগলে রেখে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন লিটন দাস। তবে দুর্দান্ত সেই ইনিংসের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তটি এসেছে সেঞ্চুরির ঠিক আগে। ৯৯ রানে পৌঁছানোর পর দীর্ঘ অপেক্ষা, শরিফুল ইসলামের এলবিডব্লিউ রিভিউ, এরপর চোট ও পানি পানের বিরতি সব মিলিয়ে প্রবল স্নায়ুচাপের মধ্য দিয়েই অবশেষে তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার।

শনিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনে বাংলাদেশের ইনিংসের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন লিটন। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১১৬ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। সেখান থেকে টেলএন্ডারদের সঙ্গে জুটি গড়ে দলকে ২৭৮ রানের লড়াকু সংগ্রহ এনে দেন তিনি। ১২৬ রানের ইনিংসটি ছিল ধৈর্য, আক্রমণ আর দায়িত্ববোধের অনন্য মিশেল।

সেঞ্চুরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েও এক পর্যায়ে যেন থমকে যেতে হয় লিটনকে। সাজিদ খানের বলে কাভার অঞ্চলে শট খেলে দুই রান নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু দ্বিতীয় রান আর পূর্ণ হয়নি। ফলে ৯৯ রানেই থেমে থাকতে হয় কিছু সময়ের জন্য। ঠিক এরপরই শরিফুল ইসলাম এলবিডব্লিউ আউট হলে রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। রিভিউয়ে বেঁচে যান শরিফুল। পরে তাঁর পায়ে টান ধরায় খেলা আবার বন্ধ থাকে কিছুক্ষণ। এর মাঝেই হয় ড্রিংকস বিরতি। পুরো ঘটনাপ্রবাহে সেঞ্চুরির অপেক্ষাটা আরও দীর্ঘ হয়ে ওঠে লিটনের জন্য।

দিনের খেলা শেষে সেই সময়ের মানসিক অবস্থার কথা জানাতে গিয়ে লিটন বলেন, ‘আমি অনেক টেনশনে ছিলাম বিশেষ করে যখন শরিফুলের পায়ে লেগেছে আরকি। আমি ওকে বারবার বলছিলাম যে সামনে খেলার জন্য কারণ ও তো অনেক লম্বা, কাজেই ব্যাক অব লেংথে গেলে এই বলটা পায়ে লাগার চান্স বেশি। কিন্তু ও খুবই ভালো সাপোর্ট দিয়েছে।’

নিচের সারির ব্যাটারদের নিয়ে দারুণ কার্যকর কিছু জুটি গড়েন লিটন। সপ্তম, অষ্টম ও নবম উইকেটে আসে যথাক্রমে ৬০, ৩৮ ও ৬৪ রান। বিশেষ করে শরিফুল ইসলামের সঙ্গে ৭৩ বলে ৬৪ রানের জুটিতে একাই ৫১ রান করেন তিনি, সেটিও মাত্র ৪৩ বলে। ইনিংসের এই অংশে দ্রুত রান তুলে দলকে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নিজের কাঁধেই তুলে নিয়েছিলেন লিটন।

সেঞ্চুরির কাছাকাছি পৌঁছানোর পর তাঁর রান আটকে দিতে বাউন্ডারিতে অতিরিক্ত ফিল্ডার মোতায়েন করে পাকিস্তান। কিন্তু পরিস্থিতি বুঝে শট নির্বাচন বদলে নেন লিটন। কোথায় রান পাওয়া সম্ভব, কোন লেন্থে আক্রমণ করা যাবে সেই পরিকল্পনা মেনেই এগিয়েছেন তিনি।

নিজের ব্যাটিং পরিকল্পনা নিয়ে লিটন বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছিলাম যে সামনের (লেন্থে) বলটা আমার জন্য রান করাটা কষ্টকর। আমিও চাচ্ছিলাম তারা ব্যাক অব লেংথে বল করুক যেটা আমি স্কোরিং অপরচুনিটি করতে পারি। এবং ওরা করেছে। আপনি যদি দেখেন পেস বোলিংয়ে মোস্ট অব রান আমার ব্যাক অব লেংথের বলে এসেছে।’