সেঞ্চুরি বিফল মনে হচ্ছে সৌম্যর

সৌম্য সরকাrর

সৌম্য সরকার! এই নামের সাথে বাংলাদেশ ক্রিকেট সবচেয়ে বেশি পরিচিত হয়েছে ২০১৫ সালে। সেই সৌম্যকে নিয়ে আশায় বুক বাঁধা বাংলাদেশি সমর্থকেরা বারবার হতাশ হয়েছেন। তিনি ফিরতেন, কিন্তু যেভাবে নিজের নামের প্রতি অবিচার করতেন- তাতে তাঁকে নিয়ে বেশি কিছু চাওয়ার আশা ছেড়েই দিয়েছিল ক্রিকেটপ্রেমীরা। আর আজ, নেলসনে অনেকদিন বাদে- সেই সৌম্যর দেখা মিলল যেন। দল হেরেছে ঠিক, কিন্তু সৌম্যর ব্যাটে চড়েই বাংলাদেশের রান ৩০০ ছুঁইছুঁই হয়।

২০১৫ সাল বাংলাদেশি সমর্থকদের ভালোই মনে থাকার কথা। সেবার পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে ঘরের মাটিতে সিরিজ হারিয়েছিল লাল-সবুজের দল। বাঁহাতি ব্যাটার সৌম্যের ভয়-ডরহীন সব শট থেকে তাক লেগে যায় দর্শকদের মন ও চোখ। অপরপ্রান্ত থেকে কে ছুটে আসছে বল হাতে, তা যে কোন বিবেচ্য ছিল না। সৌম্য হয়ে উঠতেন ভয়ংকর!

সে বছর ৫১.৬৯ গড়, ১ সেঞ্চুরি, ৪ হাফ সেঞ্চুরি নিয়ে সৌম্য ৬৭২ রান করেন।

আজ, নেলসনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে ১৫১ বল খেলে ১৬৯ রানের ইনিংস গড়েছেন। বাংলাদেশের টপ-অর্ডার যখন ব্যর্থ হয়েছে, সৌম্য একাই দাঁড়িয়ে ছিলেন একপাশে। ২২ টি চার, ২ টি ছয় এসেছে তাঁর সেই স্টিকার-ছাড়া ব্যাটে। বাংলাদেশের রান গিয়ে থেমেছে ২৯১ এ, যদিও এ রান মোকাবিলা করে ৭ উইকেটের জয় নিশ্চিত করতে খুব একটা কষ্ট হয়নি নিউজিল্যান্ডের। তাই নিজের সেঞ্চুরিটা বিফল মনে হচ্ছিল সৌম্যর, বললেন সংবাদ সম্মেলনে।

“অবশ্যই সেঞ্চুরিটা বিফল মনে হচ্ছে। যদি ম্যাচ জিততাম তাহলে ভালো লাগত নিজের কাছে। ব্যক্তিগতভাবে যদি বলেন হ্যাঁ, ভালো লাগছে। কিন্তু দিনশেষে , এটা দলীয় খেলা। দল জিতত তাহলে পরিপূর্ণ হতো, ভালো স্মৃতি থাকত। আমাদের আর্লি কিছু উইকেট চলে গেছে। সেটা যদি না যেত তাহলে হয়তো আমাদের একটা জুটি ওখানে হলে মুশি ভাই বা মিরাজ এসে আগাত। আবার মুশি ভাই বা মিরাজ এসে যখন আউট হয়েছে তখন আউট না হলে রানটা বাড়তি হতো। আরও ৪০-৫০ রান যদি যোগ করতে পারতাম তাহলে চিত্রটা ভিন্ন হতো। এটা বোধহয় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান কিন্তু মুশি ভাই বা মিরাজ ক্লিক করলে আরও লম্বা হতো।”

আজকের ইনিংস, বাংলাদেশের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত- যেখানে প্রথম অবস্থানে আছেন লিটন দাস, ১৭৬ রান করে। সৌম্য জানিয়ে রাখলেন, পরের ম্যাচেও হতে পারে সেঞ্চুরি। আফসোসও আছে তাঁর, যখন জাতীয় দলে প্রবেশ করেন, আশা ছিল আর বের হতে হবে না। কিন্তু তা হয়নি। এখন সামনে তাকাতে চান, নিজেকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে চান, যতটুকু পারেন।

“পরের ম্যাচেই হতে পারে (সেঞ্চুরি)। আফসোস বলতে…অবশ্যই যেদিন জাতীয় দলে প্রবেশ করি, চাই নাই যে আর বের হবো। এখান থেকেই অবসরে যাব, এটাই তো ইচ্ছা থাকে সবার। কখনো নিজের থেকে খারাপ খেলতে চাই নাই। তো চাইব যে আগামীতেও এইভাবে কন্টনিউ করতে পারি। যতটুকু পারি চেষ্টা করব এগিয়ে যাওয়ার।”

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

প্রায় ১৭ মিনিটের নিলাম, কল্পনাও করেননি স্টার্ক!

Read Next

“প্রায় এক বছর আমার ফোনে কোন নিউজ আসে না”

Total
0
Share