শাদাবের শতক ও দশম উইকেটের রেকর্ড জুটিতে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে পাকিস্তান

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ: 1 ঘন্টা আগে আপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
শাদাবের শতক ও দশম উইকেটের রেকর্ড জুটিতে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে পাকিস্তান

শাদাবের শতক ও দশম উইকেটের রেকর্ড জুটিতে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে পাকিস্তান

শাদাবের শতক ও দশম উইকেটের রেকর্ড জুটিতে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে পাকিস্তান

হারের দ্বারপ্রান্ত থেকে অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তন! নবম উইকেট পতন যখন পাকিস্তানের নিশ্চিত পরাজয়ের ঘণ্টা বাজাচ্ছিল, ঠিক তখনই ব্যাট হাতে মহাকাব্য লিখলেন অলরাউন্ডার শাদাব খান। নম্বর ১১ ব্যাটসম্যান হারিস রউফকে সঙ্গী করে গড়ে তুললেন ক্রিকেট ইতিহাসের এক ঐতিহাসিক জুটি। 

ইংল্যান্ডের ২৪১ রানের জবাবে পাকিস্তান যখন ১৫৪ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে দিশেহারা, তখন সেখান থেকে ৮৯ রানের অপরাজেয় শেষ উইকেট জুটিতে ভর করে ১ উইকেটের অবিস্মরণীয় জয় ছিনিয়ে নিয়েছে পাকিস্তান। এই জয়ের মাধ্যমে রান তাড়ায় দশম উইকেটে সর্বোচ্চ জুটির বিশ্বরেকর্ড গড়ার পাশাপাশি ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালও নিশ্চিত করল দলটি।

টুর্নামেন্টে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই ৯৬ বলে ১১৩ রানের জাদুকরী এক অপরাজিত ইনিংস উপহার দেন শাদাব খান। ম্যাচ শেষে হারিস রউফ ১৯ বলে ৭ রানে অপরাজিত থাকলেও জয়ের শেষ বাউন্ডারিটি আসে তাঁর ব্যাট থেকেই। পাকিস্তান ৪৭.১ ওভারে ৯ উইকেটে ২৪৩ রান তুলে কাঙ্ক্ষিত জয় পৌঁছে যায়।

এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শাহীন শাহ আফ্রিদির বিধ্বংসী বোলিংয়ের মুখে পড়ে ইংল্যান্ড। ৫২ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা ইংলিশদের টেনে তোলেন ওপেনার বেন ডাকেট। একপ্রান্ত আগলে রেখে ১১১ বলে ১০৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। পঞ্চম উইকেটে স্যাম কারানের (৪২) সাথে ৯৩ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেন তিনি।

তবে শাহীন আফ্রিদি ও রাজাউল্লার ধারাবাহিক আঘাতে ২০০ পেরোতেই ৯ উইকেট হারিয়ে বসে ইংল্যান্ড। শেষ উইকেটে গাস অ্যাটকিনসনের (৩৬*) কল্যাণে ৪৬.৪ ওভারে ২৪১ রান তুলে অলআউট হয় দলটি। পাকিস্তানের হয়ে শাহীন আফ্রিদি ৪৬ রানে ৪টি এবং রাজাউল্লা ৩৮ রানে ২ উইকেট শিকার করেন।

২৪২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ব্যাকফুটে চলে যায় পাকিস্তান। জেমি ওভারটনের তোপে মাত্র ৩১ রান তুলতেই বিদায় নেন দুই ওপেনার ফখর জামান (১০), সাইম আইয়ুব (৬) এবং তারকা ব্যাটার বাবর আজম। এরপর তরুণ সাাদ বেগ (৩২) কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও ইংল্যান্ডের স্পিনার লিয়াম ডসন ও উইল জ্যাকসের আঁটসাঁট বোলিংয়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান।

৩৪তম ওভারে ১৫৪ রানে ৯ উইকেট পড়ে গেলে ম্যাচটি ইংল্যান্ডের দিকেই হেলে পড়েছিল। কিন্তু সেখান থেকেই শুরু হয় শাদাবের লড়াই। টেলএন্ডার হারিস রউফকে আগলে রেখে একাই স্ট্রাইক সামলানোর কৌশল নেন শাদাব। ইংলিশ পেসারদের বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে প্রতিহত করে একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকাতে থাকেন তিনি।

ম্যাচে রোমাঞ্চের তখনও বাকি ছিল। জয়ের জন্য যখন পাকিস্তানের প্রয়োজন ২১ রান, তখন গাস অ্যাটকিনসনের বলে আম্পায়ার শাদাবকে এলবিডব্লিউ আউট দেন। শাদাব প্যাভিলিয়নের দিকে হাঁটা শুরু করলেও শেষ মুহূর্তে রিভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আর তাতেই দেখা যায় বল ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগেছিল! নাটকীয়ভাবে বেঁচে গিয়ে শাদাব ১২টি চার ও ১টি ছক্কায় পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে শতক। অবশেষে ৪৮তম ওভারে হারিস রউফ হেনরি ক্রোকোম্বকে সোজা বাউন্ডারি মেরে পাকিস্তানের অবিশ্বাস্য জয়টি নিশ্চিত করেন।

টুর্নামেন্টে এটি ইংল্যান্ডের টানা তৃতীয় পরাজয়। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ৮৭ রানে হারার পর, দ্বিতীয় ম্যাচে অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের ১১৪ বলে দ্বিশতক সত্ত্বেও শ্রীলঙ্কার রেকর্ড রান তাড়ার কাছে হেরেছিল তারা।