যাদের কাঁধে যাচ্ছে আগামীর লাল-সবুজের ভার
97 Repoter: 97admin
Publish: messages.not_available Update: 1 second ago-
1
Masoods Century Fails to Save Pakistan as West Indies Take 155-Run Lead
-
2
Kohli and Rohit should play the 2027 World Cup, says Zaheer Abbas
-
3
Ireland announce ODI squad for Afghanistan series, Jay Mundra earns maiden call-up
-
4
Ryan ten Doeschate Steps Down as Indias Assistant Coach After England Tour
-
5
Fayez Ullah Sihab Becomes the First Expatriate Bangladeshi to Play for the Qatar National Cricket Team
যাদের কাঁধে যাচ্ছে আগামীর লাল-সবুজের ভার
যাদের কাঁধে যাচ্ছে আগামীর লাল-সবুজের ভার
কি ক্রিকেট, কি ফুটবল! বয়সভিত্তিক দল ও পাইপলাইন যেন একই সুতোয় বোনা একটি মালা। কেননা বয়সভিত্তিক দল চৌকস হলেই কেবল একটি শক্তিশালী পাইপলাইন মেলে। আর এই পাইপলাইন থেকেই বেরিয়ে আসে আগামীর নেতৃস্থানীয় একেকজন খেলোয়াড়। যেমন উদাহরণ হিসেবে দাঁড় করানো যায় আজকের সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাহমুদুল্লাহসহ বাংলাদেশের উজ্জ্বল সব নক্ষত্ররা। বিশ্বক্রিকেটে আজকে যে বাংলাদেশকে দেখছেন তার পেছনে যে কারণটি মূখ্য সেটি হলো একটি প্রাণ প্রাচুর্যে ভরা ঈর্ষা করার মতো একটি সমৃদ্ধ পাইপলাইন।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যত তারকাঃ
১। আফিফ হোসেনঃ প্রথমেই বলতে হয় আফিফ হোসেনের কথা। পুরো নাম আফিফ হোসেন ধ্রুব। নিজের অভিষেক টি-টোয়েন্টিতেই একগাদা রেকর্ড করেছেন এই ১৭ বছরের কিশোর। সবই বল হাতে। ২১ রানে ৫ উইকেট নিয়ে চমকে দিয়েছেন সবাইকে। সবচেয়ে কম বয়সে টি-টোয়েন্টিতে ৫ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডটি এখন তাঁরই। বিপিএল অভিষেকেও সেরা বোলিং এটি। সব মিলিয়ে সর্বশেষ বিপিএলে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ডও। এক কথায় স্রেফ অবিশ্বাস্য এক অভিষেক। তবে এরপরও নিজেকে বোলার ভাবতে রাজি নন খুলনার ছেলে। নিজেকে যে ব্যাটসম্যান ভাবেন তিনি! যে ব্যাটিং নিয়ে তাঁর চাপা গর্ব, সেটা এখনো অবশ্য দেখাই হয়নি। গত বিসিএলে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের অভিষেকেই সেঞ্চুরি করেছেন আফিফ। টুর্নামেন্টে তিন ম্যাচে দুটি সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। ২০১৮ সালে নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় যুব বিশ্বকাপে ভালো করার ব্যাপারেও প্রত্যয়ী আফিফ, তবে জাতীয় দলে খেলা নিয়ে চিন্তা নেই তার। আপাতত যুব দলের হয়েই ব্যাটে-বলে দ্যুতি ছড়াতে চান সাকিব-তামিমদের এই অনুজ।
২। মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনঃ ‘দিজ ম্যান ইজ আ সিরিয়াস এক্সপোনেন্ট অফ ইয়র্কার’-ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপ কথাগুলো বলছিলেন সাইফুদ্দিন সম্পর্কে ! অনুর্ধ ১৯ দলের পেস বোলার এবং লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যান সাইফুদ্দিন। তবে ইয়র্কার স্পেশালিস্ট সাইফুদ্দিন অবশ্য নিজেকে ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি দিতে পছন্দ করেন। ১৯৯৬ সালের ১ নভেম্বর ফেনীতে জন্মগ্রহন করা সাইফুদ্দিন আদর্শ মনে করেন নিউজিল্যান্ড এর আরেক বিধ্বংসী অলরাউন্ডার কোরি এন্ডারসনকে। ইংল্যান্ডের বেনস্টোকসকেও তার পছন্দ। তাদের মতোই একদিন আরো বড় মঞ্চে হয়ত দেখা যাবে অনুর্ধ ১৯ দলের এ অলরাউন্ডারকে। গত বছর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের জার্সি গায়ে খেলেছিলেন সাইফুদ্দিন। সেখানে নয় ম্যাচে তিনি নিয়েছিলেন ৯টি উইকেট। ২০১৬ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও ভালো নৈপুণ্য দেখিয়েছিলেন এই তরুণ ক্রিকেটার। একজন থিসারা পেরেরা কিংবা একজন ড্যারেন স্যামির সন্ধান করছে বাংলাদেশ বহুদিন ধরে। শেষের ঝড়ে সমীকরণ নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসার সামর্থ্য আছে এমন একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার পাওয়ার চেষ্টার অংশ হিসেবেই শ্রীলঙ্কা সিরিজে টি-টুয়েন্টি দলে অভিষেক হয়েছিল তরুণ মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের। ডানহাতি পেসের পাশাপাশি লোয়ার অর্ডার ব্যাটিংয়েও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন তিনি।
৩। সাইফ হাসানঃ সাইফ হাসান বাংলাদেশের এক সম্ভাবনাময় ক্রিকেটারের নাম। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দেড় দিনেরও বেশি সময় সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ক্রিজে থেকে সাইফ হাসান মোকাবেলা করেছেন বরিশালের বোলারদের ৪১০টি ডেলিভারি, সেখান থেকে রান করেছেন ২০৪। ২০টি চার ও ১টি ছক্কা তার আদর্শ টেস্ট ইনিংসের গায়ে মারকুটে চাঁদর পরাতে চাইলেও স্ট্রাইরেট (৪৯.৭৫) বলছে, অনেকদিন ধরে খুঁজতে থাকা কাঙ্ক্ষিত টেস্ট ব্যাটসম্যান বলতে গেলে পেয়ে গেছে বাংলাদেশ! মেহেদী হাসান মিরাজ, নাজমুল হোসেন শান্তদের সঙ্গে আগের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে ৩৩টি যুব ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা আছে সাইফের। রান করেছেন ৮৯৭। ২০টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচও খেলে ফেলেছেন, ৪৪.১৪ গড়ে করেছেন ১২৩৬ রান। ঝুলিতে রয়েছে ৮টি অর্ধশতক ও ২টি পূর্ণশতক। দেশের উঠতি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সাইফ আলাদা করে নিজেকে তুলে ধরতে পেরেছেন তার জমাট টেকনিক ও দারুণ টেম্পারামেন্টের জন্য। গেল যুব বিশ্বকাপেও বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন সাইফ। কিন্তু ব্যাট হাতে সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। তবে খেই হারাননি। আবারও নিজেকে প্রমাণ করে ফিরে এসেছেন চেনা ছন্দে। পেয়েছেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব। জাতীয় লিগের পর বিসিএলেও ব্যাট হাতে করেছেন দারুণ পারফর্ম। ইমার্জিং কাপ এশিয়া কাপেও দলের জন্য করেছেন দুর্দান্ত পারফর্ম।
