ডিমেরিট পয়েন্টের সম্ভাবনা দেখছে কেপটাউনের পিচ, রোহিতের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত অনিশ্চিত

ভারত দক্ষিণ

দক্ষিণ আফ্রিকার নিউল্যান্ডসের পিচ নিন্দা ও ডিমেরিট পয়েন্টের মধ্য দিয়ে যেতে পারে বলে অনুমান করা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) কর্তৃক, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারত এর মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচ, যা কিনা ইতিহাসের সংক্ষিপ্ততম টেস্ট ম্যাচ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, সেই ম্যাচ ঘিরে ব্যবস্থা আসতে পারে খুব শীঘ্রই।

কেপটাউনের নিউল্যান্ডসের মাঠে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারত– দুই দলের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচ। সিরিজের শেষ ম্যাচে প্রত্যাশিত কোনো খেলা দুই দলের কেউ দিতে পারেনি। বরং দুই দলের পেসারদের কথা আলাদা করে বললে, পিচের সুবিধা নিয়ে প্রতিপক্ষের উইকেট তোলাতেই ছিল তাঁদের যত মনোযোগ। ফলাফল হিসেবে এর চেয়ে কম সময়ে আর কোনো টেস্ট ম্যাচ শেষ হয়নি ক্রিকেটের ইতিহাসে।

আইসিসি নিউল্যান্ডসকে ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়ার কথা ভাবছে। একইসাথে ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা, ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে আইসিসি ও ম্যাচ রেফারিদের কথা উল্লেখ করে তাঁর বলা কথাগুলোর জন্য কোনো নিষেধাজ্ঞা বা জরিমানা অর্পণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনে আলোচিত এই টেস্টের ফলাফল বেরিয়ে এসেছে। পরবর্তীতে এই ম্যাচ, পিচ এসব নিয়ে অনেক বেশি আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে। ম্যাচ রেফারি ক্রিস বোর্ডের পক্ষ থেকেও এই পিচকে ‘পুওর’ বা ‘আনফিট’ উল্লেখ করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।

সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রসঙ্গ আনলে দেখা যায়, সেটি ৩ দিনে শেষ হয়েছে। যদিও সেই পিচ নিয়েও আলোচনা আছে। তবে নিউল্যান্ডসের এই পিচের দশা ও পুরো ফলাফল, সকল মনোযোগ এদিকে নিয়ে এসেছে।

এর আগে, ২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ জয়ের পর তৎকালীন ভারতীয় কোচ রবি শাস্ত্রী জানিয়েছিলেন, এক রাতের মধ্যে পিচের আচরণ খুব রহস্যজনকভাবে বদলে গিয়েছিল। জাসপ্রীত বুমরাহর ডেলিভারি ডিন এলগারের হেলমেটে আঘাত করলে, ম্যাচ তখন বন্ধ রাখা হয়। ভারত ৬৩ রানে সেই ম্যাচে জয় লাভ করে ঠিকই কিন্তু ওয়ান্ডারার্সের সেই পিচ হয়ে উঠেছিল বেশ বিপদজনক।

সেবার রবি শাস্ত্রী যতটুকু না বলেছেন, এবার রোহিত শর্মা বলেছেন আরও স্পষ্ট করে। নিউল্যান্ডস টেস্ট শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,

“আমি সত্যি বলতে এই ধরনের পিচে খেলতে কিছু মনে করি না। যতক্ষণ না সবাই তাঁদের মুখটা বন্ধ রাখবে ভারতে গিয়ে এবং ভারতীয় পিচ সম্পর্কে বেশি কথা বলবে না। আমি সত্যি বলছি।”

“আমার মনেহয় এটা জরুরি যে প্রতিটা জায়গায় নিরপেক্ষ থাকা। আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারি না, বিশ্বকাপ ফাইনালের পিচ ‘বিলো এভারেজ’ হিসেবে গণনা করা হয়েছে। একজন ব্যাটার সেখানে হান্ড্রেড করেছে ফাইনালে। সেটা কীভাবে একটা খারাপ পিচ হয়? তো এই ব্যাপারগুলো আইসিসি, ম্যাচ রেফারি- তাঁদের খেয়াল করা দরকার। পিচের মান ঠিক করা দরকার, তাঁরা কী দেখে সে অনুযায়ী, দেশ অনুযায়ী নয়। আমার মনেহয় এটা বেশ জরুরি।”

রোহিতের এই বক্তব্যের জন্য তিনি আইসিসি থেকে কোনো ধরনের নিন্দা বা ক্ষতির সম্মুখীন হবেন কিনা, সে ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

রঞ্জি ট্রফি: প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৭তম ডাবল সেঞ্চুরি করলেন পুজারা

Read Next

চাপে টেস্ট ক্রিকেট, অসন্তোষ প্রকাশ করলেন ডি ভিলিয়ার্স

Total
0
Share