স্ট্রাইক রেটের চ্যালেঞ্জে বাবর, খোলামেলা আলোচনার পরামর্শ ডু প্লেসির

৯৭ প্রতিবেদক: মোহাম্মদ আফজল

প্রকাশ: 5 ঘন্টা আগে আপডেট: 6 মিনিট আগে
স্ট্রাইক রেটের চ্যালেঞ্জে বাবর, খোলামেলা আলোচনার পরামর্শ ডু প্লেসির

স্ট্রাইক রেটের চ্যালেঞ্জে বাবর, খোলামেলা আলোচনার পরামর্শ ডু প্লেসির

স্ট্রাইক রেটের চ্যালেঞ্জে বাবর, খোলামেলা আলোচনার পরামর্শ ডু প্লেসির

চলতি টি-২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ব্যাটার বাবর আজম ৫ ম্যাচের তিন ইনিংসে রান করেছেন মাত্র ৬৬। যেখানে স্ট্রাইকরেট মাত্র ১১৫ কিছু বেশি। গড়টাও আরো নাজুক মাত্র ২২ ঘরে। আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের অধিকারী এই ব্যাটারের রানখরা নিয়ে কথা বলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটার ফাফ ডু প্লেসি।

ক্রিকেট ওয়েবসাইট ESPNcricinfo–র ‘টাইম আউট’ অনুষ্ঠানে নিজের বিশ্লেষণ তুলে ধরেন ফাফ ডু প্লেসি। তার বক্তব্যে ছিল সময়ের পরিবর্তনের কথা, ছিল টি-২০ ক্রিকেটের নতুন চাহিদার প্রসঙ্গ।

তিনি বলেন,“ক্যারিয়ারের বিভিন্ন পর্যায়েই গ্রেট ক্রিকেটারদের ক্যারিয়ার নানাভাবে বিবর্তিত হয়। আমরা জানি, বাবর অনেক বছর ধরেই বিশ্বের সেরা ক্রিকেটারদের একজন। তবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট অনেক দ্রুত এগিয়ে গেছে স্ট্রাইক রেটের দিক থেকে এবং স্ট্রাইক রেটের ক্ষেত্রে সে কিছুটা পেছনে পড়ে রয়েছে।”

ডু প্লেসির মতে, বর্তমান টি-২০ ক্রিকেটে রান করার ধরন বদলে গেছে। ইনিংসের শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করতে না পারলে দল পিছিয়ে পড়ে। সেই বাস্তবতায় বাবরের ব্যাটিং পদ্ধতি নতুন করে ভাবার দাবি রাখে বলেই ইঙ্গিত দেন তিনি।

তার ভাষায়,“আপনি যদি মাইক হেসন হয়ে থাকেন, আপনি চেষ্টা করছেন তাকে খেলাটায় কাজে লাগানোর সেরা পথ খুঁজতে। উইকেট যদি ‘ট্রিকি’ হয়, সেখানে কেউ ১২০-১৩০ স্ট্রাইক রেটে খেলতে পারে। হেসন হয়তো ভাবছেন, ‘বাবরের সেরাটা কীভাবে বের করে আনতে পারি!’ ১২০-১৩০ স্ট্রাইক রেট থেকে অনেকটা এগিয়ে গেছে খেলাটি। প্রথম ৬ ওভারে তো ১৬০-১৯০ বা ২০০ এর বেশি স্ট্রাইক রেট লাগে।”

তবে সব কন্ডিশন এক নয় বলেও মনে করিয়ে দেন তিনি। বিশেষ ধরনের উইকেটে এখনও কার্যকর হতে পারেন বাবর, যদি তাকে সঠিক ভূমিকায় ব্যবহার করা যায়।

ডু প্লেসি বলেন, “এই ভেন্যুগুলিতে ও সুনির্দিষ্ট কন্ডিশনে, যেখানে অনেক স্পিন ধরে, সেখানে মিডল অর্ডারে তার মতো একজন ব্যাটার অনেক কিছু যোগ করতে পারে দলে এবং ইনিংসের হাল ধরতে পারে।”

সমাধানের জায়গাটা তিনি দেখছেন কোচের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায়। পরিসংখ্যান সামনে রেখে খোলামেলা কথা বলাই হতে পারে পরিবর্তনের শুরু।

তার কথায়, “সব আলোচনার শুরুটা হয় সততা দিয়ে। যে কোনো আলোচনার মূল ভিত্তি সেটিই। যখন আলোচনায় সৎ থাকা যায়, এরপর সবকিছুই মসৃণভাবে এগিয়ে যায়। কিন্তু যদি কেউ আশেপাশে ঘোরাঘুরি করে এবং কোচ বা অধিনায়ক হিসেবে সত্যিটা না বলে, তাহলে একটি গর্ত খোঁড়া হয়ে যায়, যেখানে সেই ক্রিকেটার পতিত হয়। কাজেই আলোচনার ধরন সবসময় গুরুত্বপূর্ণ।”

আরও যোগ করেন, “কোচকে বলতে হবে, ‘শোনো, এই হলো পরিসংখ্যান। তোমার সংখ্যাগুলি এরকমই বলছে। খেলাটি এখন এই জায়গায় আছে। এই বিশ্বকাপে বা টুর্নামেন্টে সফল হতে হলে এই জায়গাগুলিতে আমরা সেরা হতে চাই। কিংবা এই জায়গাগুলোয় আমরা দুর্বল, যেটা আমাদের ঠিকঠাক করতে হবে।’ একজন ক্রিকেটারের সামনে যখন সেই আলোচনা শুরু হয়, তখন তার পক্ষে বলা কঠিন যে, ‘আপনার সঙ্গে একমত নই।’ এরপর ওই ক্রিকেটারের সামনে দুটি পথই খোলা থাকে, হয় বড় আকারের গন্ডগোল পাকানো, অথবা বাস্তবতা মেনে নিয়ে নিজের উন্নতি করা।”

বাবর আজমের সামর্থ্য নিয়ে সংশয় নেই কারও। কিন্তু সময়ের দাবি মেটাতে হলে বদল আনতেই হবে। টি-২০ ক্রিকেটের দ্রুতগতির এই সময়ে নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ পাকিস্তানের এই ব্যাটারের সামনে।