তৃতীয় ওয়ানডেতে শেষ বলের এলবিডব্লিউ রিভিউ নিয়ে পাকিস্তানের অভিযোগ

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ: 1 ঘন্টা আগে আপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
তৃতীয় ওয়ানডেতে শেষ বলের এলবিডব্লিউ রিভিউ নিয়ে পাকিস্তানের অভিযোগ

তৃতীয় ওয়ানডেতে শেষ বলের এলবিডব্লিউ রিভিউ নিয়ে পাকিস্তানের অভিযোগ

তৃতীয় ওয়ানডেতে শেষ বলের এলবিডব্লিউ রিভিউ নিয়ে পাকিস্তানের অভিযোগ

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) মিরপুরে তৃতীয় ওয়ানডেতে ঘটে যাওয়া এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে ম্যাচ রেফারি নিয়ামুর রশিদের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, ম্যাচের শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশের নেওয়া এলবিডব্লিউ রিভিউটি নিয়ম মেনে নেওয়া হয়নি এবং মাঠের বড় পর্দায় রিপ্লে দেখানোর পরই সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ইএসপিএনক্রিকইনফোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্টের বিশ্বাস ডেলিভারিটির রিপ্লে বড় স্ক্রিনে দেখানোর পরই বাংলাদেশ রিভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের দাবি, এতে স্বাভাবিক প্রটোকল অনুসরণ করা হয়নি।

ঘটনাটি ঘটে ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে। তখন পাকিস্তানের জয়ের জন্য দুই বলে প্রয়োজন ছিল ১২ রান। রিশাদ হোসেন লেগ স্টাম্পে একটি ফ্লাইটেড ডেলিভারি করেন, যা স্পিন করে লেগ সাইড দিয়ে সরে যায়। স্ট্রাইকে থাকা শাহীন শাহ আফ্রিদির পাশ দিয়ে বলটি চলে গেলে অন-ফিল্ড আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা সেটিকে ওয়াইড ঘোষণা করেন।

তবে সংক্ষিপ্ত আলোচনার পর বাংলাদেশ এলবিডব্লিউর জন্য রিভিউ নেয়। খালি চোখে দেখে মনে হচ্ছিল বলটি আফ্রিদির পায়ে বা শরীরের কোনো অংশে লাগেনি, তাই সেই মুহূর্তে রিভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্তটি বিস্ময় তৈরি করে।

সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের সামনে রিপ্লে দেখানোর আগেই রিভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানাতে হয়, যাতে রিপ্লে দেখে সিদ্ধান্ত প্রভাবিত না হয়। কিন্তু পাকিস্তানের দাবি, স্টেডিয়ামের বড় স্ক্রিনে বলটি ব্যাটের পাশ দিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখানোর পরই বাংলাদেশ রিভিউ নেয়, যা তাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।

এছাড়া পাকিস্তানের আরেকটি অভিযোগ, রিভিউ নেওয়ার জন্য নির্ধারিত ১৫ সেকেন্ডের সময়সীমা পেরিয়ে গিয়েছিল কি না সেটিও পরিষ্কার নয়। সম্প্রচারে কোনো টাইমার দেখানো হয়নি, ফলে সময়ের মধ্যে রিভিউ নেওয়া হয়েছিল কি না তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

ডিআরএসে যাওয়ার পর শাহীন আফ্রিদির বিরক্তির কারণও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। হক-আই প্রযুক্তিতে দেখা যায়, বলটি ব্যাটের নিচের অংশ স্পর্শ করে গেছে। এর ফলে সেটি আর ওয়াইড হিসেবে গণ্য হওয়ার সুযোগ ছিল না।

বাংলাদেশ এলবিডব্লিউ রিভিউটি হারালেও আম্পায়ারের ওয়াইড সিদ্ধান্ত বাতিল হয়ে যায়। ফলে পাকিস্তানের সামনে সমীকরণ দাঁড়ায় শেষ বলে ১২ রান।

শেষ বলটি খেলতে গিয়ে আফ্রিদি স্টাম্পড হয়ে যান। আউট হওয়ার পর হতাশায় ব্যাট ঘুরিয়ে স্টাম্পের ওপর আঘাতও করেন তিনি। এর মধ্য দিয়েই ১১ রানের জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ এবং ২–১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় স্বাগতিকরা।

এ ঘটনায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপ আশা করছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকারোক্তি তারা চাইছে যাতে বলা হবে যে সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো ভুল হয়েছিল।

এদিকে টানা দুই ম্যাচে বিতর্কিত পরিস্থিতিতে পড়ার অভিযোগ তুলেছে পাকিস্তান। দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও একটি ঘটনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল তারা। সেই ম্যাচে বল ফেরত দিতে গিয়ে ক্রিজের বাইরে চলে আসায় রান আউট হন সালমান আলি আগা।

ঘটনার সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে ব্যাট ও গ্লাভস ছুঁড়ে ফেলেন আগা। এর ফলে আইসিসির আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে তিনি একটি ডিমেরিট পয়েন্ট এবং ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ জরিমানা পান। একই ঘটনায় বাংলাদেশের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজকেও ম্যাচ ফির ২০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছিল।