কেপটাউন টেস্টে এক দিনে নেই ২৩ উইকেট

কেপটাউন টেস্টে এক দিনে নেই ২৩ উইকেট

কেপটাউন টেস্টের প্রথমদিন বেশ ভুতুড়ে-ভাবে শেষ হলো। প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নামা দক্ষিণ আফ্রিকা দল প্রথমে ৫৫ রানে অলআউট হয়েছে। জবাবে ব্যাট করতে নামা ভারত একসময় ৪ উইকেট হারিয়ে ১৫৩ রানে অবস্থান করছিল। সেই দল পরের ৬ উইকেট হারিয়েছে স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ না করেই। টেস্ট ইতিহাসে এমন ঘটনা এবারই প্রথম। এরপর নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামা দক্ষিণ আফ্রিকা দল ৩ উইকেট হারিয়ে ৬২ রানে দিন শেষ করেছে। ভারতের চেয়ে পিছিয়ে আছে ৩৬ রানে।

অধিনায়ক হিসেবে শেষ টেস্ট খেলতে নামেন ডিন এলগার। টেম্বা বাভুমার চোটের পর এলগারের কাঁধে সিরিজের ও নিজের- শেষ টেস্টের দায়িত্ব পড়ে। টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত যে একেবারেই ধোপে টেকেনি তার প্রমাণ পেতে দেরি হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। দলীয় রান যখন ৫, তখন মোহাম্মদ সিরাজ এইডেন মার্করামের উইকেট দিয়ে শুরু করলেন। এরপর এই ধারা নিয়মিতভাবে বজায় রেখেছেন সিরাজ। বিদায়ী নায়ক এলগার ফিরেছেন মাত্র ৪ রান করে।

ইনিংসের প্রথম ৪ উইকেট পড়েছে সিঙ্গেল ডিজিটে। সর্বোচ্চ ১৫ রান করার সৌভাগ্য হয়েছিল কাইল ভেরেইনার। তারপরের সর্বোচ্চ ডেভিড বেডিংহামের ১২ রান। ভারতের পেসাররা কোনো সুযোগই দেয়নি স্বাগতিকদের। ৯ ওভার বল করে ১৫ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়েছেন সিরাজ। জাসপ্রীত বুমরাহ ও মুকেশ কুমার নিয়েছেন ২ টি করে উইকেট।

এমন সংকটময় প্রথম ইনিংস খেলার পর, ভারতের ব্যাটাররা নামলেন। দলীয় ১৭ রানে ইয়াশাসভি জাইসাওয়াল কাগিসো রাবাদার ডেলিভারিতে স্টাম্প হারিয়ে বসলেন, ফিরলেন কোনো রান না করেই। রোহিত শর্মা ও শুবমান গিলের মধ্যে একটি জুটি তৈরি হয়েছিল। রোহিতের ব্যাটে আসা ৩৯ এবং গিলের ব্যাটে আসা ৩৬ রানে ভারত ভালো সাহায্য পেয়েছিল বটে। কারণ পরে শুধু ভিরাট কোহলি ভরসা দিতে পেরেছে সফরকারী দলকে।

রাহুল ৩৩ বল খেলে ৮ রানে ফিরেছেন যখন, ভারতের রান তখন ৫ উইকেট হারিয়ে ১৫৩। এরপর এক নাটকীয় কাণ্ড ঘটে গেল বটে! রাহুলের সাথে সঙ্গ দিয়ে রবীন্দ্র জাদেজা, জাসপ্রীত বুমরাহ, কোহলি, সিরাজ ও প্রসিদ কৃষ্ণা ফিরেছেন একে একে। এরমধ্যে সিরাজ আবার হয়েছেন রান আউটের শিকার। কোহলি ইনিংস সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেছেন। মুকেশ কুমার অপরাজিত ছিলেন কোনো রান না করে।

শেষদিকের উইকেট তুলতে লুঙ্গি এনগিডি ও রাবাদা ভূমিকা রেখেছেন। রাবাদা, লুঙ্গি ও নান্দ্রে বার্গার প্রত্যেকে ৩ টি করে উইকেট তুলেছেন। এর আগে টেস্ট ক্রিকেটে আর এমন ঘটনা ঘটেনি। শেষ ৫ উইকেট পড়তে অন্তত ৩ রান খরচ হয়েছে বোলারদের, সেটা ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে, ১৯৯০ সালের কথা। এবারই প্রথম কোনো রান খরচ না করেই শেষ পাঁচ ব্যাটারদের ফিরিয়েছে বোলাররা।

নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস খেলতে এলগার ও মার্করাম আবারও ক্রিজে আসেন। এলগারের শেষ ইনিংস বলে কথা, তবে সেরকম কোনো আনন্দদায়ক স্মৃতি ব্যক্তিগতভাবে তৈরি করতে পারলেন না। মার্করামের সাথে ৩৭ রানের জুটি গড়ে উঠেছিল বটে কিন্তু ব্যক্তিগত ১২ রানে মুকেশ কুমারের শিকার হয়ে শেষবারের মতো সাদা বলের পোশাকে ব্যাট হাতে মাঠ ছাড়লেন এলগার। অভিনন্দন জানাতে ভোলেননি ভারতীয় খেলোয়াড়েরা। কোহলি এসে জড়িয়ে ধরলেন মমতায়।

টনি ডি জর্জি ও ট্রিস্টান স্টাবস ফিরতেও সময় নিলেন না আর। দলীয় ৪১ ও ৪৫ রানে এই দুই উইকেট হারিয়ে বসে প্রোটিয়ারা। ফলে ৩ উইকেট হারিয়ে ৬২ রানে, অপরাজিত মার্করাম ৩৬ এবং ডেভিড বেডিংহাম ৭ রানে প্রথম দিনের খেলা শেষ করেন। প্রথম দিনে দুই দলের ২৩ উইকেট পড়েছে, দুই দলই অলআউট হয়েছে একবার করে।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

সিডনি টেস্ট: রিজওয়ান-জামালদের প্রচেষ্টায় ৩০০ পেরিয়েছে পাকিস্তান

Read Next

মেন্ডিসের নেতৃত্বে ১৭ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা শ্রীলঙ্কার

Total
0
Share