ঈদের আগেই ঈদ

featured photo1 1 4
Vinkmag ad

একটা গল্প শুনাই…

কন্ড্রিংটনের বলে ডেভিসনের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিওনের পথে মোহাম্মদ রফিক। বাংলাদেশ অল-আউট ১২০ রানে। কানাডার সাথে পরাজয়ে অদ্ভুত নিস্তব্ধতা বাংলাদেশে। পরেরদিনই ঈদ। ঈদের আনন্দ নিমিষেই উধাও।

ঈদের দিন পাঞ্জাবীটা পরেনি শাকিল, সেমাইটা খায়নি রাকিব, নামাজ পড়ে দ্রুত ঈদগাহ ছেড়ে চলে এসেছে রিয়াজ। সালামি নিয়ে তুলকালাম কান্ড সেদিন করেনি কিশোর রায়হান, মেহেদী নিয়ে মায়ের আশে পাশে ঘুরঘুর করেনি রিয়া।

গল্পটা শেষ, বাস্তবতায় আসি এইবার…

দুঃখে ভরা ঈদ কাটিয়েছিল সেদিন আপামর বাংলাদেশ। ২০০৩ এর বিশ্বকাপ খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েছিল সেবার বাংলার বাঘেরা। গ্রুপের বাকী দলগুলো তুলনামূলক অনেক শক্তিশালী ছিলো দেখে কানাডার সাথের ম্যাচটিই একমাত্র জয়ের সম্ভাবনা দেখিয়েছিল। কানাডাকে অল-আউটও করা গিয়েছিল ১৮০ রানে। বনের বাঘে খায়নি, কিন্তু মনের বাঘের শিকার হয়ে সেদিন বিজিতর বেশে মাঠ ছেড়েছিল টিম বাংলাদেশ।

এত কষ্ট, এত হতাশা, এত দুর্বিষহ ঈদ কাটানোর পরেও রিয়াজ, রাকিব, রায়হান, রিয়াসহ দেশের কোণায় কোণায় ছড়িয়ে থাকা ভক্তরা তাও আশা ছাড়েনি। পরের ম্যাচ দেখতে ঠিকই বসে গিয়েছিলো টিভি সেটের সামনে। মনে অদ্ভুত এক বিশ্বাস নিয়ে, পারবো!

বাংলাদেশ পারবে, টাইগাররা পারে- সমর্থকরা এমন বিশ্বাসের বীজ বুনেছিলেন দেখেই আকাশে পতাকার রং উড়িয়ে ২০০০ সালে সাদা পোশাকের কুলীন ক্রিকেটে প্রথমবারের মত মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। ব্যর্থতা আর একের পর টেস্ট পরাজয়ে বারবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস।

গেল সতেরো বছরে ‘কেন বাংলাদেশ টেস্ট খেলছে’ এ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ধারাভাষ্যকক্ষে আমতা আমতা করেছেন আতাহার আলি খান। সাংবাদিকরা দিতে পারেননি জবাব। তবে আজ হঠাৎ টুইটার, পত্র-পত্রিকায় সেই বাংলাদেশেরই স্তুতি একের পর এক গেয়ে যাচ্ছেন পুরো ক্রিকেট বিশ্ব।

মিরপুরে ক্যাঙ্গারু আর টাইগারদের বছর ১১ পরের ‘রয়্যাল’ লড়াইয়ের প্রথম বল পিচ ড্রপ করার আগে সংবাদ সম্মেলন কক্ষে দারুণ লড়াই জমিয়ে দিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। নাথান লায়ন পাত্তা দিতে চাননি, স্টিভ স্মিথ টেনে এনেছিলেন টাইগারদের ‘নয় জয়’ টাকেই!

তবে ঢাকা টেস্ট শেষে সে জয়ের সংখ্যা দশটি আর শেষটি তাদের হারিয়েই। ঠিক ঈদের তিন দিন আগেই বাংলাদেশের মানুষকে ঈদের খুশি ঠিকই এনে দেন সাকিব আল হাসানরা। সাকিব হয়েছেন ম্যাচ সেরা। ‘অস্ট্রেলিয়াকে হারানো সম্ভব’, হারিয়ে সম্ভব করে দেখিয়েছেন টাইগাররা।

আজ আর কোন পত্রিকায় তারা হেডলাইন হতে দেয়না ‘১২ কোটি বাংলাদেশীর ঈদের আনন্দ মাটি করে দিলো টিম বাংলাদেশ’। তাদের জন্য আজ পত্রিকার শিরোনাম হয় ‘ঈদের আগেই ঈদ করার সুযোগ করে দিলো মুশফিকরা”।

আজ সত্যিই ঈদ, বারবার পরাজয়ের শিকলে বন্দী হওয়া বাংলাদেশ দলের ঐ মাটি কামড়ে পড়ে থাকা সমর্থকদের আজ অন্যরকম ঈদ। অনেক পাওয়ার ঈদ, অনেক আকাঙ্ক্ষার ঈদ।

ঈদ মুবারাক!

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন ও’কিফ

Read Next

অজি-বধে ‘যোশীর’ মন্ত্র!

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
0
Share