প্রায় ১৭ মিনিটের নিলাম, কল্পনাও করেননি স্টার্ক!

স্টার্ক কামিন্স

এমন কিছু কল্পনাও করেননি স্টার্ক! গতকাল (১৯ ডিসেম্বর) দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল আইপিএলের নিলাম। সেখানে পূর্বের সব রেকর্ড ভেঙে আইপিএলের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান ফাস্ট বোলার মিচেল স্টার্ক। তাঁর আরেক সতীর্থ অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স একই রেকর্ডের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যা ভাঙতে খরচ হয়নি দুই ঘণ্টাও।

স্টার্ক তখন সিডনিতে। নিজের বাড়িতে সময় পার করছেন। বাড়ির লনের ঘাস কাটা, কুকুরদের নিয়ে হাঁটতে বের হওয়া, কিছু বাজার সদাই করা, নিজের জন্য রাতের খাবার তৈরি করা– এসব নিয়েই গতকাল ব্যস্ত ছিলেন তিনি।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) তাঁর নাম উঠবে, এ নিয়ে কিছুটা উত্তেজনা সহযোগে অপেক্ষা ছিল স্টার্কের। তাঁর বন্ধু ও সতীর্থ, কামিন্স এদিকে রেকর্ড ২০.৫ কোটি রুপিতে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের দখলে চলে গেছে। যা আগের সব নিলামের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।

গতকাল নিলাম শুরুর প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর, তাঁর নাম উঠল। খেলোয়াড় নম্বর ২৮, স্টার্ক। কেউ ভাবেনি নিলামের এই ডাক এতদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে যাবে। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও দিল্লি ক্যাপিটালস দিয়ে শুরু হয়। ডাক যখন ৯.৪ কোটিতে, দিল্লি সেখান থেকে বের হয়ে আসে।

কোলকাতা নাইট রাইডার্স এই ডাকে অংশ নেয় ৯.৮ কোটি রুপি দিয়ে। কোলকাতা স্টার্ককে চাইবে এ জানা কথা ছিল, যেভাবে ২০১৮ সালেও চেয়েছিল। যদিও পরে ইনজুরির কারণে সে আসর খেলা হয়নি স্টার্কের।

মুম্বাই যখন ডাক থেকে সরে যায়, কোলকাতার সাথে প্রতিযোগিতা করতে নামে গুজরাট টাইটান্স। কামিন্সের প্রাইস ট্যাগের কাছাকাছি চলে যাওয়ার ব্যাপারে দুই ফ্র‍্যাঞ্চাইজি বেশ তোরজোড় দেখায়। যখন স্টার্কের মূল্য কামিন্সকে ছাড়িয়ে যায়, নিলামের সেই ঘরটিতে বেশ খানিকটা উত্তেজনাও ছড়িয়ে পড়ে।

প্রায় ১৭ মিনিটের ডাক শেষ হলে, স্টার্ককে ২৪.৭৫ কোটি রুপি দিয়ে কোলকাতা নাইট রাইডার্স নিজেদের করে নেয়। আর ঠিক তখন কামিন্সকে কেনা হায়দ্রাবাদের ২০.৫ কোটি রুপির রেকর্ড ভেঙে যায়। একই নিলাম অনুষ্ঠানে আর খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে।

স্টার্কের সহধর্মিণী অ্যালিসা হ্যালি, যিনি অস্ট্রেলিয়া নারী ক্রিকেট দলের একজন সদস্য। তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন নারী দলের সফরে। সেখান থেকে স্টার্কের কাছে খবর পৌঁছে দিচ্ছিলেন তিনি।

গতকালের নিলাম-কাণ্ড নিয়ে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে ৩৩ বছর বয়সী এই অজি ফাস্ট বোলার জানান,

“আমি নিশ্চিত না, কোনো শব্দ আসলে সঠিক হবে কি না।”

“অ্যালিসা সেখানে অস্ট্রেলিয়া দলের সাথে ছিল। তাঁর কভারেজ আমার এখানে, অস্ট্রেলিয়া থেকে কিছুটা এগিয়ে। তো সে আমার আগেই নম্বরগুলো দেখছিল। আর আমি তাঁর কাছ থেকে আপডেট পাচ্ছিলাম। কিন্তু, হ্যাঁ! বেশ খানিকটা শক হয়েছি, আবার কিছুটা উত্তেজনাও– যেভাবে পুরোটা উন্মোচন হচ্ছিল। তবে এটা আমি কখনোই কল্পনা করতে পারিনি। কেকেআর এ যোগ দিতে পেরে অনেক বেশি রোমাঞ্চিত।”

স্টার্ক, রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে শুধু দুই আসরে আইপিএল খেলেছেন; ২০১৪ ও ২০১৫ সালে। এরপর তাঁর ওয়ার্কলোডের কথা চিন্তা করে, কয়েকবছর আইপিএলের নিলাম থেকে দূরে ছিলেন।

পরে ২০১৮ সালে আবার নিলামে ফেরত আসলে, কোলকাতা নাইট রাইডার্স তাঁকে দলে ভিড়িয়ে নেয়। কিন্তু ইনজুরির কারণে সেবারও আইপিএল খেলা হয় না এই অজি ফাস্ট বোলারের। আবারও ৬ আসর পর স্টার্কের কাছে সুযোগ এসেছে কোলকাতার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

সৌম্যকে প্রশংসা বন্যায় ভাসালেন কিউই ব্যাটার

Read Next

সেঞ্চুরি বিফল মনে হচ্ছে সৌম্যর

Total
0
Share