পিচের গল্পকার হেমিং, কৌশলের কারিগর সিমন্স
৯৭ প্রতিবেদক: মোহাম্মদ আফজল
প্রকাশ: 3 ঘন্টা আগেআপডেট: 24 মিনিট আগে
পিচের গল্পকার হেমিং, কৌশলের কারিগর সিমন্স
পিচের গল্পকার হেমিং, কৌশলের কারিগর সিমন্স
টনি হেমিং হাঁটছিলেন আপন গতিতে। স্টেডিয়ামের শহীদ আবু তুরাব স্ট্যান্ডের পাশ দিয়ে পেরিয়ে যাচ্ছিলেন স্টেডিয়ামের দ্বিতীয় গ্রাউন্ডের উদ্দ্যেশ্যে। হঠাৎ থেমে গেলেন, বাংলাদেশ দলের কোচ ফিল সিমন্স তাকে কাছে ডাকলেন। সেন্ট্রাল উইকেট থেকে ছুটে এলেন সিমন্স, হেমিং এগিয়ে এলেন ধীরে ধীরে। দুজনে মুখোমুখি হলেন, শুরু হলো এক নিঃশব্দ আলাপ। কথার ভাষা হয়তো জানা গেল না, কিন্তু ইঙ্গিত বুঝতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার পড়ে না। পিচের গল্প শুরু হয়েছে।
কাল সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচের ফলাফল হয়তো নির্ধারিত হবে ব্যাট-বলের লড়াইয়ে, কিন্তু সেই লড়াইয়ের মঞ্চ প্রস্তুত করছেন এই দুজন! একজন কিউরেটর, অন্যজন প্রধান কোচ।
টনি হেমিং, অস্ট্রেলিয়ান এই কিউরেটর বাংলাদেশের ঘরের মাঠে এখন নিয়মিত মুখ। তার পিচে কখনো রানবন্যা, কখনো টার্নের খেলা, আবার কখনো ছন্দপতনের গল্প। হেমিং জানেন, প্রতিপক্ষ কে, এবং কী ধাঁচের কন্ডিশন চাই দলের স্বার্থে, তবে তার কাজটা শুধু দলের দিকে তাকিয়ে নয়, ব্যালান্স রাখা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেরও শর্ত।
অন্যদিকে, ফিল সিমন্স জানেন, প্রতিটি ম্যাচের আগে প্রতিটি ধূলিকণাও গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে যখন বিশ্বকাপ বা সুপার লিগের পয়েন্ট, বা মর্যাদার ম্যাচ সামনে থাকে। তাই তো পিচের উপর চোখ রেখে, ছুটে আসা, কোনটা শুকনো, কোনটা ঘাসে ঢাকা, কোথায় প্রথমে ব্যাটিং করলে সুবিধা, বা কোথায় শিশির ফ্যাক্টর কাজ করবে।
এই ম্যাচেও তাই কৌশলটা স্পষ্ট: যদি পিচ স্লো হয়, স্পিনেই বাজিমাত করতে হবে। আর যদি শুরুতে পেসারদের জন্য কিছু থাকে, তবে আগে বল করে চাপে ফেলাই হবে লক্ষ্য।
পিচের এই দিকটা ঠিক করা হয়েছে নিখুঁতভাবে, তাই হয়তো দিনের শেষে হেমিং-সিমন্সের সেই মৌন আলাপই বলে দেবে ম্যাচের মূল ছকটা কতটা সফল হলো।
মাঠের গল্প শুরু হয় মাঠের বাইরেই। সেই গল্পে টনি হেমিং পটভূমি আঁকেন, আর ফিল সিমন্স লিখে দেন চরিত্রের কৌশল। কাল তাদের দুইজনের গল্প কতটা সফল হয়, তার উত্তর দেবে ২২ গজ।