“প্রায় এক বছর আমার ফোনে কোন নিউজ আসে না”

সৌম্য 1 1

সৌম্য সরকারের খারাপ সময়টা সবার চোখে দেখা। সুযোগ, খারাপ করা, বাদ পড়া। এই চক্রে পড়ে দীর্ঘদিন বাংলাদেশের এই ক্রিকেটার নিজের দিনগুলো কাটিয়েছেন। তাঁর সম্ভাবনা নিয়ে কেউ কখনো প্রশ্ন তোলেনি, বা অনেক সময় সেই প্রশ্নও উঠত আউটের ধরণ দেখে। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে আবারও সুযোগ এসেছে, এবার সেই সুযোগের ঘাড়ে চেপে বসে সৌম্য পাড়ি দিলেন লম্বা পথ।

নেলসনে বাংলাদেশের ২৯১ রানের সংগ্রহে সৌম্যর ব্যাটে এসেছে ১৬৯ রান। বাংলাদেশ কোচ চন্ডিকার হাথুরুসিংহের প্রিয় ছাত্র হিসেবে এই বাঁহাতি ব্যাটারকে অবিহিত করা হয়। তা যে একেবারে মিথ্যা, বলা যায় না। হাথুরুসিংহে যখন প্রথমবার বাংলাদেশের কোচ এসে আসেন, সেসময় সৌম্য দেশের হয়ে রান করেছেন। নিজের দিনে তিনি কতটুকু করতে পারেন, তা দেখিয়েছেন বারবার। এবারের ইনিংসে হাথুরুসিংহের কোন টনিক কী ছিল? সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন গেল সৌম্যর কাছে।

“এরকম কোন কিছুই না, সৌম্য সৌম্যই ছিলাম। হয়তবা সে আমাকে ভালো বুঝে এজন্য ছোট এক জিনিস বলেছে যা আমার জন্য ক্লিক করেছে। আমরা কীভাবে দেখি সেটা বড় বিষয়। একটা মানুষ হেঁটে গেলে তার মধ্যে অনেক নেগেটিভিটি পাবেন। আপনি যদি কেবল নেগেটিভিটি দেখতে চান নেগেটিভিটিই দেখবেন। পজেটিভ চিন্তা করলে পজিটিভ জিনিস পাবেন। হয়ত উনি পজেটিভ জিনিসটাই চিন্তা করে।”

এত চাপ, সমালোচনা, ট্রল- সবকিছু ছাপিয়ে সৌম্য কীভাবে মাঠের খেলায় মনোযোগ রাখেন, তা নিয়ে প্রশ্ন হতে পারে। তবে এসব নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করতে চাননি তিনি। এ নিয়ে চিন্তা করলে, চাপটা বরং বাড়ত- তা সৌম্য ভালোই বোঝেন।

“আমি তো খেলোয়াড়, আমাকে খেলতেই হবে। ভালো খেললে হয়তোবা ভালো নিয়ে লিখবেন, খারাপ করলে খারাপ নিয়ে লিখবেন। এটা আপনাদের কাজ, আমার কাজ খেলা। ওগুলো নিয়ে ওইরকমভাবে অত ভাবা হয়নি। ভাবলে হয়তবা নিজের উপরই চাপ আসত। বা নিজের উপর নেতিবাচকতা বেশি আসত। আমি কেবল নিজের খেলার উপর বিশ্বাস রেখেছিলাম, আমার যে প্রক্রিয়া ছিলো সেই প্রক্রিয়ার উপর আস্থা ছিলো।”

একটা সময় দেখতেন মানুষ কী বলে, কিন্তু প্রায় এক বছর হয়ে গেল- এসব আর মাথায় নেন না সৌম্য। পজিটিভ কথাবার্তা হলে, সেখানে তিনি থাকেন- নতুবা সেই জায়গাও ত্যাগ করেন, সে বন্ধু হোক বা যেই হোক।

“একটা সময় হয়তবা দেখতাম। এখন সত্য কথা বলতে গত প্রায় এক বছর আমার ফোনে কোন নিউজ আসে না। আমার কোন বন্ধু ক্রিকেট নিয়ে কথা বললে আমি তার সঙ্গে থাকি না। যে পজেটিভ কথা বলে আমি তার সঙ্গে থাকি। ভালো-খারাপ থাকবে কিন্তু খারাপ করলে তো ক্রিকেট ছেড়ে চলে যেতে পারব না যেহেতু ক্রিকেট খেলোয়াড়। ক্রিকেটের জন্যই এতদূর আসা। ক্রিকেটের জন্য পরিশ্রম করছি। ক্রিকেট নিয়েই চিন্তা করছি।”

ক্রিকেটারদের ‘উঠা-নামা’ নিয়ে খুব বাস্তব থাকতে চাইলেন সৌম্য। এটা এক স্বাভাবিক ব্যাপার হিসেবেই দেখেন তিনি। প্রতিদিন ভালো হয় না কিছু। আর যদি খারাপ নিয়ে কেউ পড়ে থাকে, তবে তাঁর আর সামনে যাওয়া হয়ে ওঠে না। নিজেদের পিছিয়ে পড়ার অন্তরায় হয়ে দেখা দেয় এসব চিন্তা, তাই সব ভাবনা এড়িয়ে ইতিবাচক চিন্তা যা করা যায়- ততটুকু করেই সামনে এগিয়ে যেতে চান সৌম্য।

“উঠা-নামা কী ভাই…. ক্রিকেট খেলোয়াড় প্রত্যেক দিন ভালো খেলবে না। আপনি যেমন একটা মানুষ প্রত্যেকদিন ভালো খাবার প্রত্যাশা করেন না। আমরাও খেলোয়াড়রা প্রত্যেক দিন ভালো প্রত্যাশা করি না। আমরা ক্রিকেটাররা হাসার থেকে বেশি কাঁদি। আমরা যখনই খেলি একটা দুইটা ম্যাচ ভালো খেললে বাকিটা খারাপই যায়। এটা নিয়ে পড়ে থাকি তাহলে নিজেরাই পিছিয়ে যাব। পজেটিভ যেগুলো আছে সেগুলো নিয়েই চিন্তা করা হয় বেশি। কীভাবে সামনে আরও ভালো করা যায় সেইভাবেই ফোকাস করা হয় বা চিন্তা করা হয়। এরমধ্যে কতটুকু পারফেক্ট করার চেষ্টা করি, সেটা নিয়েই এগোতে চাই আমরা।”

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

সেঞ্চুরি বিফল মনে হচ্ছে সৌম্যর

Read Next

বাবর দখলে নিলেন শীর্ষস্থান, টি-টোয়েন্টির সেরা বোলার আদিল

Total
0
Share