অস্ট্রেলিয়ার সফর, জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের পুনর্জাগরণের সূচনা

৯৭ প্রতিবেদক: মোহাম্মদ আফজল

প্রকাশ: 1 ঘন্টা আগে আপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
অস্ট্রেলিয়ার সফর, জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের পুনর্জাগরণের সূচনা

অস্ট্রেলিয়ার সফর, জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের পুনর্জাগরণের সূচনা

অস্ট্রেলিয়ার সফর, জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের পুনর্জাগরণের সূচনা

একসময় বিশ্ব ক্রিকেটে জিম্বাবুয়ে ছিল এক উদীয়মান শক্তির নাম। অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার, গ্রান্ট ফ্লাওয়ার ও হিথ স্ট্রিকদের হাত ধরে দলটি শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করেনি, বরং বড় বড় দলকে হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে। ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে “ফ্লাওয়ার ব্রাদার্স” ছিল এক বিশেষ আকর্ষণ, আর স্ট্রিক ছিলেন এমন এক পেসার, যাকে সমীহ করত বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানরাও।

পরবর্তীতে ব্রেন্ডন টেইলর, হ্যামিল্টন মাসাকাদজা, এল্টন চিগুমবুরা, প্রসপার উতসেয়া, রেমন্ড প্রাইস ও তাতেন্ডা তাইবুদের মতো প্রতিভাবান ক্রিকেটাররা সেই ধারাকে ধরে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। মাঝেমধ্যে তারা পরাশক্তিদের কাঁপিয়েছেনও। কিন্তু ধারাবাহিকতা আর কাঠামোগত স্থিতিশীলতার অভাবে সেই সম্ভাবনা পূর্ণতা পায়নি।

জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের পতনের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল অভ্যন্তরীণ সংকট। বর্ণ বৈষম্য, প্রশাসনিক অস্থিরতা এবং সরকারের সঙ্গে দ্বন্দ্ব ক্রিকেট কাঠামোকে দুর্বল করে দেয়। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের দলত্যাগ এবং অবকাঠামোগত পিছিয়ে পড়া সব মিলিয়ে একসময় টেস্ট মর্যাদাও হারাতে হয় দলটিকে। দীর্ঘ অন্ধকার সময় পার করে তারা আবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিরেছে ঠিকই, কিন্তু আগের সেই প্রতাপ এখন আর নেই।

এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার জিম্বাবুয়ে সফর নিছক একটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ নয়, এটি হতে পারে একটি প্রতীকী মোড় পরিবর্তনের সূচনা। প্রায় আট বছর পর ক্রিকেটের পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়া জিম্বাবুয়ের মাটিতে সিরিজ খেলতে যাচ্ছে। হারারে স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিতব্য তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটি তাই শুধু ফলাফলের দিক থেকে নয়, মানসিক ও কাঠামোগত দিক থেকেও জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তাই জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিভেমোর মাকোনি বলেছেন, “অস্ট্রেলিয়াকে আবার জিম্বাবুয়েতে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত। এটি একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজ হবে বলে আশা করছি। এমন সিরিজ আমাদের দলের উন্নতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট উপভোগ করার এটি দারুণ সুযোগ। আমরা আশা করছি হারারে স্পোর্টস ক্লাবে দর্শকদের শক্ত সমর্থন পাব।”

বর্তমান জিম্বাবুয়ে দলে সিকান্দার রাজা যেমন আছেন, যিনি ব্যাট ও বল হাতে বিশ্ব ক্রিকেটে নিজের পরিচয় তুলে ধরছেন, তেমনি নতুন প্রজন্মের আরও কিছু ক্রিকেটার উঠে আসার অপেক্ষায়। কিন্তু তাদের প্রয়োজন বড় দলের বিপক্ষে নিয়মিত খেলার সুযোগ, যা আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য।

অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে সিরিজ আয়োজনের মাধ্যমে জিম্বাবুয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পেতে পারে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক মনোযোগ বাড়বে, যা স্পনসরশিপ ও আর্থিক স্থিতিশীলতায় সহায়তা করবে। দ্বিতীয়ত, ঘরের মাঠে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়া তরুণ ক্রিকেটারদের মানসিক দৃঢ়তা বাড়াবে। তৃতীয়ত, ২০২৭ বিশ্বকাপ সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুত করার বাস্তব সুযোগ তৈরি হবে।

তবে শুধু একটি সিরিজ দিয়ে সোনালি অতীত ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়, এটা বাস্তবতা। এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, শক্তিশালী ঘরোয়া কাঠামো, সুশাসন এবং নিয়মিত আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ। অস্ট্রেলিয়ার এই সফর সেই দীর্ঘ যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারে, যদি জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ড এই সুযোগকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে।

সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, অস্ট্রেলিয়ার এই সফর জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের জন্য এক নতুন আশার আলো। এটি হয়তো সঙ্গে সঙ্গে অতীতের গৌরব ফিরিয়ে আনবে না, কিন্তু সেই গৌরব ফেরানোর পথ তৈরি করতে পারে। আর সেই পথেই হয়তো আবার একদিন জিম্বাবুয়ে দাঁড়াবে বিশ্ব ক্রিকেটের সম্মানের আসনে।