বক্সিং ডে টেস্ট নিজেদের করে সিরিজ জিতল অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়া পাকিস্তান

পার্থের পর মেলবোর্নেও একই পথের পথিক পাকিস্তান। যদিও অস্ট্রেলিয়াকে কিছুটা চাপে ফেলতে পেরেছিল বটে পাকিস্তানি পেসাররা। তবে সেই ফায়দা শেষপর্যন্ত তুলে নিতে ব্যর্থ হয়, দলগত পারফরম্যান্সের কারণে। গতকাল ৬ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার রান যখন ১৮৭, তখন লিড দাঁড়িয়েছিল ২৪১ রান। সেখান থেকে আজ আরও বেড়ে ৩১৭ রানের লক্ষ্যমাত্রা দাঁড় করায় অস্ট্রেলিয়া। জবাবে ব্যাট করতে নামা পাকিস্তান দলের চেষ্টা ৭৯ রান কমে এসে থেমে যায়। ফলে বক্সিং ডে টেস্টের জয়ের মুকুট ওঠে স্বাগতিকদের মাথায় এবং তিন ম্যাচ সিরিজে ২-০ তে এগিয়ে থাকার সফলতাও ধরা দেয়।

আজ বক্সিং ডে টেস্টের চতুর্থ দিন চলছিল। অ্যালেক্স ক্যারির ব্যাটে আসা ফিফটি, প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়নের ছোট সংগ্রহে পাকিস্তানের জন্য ৩১৭ রানের লক্ষ্যমাত্রা ছুঁড়ে দেয় অস্ট্রেলিয়া। শাহীন শাহ আফ্রিদি ও মীর হামজা, দুজনেই এসময় ৪ টি করে উইকেট বাগিয়ে নিয়েছেন।

মধ্যাহ্ন বিরতির বেশ খানিকটা আগে লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নামে পাকিস্তান। দলীয় ৮ রানে ওপেনার আব্দুল্লাহ শফিকের উইকেট তুলে নেন মিচেল স্টার্ক। এবার ইমাম উল হক ও অধিনায়ক শান মাসুদ মিলে দলের রান এগিয়ে নিতে থাকেন। তবে ব্যক্তিগত ১২ রান করে কামিন্সের ডেলিভারিতে লেগ বিফোরের শিকার হন ইমাম, এতে পাকিস্তান হারায় তাঁদের দ্বিতীয় উইকেট।

মাসুদের সাথে বাবর আজম মিলে চমৎকার এক জুটি গড়েন। যা দলীয় শতক পেরিয়ে যায়। ৭১ বলে ৬০ করা মাসুদকে ফিরিয়েছেন অধিনায়ক কামিন্স, ক্যাচ দিয়েছেন স্লিপে। আর এদিকে ৪০ এর ঘরে জশ হ্যাজেলউডের লেংথ ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ফিরে যান বাবর। তখন ৪ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের রান ১৪৬।

ব্যক্তিগত ২৪ রান সৌদ শাকিলকে ফেরাতে খুব একটা সময় নেননি স্টার্ক। কট বিহাইন্ডে পাঠিয়ে দিয়েছেন ক্যারির গ্লাভসে। এবার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও আগা সালমান মিলে দলের পক্ষে হাল ধরেন। এই জুটিতে পাকিস্তান স্বপ্ন দেখতে থাকে ম্যাচ জয়ের। তবে এই সময় দেখা দেয় বিপত্তি।

কামিন্সের এক ডেলিভারিতে বেকায়দা হয়ে রিজওয়ানের গ্লাভস বা রিস্টব্যান্ড ছুঁয়ে বল ছুটে যায় ক্যারির হাতে। ফিল্ড আম্পায়ার আউট দেননি, কিন্তু থার্ড আম্পায়ারের কাছে সিদ্ধান্ত গেলে তিনি আউট ঘোষণা করেন। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অবশ্য খুশি হতে পারেননি রিজওয়ান। সালমানের সাথে ৫৭ রানের জুটি ভাঙে, ভাঙে পাকিস্তানের ম্যাচ জয়ের আশাও। রিজওয়ানকে ফিরতে হয় ৩৫ রান করে। সেসময় পাকিস্তানের দলীয় রান ২১৯, ৬ উইকেট হারিয়ে।

রিজওয়ানের পর, পরের ব্যাটারদের কেউই আর কোন রান যোগ করতে পারেনি পাকিস্তানের স্কোরবোর্ডে। সালমান যখন ফিরে যান, পাকিস্তান তখন ৯ উইকেট হারিয়ে ২৩৭ রানে অবস্থান করছে। স্টার্কের একই ওভারে মীর হামজা ফিরলে, ২৩৭ রানে সব উইকেট হারায় সফরকারী দলটি।

চতুর্থ ইনিংসে, অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে প্যাট কামিন্স ৫ টি এবং মিচেল স্টার্ক ৪ টি উইকেট সংগ্রহ করেছেন।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

মাউন্ট মঙ্গানুইতে বৃষ্টির জয়

Read Next

সবাই যদি ১০০ দেয়, আমরা ১১০ দেওয়ার চেষ্টা করব: রিশাদ

Total
0
Share