‘একটা ব্রেক তো ডিজার্ভ করি’

featured photo1 1 43
Vinkmag ad

শেষ ১০-১১ বছর বাংলাদেশ দলকে টানা সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছেন সাকিব আল হাসান। নিজের অর্জনটাও কম নয়। দলীয় আর ব্যক্তিগত অর্জনে সাফল্যের মুকুটে পালক জমেছে অনেক। কিন্তু, এবার সেই সাকিবই মনে করছেন একটু বিরতি তার প্রাপ্যই। মঙ্গলবার বনানীতে নিজের বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে সাকিব বলেছেন সাংবাদিকদের সামনে, খন্ডিয়েছেন যুক্তি। 

21741748 1659454344125703 1866974902 n

এমনিতেই বাংলাদেশ দল টেস্ট খেলে বছরে সর্বোচ্চ চার থেকে পাঁচটি। এরকম পরিস্থিতিতে বিরতি যদি প্রয়োজনই হয় তবে সেটা ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি অথবা বিদেশী লিগগুলো থেকে কেন নয়, প্রশ্নটা এমনই ছিল সাকিবের কাছে। বাইশ গজে বোলার সামলানোর মত এই প্রশ্নও দারুণভাবে সামলেছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।

“লিমিটেড ওভারের খেলাগুলো হচ্ছে একদিনের বা তিন ঘন্টার। টেস্ট ম্যাচটা হয় পাঁচদিনের। তার আগে প্রস্তুতি আর গা ঝালানোর ম্যাচ নিয়ে সময় লেগে যায় আরও কিছুদিন। তাই একটা টেস্ট সিরিজ থেকে যদি বিরতি নেয়া যায় তাহলে একমাসের বিশ্রাম পাওয়া যাবে। টি-টোয়েন্টিতে সেটা দাঁড়ায় তিনদিনে আর ওয়ানডেতে সাত দিন। আমার একটু বড় বিরতি দরকার। তাই টেস্ট থেকে ছুটি নিয়েছি।” 

এমন প্রশ্ন আসবেই জানতেন সাকিব। তবে, বিস্মিতও হয়েছেন খানিকটা। টেস্টের সাথে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টির রঙিন জগতটার পার্থক্য তুলে ধরেছেন তিনি। আর এমন কথা উঠলে সাকিবের প্রতিক্রিয়া কেমন থাকে সেটাও জানতে চাওয়া হয়েছিল।

” সবচেয়ে বড় ব্যাপার… কোন প্রতিক্রিয়াই দেখাইনা (হাসি)। যেহেতু শরীরটা আমার তাই আমি বুঝি ঠিক কতটা ধকল যাবে। ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি কিংবা বাইরের লিগগুলো থেকে বিরতি না নেয়ায় যে প্রশ্ন উঠছে তাতে আমি একটু অবাকই। বাইরের লিগগুলো আমার কাছে ছুটি কাটানোর মত। সেখানে এমন চাপ বা প্রত্যাশা কিছুই থাকেনা। সাথে অভিজ্ঞতাটাও হয়। আর আর্থিক একটা ব্যাপার তো আছে।” 

যেহেতু বল আর ব্যাট হাতে দলের হয়ে সবসময়ই অসাধারণ সাকিব আল হাসান। তাই দল তার কাছে থেকে চায়ও সেরাটাই। ফলে একদম সেরাটা না দেয়ার নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত সাদা পোশাকের ক্রিকেট থেকে বাইরেই থাকতে চান মি. এস সেভেন্টি ফাইভ।

“কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে যেহেতু ব্যাটিং বোলিং দুটোই করা হয় তাই দল আমার কাছ থেকে আশাও করে বেশি। দুই ইনিংসের বোলিং আর ব্যাটিংয়ে আমার অবদান রাখতেই হয়। ধরেন, অর্ধেকটা করতে পারলাম আর অর্ধেকটা পারলাম না, দল যা চাচ্ছে সেটা আমি পুরোটা দিতে পারলাম না। এটা মোটেও ভাল দিক না। যখন আমি আমার সেরাটা দিতে পারবো ঐ চার ইনিংসে ব্যাট এবং বল হাতে, আমি মনে করি সেটাই খেলার সেরা সময়।” 

সাকিবের কাছে সব সময়ই ক্রিকেটটা আবেগের জায়গা, ভালবাসার জায়গা। সে জায়গা থেকে খেলতে না পারলে নিজেই থাকেন না সন্তুষ্ট। ব্যক্তিগত সন্তুষ্টির জন্যও ভীষণ প্রয়োজন এই বিরতির, বলেছেন সাকিব।

“আমি তো চাইলেই খেলতে পারি। ম্যাচ ফি, বেতন, সবই পাবো খেললে। কিন্তু সেই খেলাটা আমার কাছে খুব গুরুত্ব বহন করবেনা। কেননা যেই আকর্ষণ, আবেগ আর ভালবাসার জন্য আমি ক্রিকেট শুরু করেছিলাম সেটা থাকছেনা। তো সেগুলো যদি না থাকে তবে এই খেলার কোন মানে আছে বলে আমি মনে করিনা।” 

সাংবাদিকরা একটু মজা করেই ছুঁড়েছিলেন প্রশ্নটা। সাকিবও হাসিমুখে দিয়েছেন উত্তর। টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি তার ভাললাগার জায়গা থেকে বলেছেন, টেস্ট দিয়ে ইতি টানতে চান ক্যারিয়ারের।

“এমন না যে আমি ক্রিকেটই খেলবোনা আর (হাসি)। অবশ্যই খেলবো, কেন খেলবোনা? আমার পরিকল্পনাটা হচ্ছে টেস্ট থেকেই সবার শেষে বিদায় নেয়া। তার আগে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টির পাট চুকাবো। কিন্তু আমার মনের কথা তো আমি আর সবাইকে বলার দরকার আছে বলে আমার মনে হয়না। নিজের জন্য যা যা করলে ভাল হবে সে ব্যাপারে আমিও সচেতন।”

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ আর টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে লম্বা বিরতি। এই বিরতিতে সাকিব থাকতে চান পরিবারের সাথেই। আর রঙিন পোশাকে মাঠে নামার প্রস্তুতির পরিকল্পনাও করে ফেলেছেন সাকিব।

“পরিবারকে সময় দেবো। ঘুরতে যাবো, পারিবারিক বন্ধুদের সাথে সময় কাটাবো। ক্রিকেট থেকে মাঝে মাঝে বাইরে থাকা খুবই জরুরী। তবে, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি যেহেতু সামনে সেটার প্রস্তুতিও নিতে হবে। কিন্তু, কয়েকটা দিন সময় নিয়ে তারপর।” 

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত তৃতীয় ম্যাচ

Read Next

শনিবার বিপিএলের ‘প্লেয়ার্স ড্রাফট’

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
0
Share