টানা জয়ে টেবিলের পাঁচে আফগানিস্তান

আফগানিস্তান 2

পাকিস্তানের পর শ্রীলঙ্কাকেও উড়িয়ে দিল আফগানরা। ৬ ম্যাচে তিন জয় নিয়ে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাকে টপকে আফগানিস্তান এখন পয়েন্ট টেবিলের পাঁচে। বল হাতে ফজলহক ফারুকির দাপটের পর ব্যাটারদের দায়িত্বশীল ইনিংসে সহজেই আফগানিস্তান পায় ৭ উইকেটের জয়। প্রথমবার আইসিসির কোনো ইভেন্টে আফগানিস্তানের কাছে হার দেখল শ্রীলঙ্কা। ৩.৪০ ইকোনমিতে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেওয়া ফারুকির হাতে উঠল ম্যাচসেরার পুরষ্কার।

এবারের ভারত বিশ্বকাপ স্বপ্নের মতো কাটাচ্ছে আফগানিস্তান। আগের কোনো আসরেই এবারের মতো পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি দলটি। বিশ্বকাপের এক আসরে তাদের সর্বোচ্চ জয়। আফগানরা আছে সেমির খুব কাছে।

পুনের মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে এদিন টস জিতেন আফগান অধিনায়ক রহমত শাহ। সিদ্ধান্ত নেন আগে বোলিং করার। প্রত্যাবর্তন ম্যাচেই বাজিমাত করেন পেসার ফজল হক ফারুকি। ইনিংসের শুরুতেই লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন ১৫ রানে থাকা দিমুথ করুণারত্নেকে। এরপর অবশ্য পাথুম নিসাঙ্কা ও কুশল মেন্ডিসের ব্যাটে লঙ্কানরা পায় স্বস্তি।

তবে ৬২ রানের এই জুটি ভাঙে ব্যক্তিগত ৪৬ রানে নিসাঙ্কার বিদায়ে। আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের শিকার হয়ে ফেরা নিসাঙ্কার আক্ষেপ ৪ রানের জন্য। এরপর অধিনায়ক কুশল মেন্ডিসকে এসে দারুণভাবে সঙ্গ দেন সাদিরা সামারাবিক্রমা। এই জুটিতে আসে বরাবর পঞ্চাশ রান। মুজিবের বলে ক্যাচ তুলে ফেরেন ৩৯ রান করা মেন্ডিস। নিজের পরের ওভার করতে এসে মুজিব তুলে নেন সাদিরার উইকেটও। ৪০ বলে ৩৬ করা সাদিরা সামারাবিক্রমা রিভিউ নিয়েও এলবিডব্লিউর উইকেট বাঁচাতে পারেননি।

রাশিদ খান এদিন পুনেতে প্রথম উইকেটের দেখা পান ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে ফিরিয়ে। বোল্ড হয়ে ফেরার আগে ধনঞ্জয়ার ব্যাট থেকে আসে ১৪ রান। ফারুকির দ্বিতীয় শিকার ২০ রানে থাকা চারিথ আসালাঙ্কা। রান আউটে কাটা পড়েন দুশমান্থ চামিরা (১)। ৩১ বলে ২৯ রানের ইনিংস খেলে মাহিশ থিকশানা বাড়িয়ে যান দলের সংগ্রহ।

ফজলহক ফারুকির চতুর্থ শিকার বনে যান অভিজ্ঞ অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। ৪৯ তম ওভারে নামের পাশে ২৩ রান নিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন ম্যাথুস। শেষ ব্যাটার হিসেবে উইকেটে থাকা কাসুন রাজিথা হন রান আউট। নির্ধারিত ওভারের ৩ বল আগেই শ্রীলঙ্কার ইনিংস থামে ২৪১ রানে।

আফগানদের হয়ে বল হাতে এদিন সেরা ফিগারে ফজলহক ফারুকি। ১০ ওভারে মাত্র ৩৪ রান খরচায় দখলে নেন ৪ উইকেট। এছাড়া মুজিব দুই উইকেট পেলেও রাশিদের ঝুলিতে ১ উইকেট।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুর এভারেই আফগানিস্তান হারায় রহমানউল্লাহ গুরবাজকে। দলের অন্যতম সেরা ব্যাটার হয়েছেন ডাক। দিলশান মাদুশাঙ্কা স্টাম্প তুলে শ্রীলঙ্কাকে এনে দেন ব্রেকথ্রু। আরেক ওপেনার ইব্রাহিম জাদরান এরপর লড়াই চালান তিনে নামা রহমত শাহকে নিয়ে। এই দুইয়ের ব্যাটে স্কোরবোর্ডে যোগ হয় ৭৩ রান। ২৭ ওভার পর মাদুশাঙ্কার হাতেই ফের ব্রেকথ্রু লঙ্কানদের।

৩৯ রানের ইনিংস খেলে ইব্রাহিম জাদরান আউট হলে ভাঙে জুটি। এরপর অধিনায়ক এসে টানতে থাকেন দলকে। রহমত শাহ, হাশমতউল্লাহ মিলে যোগ করেন ৫৮ রান। এই জুটিতেই জয়ের পথে এগিয়ে যায় আফগানরা। ৬১ বলে ফিফটি হাঁকিয়ে রহমত শাহ প্যাভিলিয়নে যান ৬২ রানে।

এরপর অধিনায়কোচিত ইনিংসে হাশমতউল্লাহ আফগানিস্তানকে সহজেই নিয়ে যান জয়ের বন্দরে। তার ব্যাট থেকে পঞ্চাশ রান আসে ৬৭ বলে। বিপরীতে আজমতউল্লাহ ওমরজাই শুরু থেকেই ছিলেন মারমুখী। এই দুইয়ের ১১১ রানের হার-না-মানা জুটিতে ২৮ বল বাকি থাকতেই আফগানিস্তান ম্যাচ জিতে নেয় ৭ উইকেটে।

আজমতউল্লাহ ওমরজাই ফিফটি পূর্ণ করেন ৫০ বলে। এরপর রানের গতি বাড়িয়েছেন আরও। দলকে জিতিয়ে যখন মাঠ ছাড়েন তার সংগ্রহে ৭৩ রান, বিপরীতে হাশমতউল্লাহর ইনিংস ৫৮ রানের।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

বিশ্বকাপের মাঝেই ইনজামামের পদত্যাগ

Read Next

পাকিস্তানের বিশ্বকাপ দল বাছাই নিয়ে এবার তদন্ত কমিটি গঠন

Total
0
Share