৪। নামজুল হোসেন শান্তঃ মাঠের খেলার মতো কথা বার্তাতেও শান্ত। বড় ইনিংস গড়ার পর উদযাপনেও শান্ত। কিন্তু একটি স্থানে নাজমুল হোসেন শান্ত খুবই অশান্ত। সেটি হচ্ছে, প্রতিপক্ষের জন্য। যখনই কোনো দলের বিপক্ষে খেলতে নামেন এ ব্যাটসম্যান, তখনই অশান্ত হয়ে ওঠেন। রানের ওপর রান করতে থাকেন। যুব ক্রিকেটে ছিলেন বড় তারকাদের একজন, আর এখন নাজমুল হোসেন শান্ত বাংলাদেশ ক্রিকেটের আগামী দিনের সম্ভাবনা। মেহেদী হাসান মিরাজের অধীনে খেলেছেন দীর্ঘকাল। জাতীয় দলের হয়ে নিউজিল্যান্ডে এরই মধ্যে টেস্ট অভিষেক হয়ে গেছে তাঁর। নাজমুল হোসেন শান্ত একজন বিশুদ্ধ ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত যিনি বয়সভিত্তিক দল থেকেই নিজেকে মেলে ধরে আসছেন। অসাধারণ ধারাবাহিকতার মূর্ত প্রতীক শান্তর ঝুলিতে রয়েছে যুব ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের রেকর্ডও। ঘরের মাঠে গত বছর যুব বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ১১৩ রানের ইনিংস খেলার দিনেই এই রেকর্ডের মালিক বনে যান তিনি। লিস্ট-এ ক্রিকেটে ৪২ ম্যাচে ৩৪.০২ গড়ে ১১৯১ রান করে এখনও সেই রেকর্ডের কর্ণধার নাজমুল হোসেন শান্ত। তাঁর এই ১১৯১ রানের মধ্যে রয়েছে ২টি সেঞ্চুরি ও ৪টি হাফ সেঞ্চুরি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও ব্যাট হাতে তাঁর রয়েছে ৪টি শতক ও ৫টি অর্ধশতক। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত ১৮ ম্যাচ খেলা শান্তর সংগ্রহ ১৮৫৩ রান যেখানে গড় ৪১.১৭।
৫। পিনাক ঘোষঃ বয়স যখন ঠিক চার বছর তখনই ক্রিকেটের সঙ্গে পরিচয় হয় পিনাক ঘোষের। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে একটু একটু করে বাড়তে থাকে ভালোবাসা। আট বছর বয়সে নেত্রকোনা থেকে 'বুস্ট পাওয়ার কাপ' খেলতে ঢাকায় আসেন। ওই টুর্নামেন্টে এক ম্যাচে ব্যাট হাতে ৫১ রানের ইনিংসও খেলেন। এরপর শুরু হয় তার এগিয়ে যাওয়া। অনূর্ধ্ব-১৫ দলে খেলার পর খেলেন অনূর্ধ্ব-১৭ পর্যায়ে। ভারতের মধ্য প্রদেশের বিপক্ষে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়েতে সর্বোচ্চ রান করেন বাঁহাতি এই ওপেনার। ফলশ্রুতিতে সুযোগ পান অনূর্ধ্ব-১৯ দলে। ২০১৫ সালে ডার্বানে দক্ষিণ আফ্রিকা অ-১৯ দলের বিপক্ষে ১৪১ বলে ১৫০ রান করেন পিনাক ঘোষ। খুব উপভোগ করেছেন পিনাক। কেননা ওই ম্যাচের পর থেকেই তার ক্রিকেট জীবন বদলানো শুরু হয়েছে।ক্রিকেট ক্যারিয়ারে তাই সবচেয় প্রিয় মূহূর্ত পিনাকের এটিই। পিনাক ঘোষের প্রিয় ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার ও সৌম্য সরকার। ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলে নাম কুড়ানো সৌম্যর সঙ্গে জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখেন তিনি। দলের জন্য ভালো কিছু করতে চান পিনাক ঘোষ। যাতে করে সবাই তাকে মনে রাখে। তবে নির্দিষ্ট করে কোনও লক্ষ্য ঠিক করতে চান না তিনি। দলের উপকার হবে এমন কিছুই ভাবনা তার। পিনাক যুবদলের হয়ে বেশ ধারাবাহিকভাবে খেলে যাচ্ছেন।
৬। এবাদত হোসেন চৌধুরীঃ বয়স ২২। উঠে এসেছেন মৌলভীবাজারের বড়লেখা থেকে। ২০১৬ রবি পেসার হান্ট জেতা ডান হাতি ফাস্ট বোলার। ১৪,৬১১ জন প্রতিযোগী সামলেছিলেন শুরুতে। ঢাকায় চূড়ান্ত পর্বে তার সর্বোচ্চ গতির বলটি ছিল ১৩৯.৯ কিলোমিটার/ঘণ্টা। পেসার হান্টের সেরা হওয়ার পর বিসিবির হাই পারফরম্যান্স দলে চলে এলেন এবাদত। এরপর ঘরোয়া ক্রিকেটে গুটিকয়েক ওয়ানডে ম্যাচ খেললেও ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ খেলা হয়নি। বিপিএলের প্লেয়ার্স ড্রাফটে ছিলেন। তাকে কিনে নিয়েছে রাজশাহী কিংস। ডাক পেলেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে, আল আমিন-কামরুল ইসলাম রাব্বির সাথে বোলিং করারও সুযোগ পেলেন। প্রথম সুযোগেই বাজিমাত করলেন আবারও, ৫ ওভার বোলিং করে মাত্র ২৮ রানের বিনিময়ে তুলে নেন জেমস ভিন্সে এবং জেসন রয়ের দুইটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। এবাদত তো দেশের ভবিষ্যৎ তারকা হওয়ার সঠিক পথেই আছেন।
