‘অনলাইন অ্যাবি’উজ’ নিয়ে মুখ খুললেন লোকেশ রাহুল

‘অনলাইন অ্যাবি'উজ’ নিয়ে মুখ খুললেন লোকেশ রাহুল

অনলাইনে অবমাননা করা নিয়ে লোকেশ রাহুল নিজের সংগ্রামের কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি এসব কারণে ব্যক্তি হিসেবে তাঁর পরিবর্তন হওয়া নিয়ে মুখ খুলেছেন। সেঞ্চুরিয়নে যখন ভারতের ব্যাটিং ধুঁকছিল, তখন রাহুলের ব্যাটে হাসি ঝলক দিয়েছে। তা বিস্তৃত হয়েছে শতক পর্যন্ত। ১৩৭ বলে ১০১ রানের ইনিংস খেলে থেমেছেন তিনি। রাহুলের ঝুলিতে যোগ হয়েছে মোট ৮ সেঞ্চুরি, যার ৬ টি’ই এশিয়ার বাইরে।

গতকাল ইনিংস শেষে কথা বলতে গিয়ে নিজের মনের কথাগুলো প্রকাশ করলেন রাহুল। তিনি বলেন, “এটা অবশ্যই খুব কঠিন।“- লোকজনের কাছ থেকে শোনা কথা, সেসবের প্রভাব এড়ানো, খুব সহজ কথা নয়।

“আপনার নিজস্ব ব্যক্তিত্ব আছে। ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য আছে। আপনি যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেন, এই সমস্ত কিছু একটা চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ে। একজন ব্যক্তি হিসেবে, একজন ক্রিকেটার হিসেবে, একজন আলাদা মানুষ হিসেবে- আপনি প্রতিদিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ছেন, প্রত্যেকটা মুহুর্তে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম একটা চাপ তৈরি করে। আজকে আমি শতক হাঁকিয়েছি, লোকজন প্রশংসা করছে। ৩-৪ মাস আগে সবাই আমাকে অবমাননাকর কথা বলত। আপনি যত তাড়াতাড়ি বুঝবেন, আপনি এখান থেকে সরে যাবেন, সেটা আপনার খেলার জন্য ভালো হবে, আপনার মন মানসিকতাও ভাল থাকবে।“

“যেসব বলা হয় বা যে সমালোচনা করা হয়, তা পুরোপুরিভাবে এড়িয়ে যেতে পারেন– এমন কেউ’ই নন। এটা সব লোকদেরকে-ই প্রভাবিত করে। আর যদি কেউ বলে এটা তাঁকে একেবারেই প্রভাবিত করে না, আমি নিশ্চিত সে মিথ্যা বলছে। তবে প্রত্যেকেই তাঁর নিজের রাস্তা বাছাই করে নেয়। এবং আমার ক্ষেত্রে, যখন আমি ইনজুরিতে ছিলাম, লম্বা সময় খেলা থেকে দূরে ছিলাম, আমি নিজেকে নিয়ে কাজ করেছি। আমি সেই জনের কাছে যেতে চেয়েছি, যে কি না আমিই ছিলাম। এবং কাজ করেছি তা নিয়ে, যাতে এসব থেকে প্রভাবিত হয়ে আমি নিজেকে বদলে না ফেলি। এটা কঠিন নিজের কাছে সত্য থাকা, আপনার ব্যক্তিত্বের কাছে সত্য থাকা- যা কিছু ঘটে চলেছে। এটা কঠিন একটা বিষয়।“

“তবে সবকিছুর মতোই, ক্রিকেটে, জীবনে- কিছু রাস্তা থাকেই কাজ করার জন্য। আপনার মন যদি খোলা থাকে, কিছু মানুষ থাকবে, যারা আপনাকে সাহায্য করবে। আমি যখন খেলার বাইরে ছিলাম, আমি তাই করেছি। আমি নিজেকে নিয়ে কাজ করেছি, নিজেকে শান্ত রাখার ব্যাপারে কাজ করেছি, নিজের মাথার যত্ন নিয়েছি। এবং ভেতরে যা হয়েছে, তার জন্যেও।“

অন্যান্য দেশের তুলনায় উপমহাদেশের ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের নিয়ে সমালোচনার মাত্রা তুলনামূলক বেশি। তা অবশ্য সমালোচনা কম, অবমাননাকর মন্তব্য বেশি বলা ভালো। শুধু রাহুল নন, এমন আরও অনেক ক্রিকেটার আছেন– যারা এসব কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন। খবর দেখা, দর্শকদের মন্তব্য দেখা থেকে নিজেদের বাইরে রেখেছেন।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

বোলারদের নিয়ে সন্তুষ্ট শান্ত, স্যান্টনার বললেন, ‘নেপিয়ারকে ভালোবাসে বাংলাদেশ’

Read Next

ছেলেরা যদি ২-৩ বছর খেলতে পারে, তারা দেখিয়ে দিবে: পোথাস

Total
0
Share