পিএসএলে অস্ট্রেলিয়ান তারকাদের অংশগ্রহণ নিয়ে শঙ্কা
পিএসএলে অস্ট্রেলিয়ান তারকাদের অংশগ্রহণ নিয়ে শঙ্কা
পিএসএলে অস্ট্রেলিয়ান তারকাদের অংশগ্রহণ নিয়ে শঙ্কা
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আর নিরাপত্তা শঙ্কার মধ্যে শুরু হতে যাচ্ছে পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) ২০২৬। পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা মিলিয়ে এবারের আসরের আয়োজন নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং আকাশপথে বিধিনিষেধের কারণে খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্টদের যাতায়াতে বড় ধরনের জটিলতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার একাধিক তারকা ক্রিকেটারের অংশগ্রহণ ঘিরে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। স্টিভ স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার, মার্নাস লাবুশেন ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের মতো ক্রিকেটারদের এবারের আসরে খেলার কথা রয়েছে। এছাড়া কোচিং স্টাফ হিসেবেও টিম পেইন ও জেসন গিলেসপির মতো অস্ট্রেলিয়ানদের সম্পৃক্ততা রয়েছে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজিতে।
আগামী ২৬ মার্চ শুরু হওয়ার কথা পিএসএলের ১১তম আসরের, যা ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) শুরুর মাত্র দুই দিন আগে। ফলে খেলোয়াড়দের সময়সূচি ও ভ্রমণ পরিকল্পনা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বৈশ্বিক ক্রীড়া সূচিতে প্রভাব ফেলেছে, ফ্লাইট বাতিল ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অ্যাথলেটদের চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। পুরো পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং প্রয়োজনে বিকল্প ব্যবস্থাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে কিছু ক্রিকেটার নিজেদের অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে ভাবছেন কিংবা ভ্রমণ পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনছেন। অস্ট্রেলিয়া সরকারও তাদের খেলোয়াড়দের ওই অঞ্চলের দুটি সংঘাতপূর্ণ এলাকা সম্পর্কে সতর্ক করেছে। পাকিস্তানে সফরের অনুমতি থাকলেও পেশোয়ারে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যেটিকে ‘ডু নট ট্রাভেল’ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই সতর্কতা নতুন করে সমস্যার সৃষ্টি করেছে, কারণ ২৮ মার্চ প্রথমবারের মতো পিএসএলের একটি ম্যাচ আয়োজনের কথা রয়েছে পেশোয়ারের ইমরান খান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। পেশোয়ার জালমি ও রাওয়ালপিন্ডির মধ্যকার ম্যাচটি এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে, বিশেষ করে দুই দলেই অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার থাকায়। জালমির হয়ে খেলেন অ্যারন হার্ডি, আর রাওয়ালপিন্ডির হয়ে খেলার কথা রয়েছে জেক ফ্রেজার-ম্যাকগার্কের।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ফ্র্যাঞ্চাইজি ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আশ্বাস দিয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার জন্য ব্যক্তিগত উড়োজাহাজের ব্যবস্থাও রাখা হবে বলে জানিয়েছে বোর্ডের একটি সূত্র।
২০২৬ মৌসুমটি পিএসএলের ১১তম আসর এবং এবারই প্রথমবারের মতো আট দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টটি। নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি যুক্ত হওয়ায় রাওয়ালপিন্ডি ও হায়দরাবাদসহ কয়েকটি শহর যুক্ত হয়েছে প্রতিযোগিতায়। তবে লিগের এই সম্প্রসারণের মধ্যেই চলমান ভূরাজনৈতিক সংকট বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে আয়োজকদের জন্য।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে ২৬ মার্চ লাহোরে মুখোমুখি হবে লাহোর কালান্দার্স ও হায়দরাবাদ হিউস্টন কিংসম্যান। পরদিন একই ভেন্যুতে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরস খেলবে করাচি কিংসের বিপক্ষে। মোট ৪৪ ম্যাচের এই আসর চলবে ৩ মে পর্যন্ত। লাহোর, করাচি, মুলতান, রাওয়ালপিন্ডি, ফয়সালাবাদ ও পেশোয়ার এই ছয় শহরে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচগুলো, যেখানে ফয়সালাবাদ ও পেশোয়ার প্রথমবারের মতো পিএসএলের ম্যাচ আয়োজন করবে।
এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে হায়দরাবাদ কিংসম্যান, ইসলামাবাদ ইউনাইটেড, করাচি কিংস, লাহোর কালান্দার্স, মুলতান সুলতানস, পেশোয়ার জালমি, কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরস এবং রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজ।
