ওয়াংখেড়েতে ক্যারিবীয় ঝড়, থামল জিম্বাবুয়ের স্বপ্নযাত্রা

৯৭ প্রতিবেদক: নাজিফা তাসনিম

প্রকাশ: 3 ঘন্টা আগে আপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
ওয়াংখেড়েতে ক্যারিবীয় ঝড়, থামল জিম্বাবুয়ের স্বপ্নযাত্রা

ওয়াংখেড়েতে ক্যারিবীয় ঝড়, থামল জিম্বাবুয়ের স্বপ্নযাত্রা

ওয়াংখেড়েতে ক্যারিবীয় ঝড়, থামল জিম্বাবুয়ের স্বপ্নযাত্রা

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের স্বপ্নযাত্রায় বিরতি টানল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সোমবার মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে ক্যারিবীয় ব্যাটারদের দাপটে বড় ব্যবধানে হেরে যায় আফ্রিকান দলটি।

শিমরন হেটমায়ার ও রোভম্যান পাওয়েলের দুর্দান্ত অর্ধশতকে ভর করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৬ উইকেটে তোলে ২৫৪ রান। এটি চলতি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর। জবাবে জিম্বাবুয়ে গুটিয়ে যায় ১৪৭ রানে। ফলে ১০৭ রানের বিশাল জয় পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই আসরে রান ব্যবধানে এটিই তাদের সবচেয়ে বড় জয়। অধিনায়ক শাই হোপের দল টানা পাঁচ ম্যাচ জিতে আত্মবিশ্বাসে উজ্জ্বল।

সুপার এইটের এই ম্যাচে জিম্বাবুয়ে মাঠে নামে দুর্দান্ত ফর্ম নিয়ে। গ্রুপ পর্বে তারা অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে প্রথম চার ম্যাচে ছিল অপরাজিত। টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে পাওয়ারপ্লেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫৫/২ এ আটকে রাখলেও পরে আর চাপে রাখতে পারেনি।

হেটমায়ার শুরুতেই দুটি জীবন পান, যার একটি ছিল মাত্র ৯ রানে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অধিনায়ক সিকান্দার রাজাকে ছক্কা মেরে মাত্র ১৯ বলে পূর্ণ করেন অর্ধশতক। এটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কোনো ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটারের দ্রুততম ফিফটি এবং এই আসরের যৌথ দ্রুততম। ৩৪ বলে ৮৫ রানের ঝড়ো ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৭টি ছক্কা। শেষ পর্যন্ত গ্রেম ক্রেমারের বলে বাউন্ডারিতে ব্রায়ান বেনেটের হাতে ধরা পড়েন তিনি।

অন্য প্রান্তে রোভম্যান পাওয়েল ২৯ বলে অর্ধশতক তুলে নিয়ে ৫৯ রান করেন। হেটমায়ার-পাওয়েলের জুটিতে আসে এ আসরের যৌথ দ্রুততম ১০০ রানের পার্টনারশিপ। ১৩ ওভারের মধ্যেই দল পৌঁছে যায় ১৫০ রানে। শেষ পর্যন্ত ১৯টি ছক্কা ও ১৬টি চারের সাহায্যে ২৫০ পেরোনো প্রথম দল হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

২৫৫ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। প্রথম তিন ওভারেই স্কোরবোর্ডে ২০/৩। ম্যাথিউ ফোর্ড ফেরান তাদিওয়ানাশে মারুমানিকে। পরের বলেই আকিল হোসেইন বোল্ড করেন ব্রায়ান বেনেটকে যিনি এই টুর্নামেন্টে প্রথমবার আউট হন।

ডিওন মায়ার্স (২৮) ও সিকান্দার রাজা (২৭) কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। শেষদিকে ব্র্যাড ইভান্স লড়াই চালিয়ে যান। ২১ বলে ৪৩ রানের ঝড়ো ইনিংসে তিনি মারেন ৫টি ছক্কা ও ২টি চার। রিচার্ড এনগারাভার সঙ্গে তার ৪৪ রানের জুটি ছিল জিম্বাবুয়ের ইনিংসে সর্বোচ্চ এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ দশম উইকেট জুটি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁহাতি স্পিনারদের বিপক্ষে বিশেষভাবে ভুগেছে জিম্বাবুয়ে। গুদাকেশ মোতি নেন ৪ উইকেটে ২৮ রান, আর আকিল হোসেইনের ঝুলিতে যায় ৩ উইকেটে ২৮ রান। তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়েই ভেঙে পড়ে জিম্বাবুয়ের প্রতিরোধ।