পাঁচ বছর নিশ্চিন্তে টেস্ট খেলতে চান সাকিব

featured photo1 1 40
Vinkmag ad

টেস্ট ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা বছরটা কাটাচ্ছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। নয় বছর পর বাংলাদেশ দল যাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে। যে নামটা সবার আগে লিখে তারপর দল ঘোষণা করেন নির্বাচকরা, সেই নামটা ছাড়া, সেই সাকিব আল হাসানকে ছাড়াই এবার দল ঘোষণা করতে হয়েছে নির্বাচকদের। কারনটা, সাকিবের বিশ্রাম! 

ছ’মাসের ছুটি চেয়ে বিসিবিকে চিঠি দিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। কারণ দেখিয়েছেন, মানসিক অবসাদে একটু মাঠের ক্রিকেট থেকে দূরে থাকতে চান। ফিরে আসতে চান আবারও নতুন উদ্যমে। তবে, বিসিবি ছুটি দিয়েছে শুধুই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই টেস্ট পর্যন্তই। এমনকি, চাইলেই সাকিব ফিরতে পারেন দ্বিতীয় টেস্ট থেকেই!

অসংখ্য প্রশ্ন আর গুজব যখন উড়ছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের আকাশে, সাকিব আল হাসান তখন সব ধোঁয়াশা দূর করতে মুখোমুখি হয়েছেন গণমাধ্যমের। মঙ্গলবার দুপুরে নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বাংলাদেশের সেরা এই ক্রিকেটার।

নিজের ক্যারিয়ারটাকে আরও দীর্ঘায়িত করতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সাকিব আল হাসান। বর্তমানে যেভাবে খেলে যাচ্ছেন অমনটা চলতে থাকলে সাকিবের মতে তিনি খেলে যাবেন ঠিকই, কিন্তু সর্বোচ্চ দুই বছর আর সামলাতে পারবেন সাদা পোশাকের ধকল। কিন্তু সাকিবের চাওয়া আরও দীর্ঘমেয়াদী ক্রিকেট।

21729299 1659454220792382 367173418 n

“আমি মনে করি আমার অনেকগুলো টেস্ট খেলা এখনও বাকি আছে। আমি যদি ঐ টেস্টগুলো ভালভাবে খেলতে চাই তবে এই রেস্টটা আমার খুব দরকার  আমি চাইলেই খেলতে পারি। কিন্তু আমার জন্য সেটা চাপ হয়ে দাঁড়াবে। এখন আপনারাই বলুন আপনারা কি চান? আমি পাঁচ, ছয় কিংবা সাত বছর খেলি নাকি এক দুই বছর খেলি।”

বিশ্রামটার জন্য যতটা না শারীরিক ব্যাপার জড়িত তার চেয়েও বেশি প্রয়োজন সাকিবের মানসিক স্বস্তি। পরের পাঁচ বছর নিশ্চিন্তে দলকে সার্ভিস দিতে তাই এমন বিরতি খুবই প্রয়োজন, জানিয়েছেন তিন ফরম্যাটের সেরা এই অলরাউন্ডার।

“এভাবে খেলতে থাকলে আমার যেটা মনে হয়, আমি খুব বেশীদিন খেলতে পারবোনা। এ কারণেই আমার বিশ্রামটা খুব দরকার। বিরতিটা শেষ হলে আমি আবার মানসিকভাবে নতুন উদ্যমে পরের পাঁচ বছর নিশ্চিতে খেলতে পারবো। যেটা এক দুই ম্যাচ বা এক দুই মাসের জন্য না বরং আমার পুরো ক্যারিয়ারের জন্য ভাল হবে।”

নিজের শারীরিক ব্যাপারটা যেহেতু নিজেই সবচেয়ে ভাল বোঝেন তাই তার কথাতে বিসিবি রাজী হয়েছেন সে জন্য কৃতজ্ঞ সাকিব। আর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজটাও শুরু করবেন এক মাসের ছুটি দিয়ে।

“আপনি যদি দেখেন আমি দুইটা টেস্টের পর দক্ষিণ আফ্রিকা রওনা হলে একমাসের একটা ছুটি পাচ্ছি। যেটা আমি শেষ তিন-চার বছরে পাইনি। তো আমার জন্য বেশ বড় একটা বিরতি বলা চলে। বিসিবিকে ধন্যবাদ যে আমার কথাটা তারা বুঝেছে। আমার শারীরিক ব্যাপার অন্য যে কারো থেকে আমিই ভাল বুঝবো। তাই এদিকে নজর দেয়ার গুরুত্ব তো আছেই।”

দলের সবচেয়ে সেরা খেলোয়াড় তিনি, ফরম্যাটটা যাই হোকনা কেন। স্বভাবতই বিসিবি ছাড়তে চাইবেনা তাকে, নির্বাচকরা দলে তাকে চাবেনই। তবে সাকিবের সাথে দ্বিমত পোষণ করেননি তারা। মেনে নিয়েছেন সাকিবের কথাই।

“খুব যে কষ্ট হয়েছে তাদের বোঝাতে তেমনটা নয়। আমি যখন তাদেরকে বলেছি সব বুঝিয়ে তখন সেটা অনৈতিক কিছু মনে হয়নি তাদের কাছেও, আমার কাছেও। তাই তারা মেনে নিয়েছে।”

সাকিবের পরের পরিকল্পনাটা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে রঙিন পোশাকের দুই সিরিজ আর বিপিএল নিয়েই। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সব বিবেচনা করে তবেই জানাবেন সিদ্ধান্ত।

“আমি আবেদন করেছি ছয়মাসের ছুটির জন্য। তারা শ্রীলঙ্কা সিরিজের আগ পর্যন্ত ছুটি দিয়েছে। বিপিএল আর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টির পরেই আমি সিদ্ধান্ত নিবো যে আমার পরের কাজ কি হবে। আমি সেভাবেই তাদের সঙ্গে কথা বলবো। তারা যদি মনে করে আমাকে দরকার আর আমারও যদি মনে হয় শারীরিক এবং মানসিকভাবে আমি সেরাটা দেয়ার জন্য প্রস্তুত তবে অবশ্যই মাঠে নামবো।”

প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু তো বলেছেনই, সাকিবের সিদ্ধান্ত যেন সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়। এবার নিজ বাসভবনে স্বয়ং সাকিবই যুক্তি দিয়ে বুঝিয়েছেন বিশ্রামটা তার কতটা প্রয়োজন, কতটা প্রয়োজন আবারও চাঙ্গা হয়ে মাঠে ফিরে আসার। তাই হোক তবে, এক-দুই সিরিজের বদলে সাকিবের সার্ভিসটা যদি পাওয়া যায় পরের ১৫-২০টা টেস্ট সিরিজে, তবে ক্ষতি কি তাতে!

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

তিন ফরম্যাটেই অধিনায়ক ডু প্লেসিস

Read Next

টাইগারদের বিপক্ষে টেস্টে ফেরার অপেক্ষায় স্টেইন

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
1
Share