বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে চোখ মুশতাকের
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে চোখ মুশতাকের
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে চোখ মুশতাকের
লাল বলের ক্রিকেটে বিদেশের মাটিতে একসময় একটি জয় পাওয়া যেখানে ছিল আকাশকুসুম স্বপ্ন, সেই চেনা বাস্তবতাকে পেছনে ফেলে নাজমুল হোসেন শান্তর দল এখন বিশ্বমঞ্চে বিশ্বজয়ের নতুন সমীকরণ মিলাচ্ছে। রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তান বধ কিংবা ক্যাঙ্গারুর দেশে ঐতিহাসিক অর্জনের রেশ ধরে টেস্ট ক্রিকেটে দারুণ এক বাংলাদেশ আত্মপ্রকাশ করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ের এই চোখধাঁধানো উন্নতি দলের প্রতিটি সদস্যকে যেমন চাঙ্গা করেছে, তেমনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা এখন বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে চোখ রাখছেন। বাংলাদেশের সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটারদের পাশাপাশি টিম ম্যানেজমেন্টের মানসিকতায় এসেছে আমূল পরিবর্তন, যার প্রমাণ মিলেছে দলের পাকিস্তানি স্পিন কোচ মুশতাক আহমেদের কণ্ঠে।
চলমান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে বাংলাদেশ দল তিন সিরিজের অধীনে মোট ছয়টি ম্যাচে অংশ নিয়ে একটিতে জয়ের স্বাদ পেয়েছে এবং আরেকটি ড্র করতে সমর্থ হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, মোট ৪০ পয়েন্টের পাশাপাশি ৫৫.৫৬ শতাংশ পয়েন্ট অর্জন করে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় চতুর্থ স্থানে লড়াইয়ে টিকে রয়েছে শান্ত বাহিনী। চূড়ান্ত লড়াই বা ফাইনালের টিকিট সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করতে হলে পয়েন্ট তালিকার প্রথম দুটি স্থানের যেকোনো একটিতে অবস্থান তৈরি করতে হবে।
চূড়ান্ত পর্বে খেলার সমীকরণ মেলাতে শান্তদের সামনে এখনও তিনটি পূর্ণাঙ্গ টেস্ট সিরিজ বাকি রয়েছে।
ঘরের মাঠে ক্যারিবিয়ান ও ইংলিশদের মুখোমুখি হওয়া ছাড়াও প্রোটিয়াদের ডেরায় সফর মিলিয়ে মোট ছয়টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ দল। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের হিসেব অনুযায়ী, এই ছয় লড়াইয়ের অন্তত চারটিতে জয় নিশ্চিত করতে পারলে ফাইনালের মঞ্চে পৌঁছানোর সুযোগ বহুলাংশে উজ্জ্বল হবে, এমনকি অতিরিক্ত হিসেবে একটি ম্যাচ ড্র করতে পারলে সমীকরণ পুরোপুরি নিজেদের পক্ষে চলে আসবে।
দলের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং পরিসংখ্যানিক সম্ভাবনা বিবেচনা করে টাইগারদের নিয়ে উঁচুতে ওড়ার বিশাল স্বপ্ন বুনছেন দলের স্পিন প্রশিক্ষক মুশতাক আহমেদ। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার প্রবল সম্ভাবনার কথা ব্যক্ত করতে গিয়ে পাকিস্তান দলের সাবেক এই প্রথিতযশা লেগ স্পিনার বেশ ইতিবাচক সুরে বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ! (টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল) কেন নয়! আমরা এখন খুব ভালো অবস্থানে আছি। তাই আমরা যদি ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি ও বিশ্বাস ধরে রাখি, তবে ইনশাআল্লাহ পুরো পথ পাড়ি দেওয়ার এটাই উপযুক্ত সময়।’
শুধুমাত্র কৌশল আর মাঠের দক্ষতাই যে ম্যাচ জয়ের শেষ কথা নয়, সেটি মনে করিয়ে দিয়ে ক্রিকেটারদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের ওপর বিশেষ নজর দিয়েছেন এই কোচ। তার ভাষ্যমতে, ব্যর্থ হওয়ার মানসিক ভয় মনের ভেতর পুষে রেখে আন্তর্জাতিক স্তরে কোনো পরাশক্তিকে মোকাবিলা করা কিংবা ম্যাচ ছিনিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব।
খেলোয়াড়দের নিবেদিতপ্রাণ মনোভাব ও মাঠের লড়াইয়ে সাহসী আচরণের প্রশংসা করে মুশতাক আহমেদ স্পষ্ট ভাষায় জানান যে হারের শঙ্কা কাটিয়ে উঠতে পারলে যেকোনো দলকেই ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়া সম্ভব। দলের এই ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে তিনি ভবিষ্যৎ বাণী করে বলেন, ‘ছেলেদের নিয়ে আমি খুবই খুশি। একঝাঁক এমন ছেলেকে নিয়ে আমি কাজ করছি, যারা যে কোনও দলের বিপক্ষে জেতার চেষ্টা করে। ইনশাআল্লাহ, আপনারা দেখতে পাবেন, যদি একই মানসিকতা ধরে রেখে ও হারের ভয় না করে এগোতে পারি, তাহলে যে কোনও দলকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবো।’