৭। আব্দুল হালিমঃ মাশরাফির মতো নায়ক হওয়ার স্বপ্ন বুকে লালন করে ক্রিকেটে খেলে চলছেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ডানহাতি পেসার আব্দুল হালিম। সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমনের শহর কুষ্টিয়া থেকে উঠে এসেছেন তিনি। উদ্দেশ্য গতির ঝড় তোলা। তার প্রিয় তারকা মাশরাফি এবং দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার ডেল স্টেইন। বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়ার পর থেকে একের পর এক পরীক্ষায় উতরে যেতে থাকেন আব্দুল হালিম। অনূর্ধ্ব-১৫ দলে কেরালার বিপক্ষে হোম সিরিজের এক ম্যাচে পান ৫ উইকেট। এরপর অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে পাঞ্জাব সফরে হন সিরিজ সেরা বোলার। অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৭-তে পারফরম্যান্স খুব ভালো ছিল। ওখান থেকেই অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলে সুযোগ আসে হালিমের।
৮। মেহেদী হাসান রানাঃ চাঁদপুরের ১৯ বছর বয়সি বাঁহাতি পেসার মেহেদী হাসান রানার একটি বড় পরিচয় বিশ্ব মাতানো মুস্তাফিজুর রহমানের প্রিয় বন্ধু তিনি। কিন্তু বন্ধুর পরিচয়ে নিজেকে আর চেনাতে চান না রানা। বন্ধু যেমন বিশ্ব মাতিয়েছেন রানারও ঠিক একই ইচ্ছে। মুস্তাফিজুর মতো কাটার রপ্ত করেছেন রানা। এবার শুধু তা দেখিয়ে দেওয়ার পালা। এ জন্য বিশ্ব মঞ্চকেই বেছে নিয়েছেন তিনি। প্রায় চার বছর ধরে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা থাকা রানা টুর্নামেন্টের শীর্ষ ৫ বোলারের একজন হতে চান। অনূর্ধ্ব-১৬ দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা রানা খেলেছেন ১৭ , ১৮ ও ১৯ দলে। পুরো দলের সঙ্গে দেড় বছর ধরে ধারাবাহিক অনুশীলনে আছেন রানা। জাতীয় দলের নেটেও বল করেছেন বেশ কয়েক দিন। জাতীয় লিগ খেলা রানার প্রেরণা জাতীয় দলের অধিনায়ক মাশরাফি এবং প্রিয় বন্ধু মুস্তাফিজ। তাদের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে নিজের পারফর্মেন্স দিয়ে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদানও রাখতে চান চাঁদপুরের এই পেসার।
৯। জয়রাজ শেখ ঈমনঃ অল্প বয়সেই বিভিন্ন বন্দরে নোঙ্গর তুলেছিলেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ওপেনার জয়রাজ শেখ ঈমন। ভর্তি হয়েছিলেন নাট্যদলেও। তবে কোনও কিছুই হওয়া হয়নি তার। কেননা মন-প্রাণ দিয়ে রেখেছিলেন ক্রিকেটে। সেখানেও চেষ্টা চালিয়েছেন পেসার কিংবা লেগ স্পিনার হওয়ার। কিন্তু শেষমেষ হয়েছেন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। ২০১৩ সাল থেকে যতগুলো টুর্নামেন্টে খেলেছেন সবগুলোতেই ওপেনিং ব্যাটিং করেছেন জয়রাজ। ঘরের মাঠে আইসিসি অনূর্ধ্-১৯ বিশ্বকাপে জাতীয় দলে হয়ে মঞ্চ মাতিয়েছেন। ব্যাটিং প্রতিভা দিয়েই অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দল হয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দরজা খুলে যায় তার সামনে। দলের হয়ে এই পর্যন্ত বেশ কয়েকটি ভালো ইনিংসও খেলেছেন জয়রাজ। