প্রথম জয়ের খুব কাছে বাংলাদেশ

তাইজুল বাংলাদেশ

অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত অভিষেকেই ইতিহাস ছোঁয়ার পথে। ঘরের মাঠে বাংলাদেশ দলও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়ের খুব কাছে দাঁড়িয়ে অপেক্ষায়… বড় জয় তুলে নেওয়ার ছবি আঁকছে শান্তর এই টেস্ট দল। স্মরণীয় টেস্ট জয় দিচ্ছে হাতছানি, যা সাক্ষী হচ্ছে অনেক ‘প্রথম’ এর। কাল অস্বাভাবিক কিছু না হলে সিলেটের বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়, অধিনায়ক শান্তর প্রথম টেস্ট জয়, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হোমে প্রথম টেস্ট জয় নিশ্চিত।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই অতীত অভিজ্ঞতা ছিল তিক্ততায় ভরা। সেই কিউইদের নিয়ে এবার ছেলেখেলা করছে বাংলাদেশ। কী ব্যাটিং, কী বোলিং—দুই বিভাগেই বাংলাদেশের আধিপত্য! তাতে সিলেট টেস্টে জয়ের সুবাস বাংলাদেশ শিবিরে। জয়ের অপেক্ষায় থেকে টেস্টের চতুর্থ দিন শেষ করল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ৭ উইকেটে হারিয়ে নিউজিল্যান্ডের রান ১১২। এখনও তারা পিছিয়ে ২১৯ রানে, হাতে বাকি কেবল ৩ উইকেট।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে আগের দুই আসরে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল তলানীতে। আজ বোলারদের দাপট দেখে শতভাগ নিশ্চিত হয়েই বলা যায়, নতুন চক্র জয় দিয়ে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের। টেস্টের শক্তিমত্তা ও অভিজ্ঞতার বিচারে বাংলাদেশের থেকে ঢের এগিয়ে নিউজিল্যান্ড। তবুও স্বাগতিকদের কাছে পাত্তা পাচ্ছে না টিম সাউদির শক্তিশালী দল। সাকিব আল হাসান নেই, নেই তামিম ইকবালও। এ দুজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে ছাড়াই বাংলাদেশ দল ঘরের মাঠে বড় জয়ের সামনে দাঁড়িয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শেষ করল। 

৩৩২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ভীষণ চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। ইনিংসের প্রথম ওভারেই সাফল্য আসে বাংলাদেশের। শরিফুল ইসলামের পেস তান্ডবে নাজেহাল হয়ে টম লাথাম ক্যাচ তুলেন উইকেটকিপারের গ্লাভসে। ডাক হয়ে ফিরে যাওয়া লাথাম আগের ইনিংসে অবশ্য করেন ২১ রান। উড়তে থাকা বাংলাদেশ দ্রুতই ফিরিয়ে দেয় কেন উইলিয়ামসনকে। আগের ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জ জানানো কেন এই ইনিংসে জ্বলে উঠার সুযোগই পাননি। 

১১ রানে থাকা কেন উইলিয়ামসনকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন তাইজুল ইসলাম। জোরাল আবেদনে আম্পায়ার আঙুল উঁচিয়ে আউট দেন, উইলিয়ামসন অবশ্য রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি। এরপর হেনরি নিকোলসের উইকেট তুলে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। শর্ট ফাইন লেগে দাঁড়িয়ে দারুণভাবে ক্যাচ লুফে নেন নাইম হাসান। ব্যক্তিগত ২ রানে নিকোলস বিদায় নিলে ৩০ রানে ৩ উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। 

এরপর ৬০ রান তুলতেই পাঁচ উইকেট হারিয়েছে কিউইরা। বিশাল লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে তারা যেন দিশেহারা। ধুঁকতে থাকা ডেভন কনওয়েকে ইনিংস বড় করতে দেননি তাইজুল ইসলাম। ভাঙলেন তার প্রতিরোধ, ব‍্যাটের কানা ছুঁয়ে প‍্যাডে লেগে বল চলে যায় শাহাদাত হোসেন দিপুর হাতে। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে ৭৬ বলে তিন চারে কনওয়ে করেন ২২ রান। এরপর টম ব্লান্ডেলকেও সাজঘরের পথ দেখান তাইজুল, উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে কেবল ৬ রান। 

প্রথম ইনিংসের ‘অভাগা’ নাইম হাসান আজও বল হাতে দুর্দান্ত। কিন্তু কিছুতেই মিলছিল না তার উইকেটের দেখা। অবশেষে গ্লেন ফিলিপসকে এলবিডব্লিউ করে জোরাল আবেদন। আম্পায়ার সাড়া দেননি, অধিনায়কও শেষ সময়ে গিয়ে নেন রিভিউ। সাফল্য আসে নাইমের পক্ষে, ১২ রানে থাকা ফিলিপস হাটা ধরেন ড্রেসিংরুমে। দলীয় ৮২ রানে ৬ষ্ঠ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ হারের পথে এগিয়ে চলে কিউইরা। 

এরপর কাইল জেমিসনকেও ফিরিয়ে দিলেন তাইজুল। এই উইকেট নিয়েই তাইজুল পৌঁছান আরেক কীর্তিতে। এক টেস্টের দুই ইনিংসেই ফোর-ফার শিকারের মাইলফলক। 

ড্যারিল মিচেল ও

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের অধিনায়ক হতে পারেন রোহিত

Read Next

‘তবে আমারে বুড়ো বানায়ে দিয়েন না’

Total
0
Share