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে জয়রাজ এখন পর্যন্ত ৩৫ টি ওয়ানডে খেলেছেন তিনি। ২৮.৩৭ গড়ে ৯০৮ রান করেছেন তিনি। ব্যাট হাতে এখনো শতরানের দেখা না পেলেও জয়রাজের ঝুলিতে রয়েছে আটটি অর্ধশতক। লিস্ট-এ ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও পা রেখেছেন জয়রাজ। ৪ টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে ১৭৯ করেছেন তিনি। আর লিস্ট এ ক্রিকেটে ১৯ ম্যাচে জয়রাজের সংগ্রহ ৩১৮ রান।
১০। নাঈম হাসানঃ এমার্জিং কাপের জন্য মেহেদী হাসান মিরাজের পরিবর্তে নেয়া হলো নাঈমকে। যিনি নাঈম হাসান নামে পরিচিত। শ্রীলঙ্কায় টেস্ট সিরিজ শেষে এমার্জিং কাপে খেলার জন্য ঢাকায় চলে আসেন মিরাজ। কিন্তু ওয়ানডে সিরিজে দলের স্বার্থে ফের উড়ে যেতে হয় মিরাজকে। তাই মিরাজের পরিবর্তে এমার্জিং কাপের জন্য নাঈম হাসানকে দলে নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নাঈমের ক্রিকেটে হাতেখড়ি চট্টগ্রামে। অফ ব্রেক এই বোলারের প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটে অভিষেক হয় নিজের বিভাগ চট্টগ্রামের হয়ে। নাঈম হাসান চট্টগ্রাম বিভাগীয় অনুর্ধ ১৮ দলের হয়ে ইয়ং টাইগার্স অনুর্ধ-১৮ ন্যাশনাল কম্পিটিশন ২০১৬-এ ২০ উইকেট লাভের পাশাপাশি ব্যাট হাতে ১৬০ রান করেন। নাঈম চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের হয়ে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে থাকেন। এরপর জাতীয় লিগে ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চলের হয়ে খেলেছেন। লিগে ভালো করার সুবাদে সুযোগ হয় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলে। এছাড়াও নাঈম চট্টগ্রাম জেলা ও বিভাগীয় অনুর্ধ-১৪, ১৬ এবং ১৮ বয়স ভিত্তিক ক্রিকেট দলে সফলতার সাথে অংশগ্রহণ করেছেন।
১১। সালেহ আহমেদ শাওন গাজীঃ তার প্রিয় ক্রিকেটার সোহাগ গাজী স্পিনার হলেও তার স্বপ্ন ছিল আরেক প্রিয় ক্রিকেটার মাশরাফির মতো পেস বোলার হওয়া। পটুয়াখালি জেলা অনূর্ধ্ব-১৩ দলে মূলত পেসার হিসেবেই সুযোগ পেয়েছিলেন। সেবার এক ম্যাচে ব্যাট হাতে ওপেনও করেছিলেন সারাক্ষণ হাসি তামাশায় মেতে থাকা শাওন গাজী! শেষ পর্যন্ত এলাকার বড় ভাই আব্দুল্লাহ ও সোহাগ গাজীর কল্যাণেই বাঁহাতি স্পিনার হয়ে উঠেছেন তিনি।স্বপ্নও দেখেন সোহাগ গাজীর সঙ্গে জুটি বেঁধে জাতীয় দলে খেলার। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে ৫ ম্যাচে ১০ উইকেট শিকারে দলের সফলতম বোলার ছিলেন তিনি। এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৪ ম্যাচে নিয়েছিলেন ১৯টি উইকেট। এরপর গত নভেম্বরে ত্রিদেশীয় সিরিজে দূর্দান্ত বোলিং করেছেন তিনি। টুর্নামেন্টের তৃতীয় ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে তৃতীয় ম্যাচে ১০ রান খরচায় নিয়েছেন ৬ উইকেট।
