সাকিব-তামিমের অন্যরকম অর্ধশতক

featured photo1 77
Vinkmag ad

কিছুদিন আগ পর্যন্তও বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডারে ভরসা হয়ে ছিলেন শুধুই তারা দু’জন। সেখানে এখন পারফরম্যান্স দিয়ে অনেকেই তাদের পাশে জায়গা করে নিয়েছেন। তবুও আলাদা করে চেনা যায় এই দুজনকে। বাংলাদেশের সেরা দুই পারফরমার, বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা দুই রোল মডেল। সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল।

জাতীয় দলের সতীর্থ এই দুই বন্ধু আগামীকাল (রবিবার) অস্ট্রেলিয়ার সাথে ম্যাচ দিয়ে স্পর্শ করতে যাচ্ছেন টেস্ট ক্রিকেটের অর্ধশতাধিক ম্যাচ খেলার মাইলফলক।

Shakib and Tamim
ছবিঃ সংগৃহীত

তামিম-সাকিবকে দিয়ে টেস্টের এই অভিজাত সংস্করণে প্রায় দেড় যুগে বাংলাদেশের হয়ে এই মাইলফলক ছোঁয়া ক্রিকেটারের সংখ্যা হতে যাচ্ছে পাঁচ। এর আগে এই স্বাদ পেয়েছিলেন হাবিবুল বাশার, মোহাম্মদ আশরাফুল ও মুশফিকুর রহিম’রা।

দুজনেরই ক্যারিয়ারের শুরু প্রায় একইরকম ভাবে। দুজনেরই অভিষেক হয় ওয়ানডে ক্রিকেট দিয়ে। ৫০ ওভারের ম্যাচে অভিষেকের ৯ মাস পর ২০০৭ সালের মে মাসে সাকিব পান টেস্ট ক্যাপ, ভারতের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্ট দিয়ে। ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ডানেডিন টেস্ট দিয়ে অভিষেকের ১১ মাস পর টেস্ট ক্যাপ পরেন তামিম ইকবাল।

টেস্টের জগতে দুজনের শুরুটা অবশ্য ছিল ভিন্ন। শুরুর তিন টেস্টে উইকেটই পাননি সাকিব। ব্যাট হাতেও ছিল না বলার মত অবদান। ভারতের বিপক্ষে দুটি টেস্টের পর শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়ে একটি টেস্ট খেললেন। পরের দুই টেস্টে বাদ। পরের বছর নিউজিল্যান্ড সফরের শুরুতেও ছিলেন একাদশের বাইরে।

নিউজিল্যান্ড সফরে যে টেস্টে একাদশের বাইরে সাকিব, সেটি দিয়েই অভিষেক হয় তামিমের। ডানেডিনের কঠিন কন্ডিশন ও উইকেটে প্রথম ইনিংসে তামিম করেন ৫৩। দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ৮৪, আরেক অভিষিক্ত জুনায়েদ সিদ্দিকের সঙ্গে গড়েন ১৬১ রানের জুটি। সেদিনের পর থেক আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তামিমের।

নিউজিল্যান্ডে দ্বিতীয় টেস্টে একাদশে ফিরলেন সাকিবও। বাংলাদেশের একমাত্র বোলার হিসাবে সেদিন পেলেন ইনিংসে দুই উইকেট, দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে করলেন অপরাজিত ৪১। তারপর থেকেই একাদশে নিয়মিত হয়ে গেল তার জায়গাটাও। দু’জন তালমিলিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে গেছেন। তাদের হাত ধরে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটও।

প্রথম ৬ টেস্টে মাত্র ৩টি উইকেট নিয়েছিলেন সাকিব। তখনও তার পরিচয় ব্যাটিং অলরাউন্ডার। দেশের মাটিতে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০০৮ সালের সিরিজের আগে সেই সময়ের হুট করেই বাংলাদেশের তৎকালীন কোচ সাকিবকে আক্ষায়িত করেন ‘স্পেশালিস্ট স্পিনার’ হিসাবে। কোচের কথার সার্থকতা প্রমাণ করতেই যেন চট্টগ্রামে ৩৬ রানে ৭ উইকেট নিয়ে সাকিব গড়লেন বাংলাদেশের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড। চট্টগ্রামে ওই টেস্টেই প্রথমবারের মত সাদা পোশাকে হাফসেঞ্চুরি করেন সাকিব। প্রথম ইনিংসে ৭১, পরের ইনিংসে করেন ৪৯ রান। এর কদিন পর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়ে পরপর দুই টেস্টে ৫ ও ৬ উইকেট নেন। সাকিব নিত্য নিজেকে নিয়ে যেতে থাকেন অন্য উচ্চতায়।

অভিষেকে জোড়া ফিফটির পর তামিমের রানের গ্রাফ হয়ে যায় নিম্নমুখী। টানা ১৭ ইনিংস পঞ্চাশ নেই! সেই খরা কাটে ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে। সেন্ট ভিনসেন্ট টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে দারুণ সেঞ্চুরি করে গড়ে দেন দলের জয়ের ভিত।

অভিষেকের পর থেকে কেবল দুটি টেস্ট খেলতে পারেননি তামিম, সেটাও চোটের কারণে। শুরুর দিকে কিছু টেস্টে বাদ পড়ায় আর পরে চোটের জন্য সাকিবের খেলা হয়নি ৭ টা টেস্ট।

সাকিব-তামিমের ক্যারিয়ারে সুসময়ের পাশাপাশি দুজনেরই এসেছে দুঃসময়। সাকিব নিয়মিত অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন, তামিম পেয়েছেন তার সহকারী। বিতর্কিতভাবে সেটি কেড়ে নেওয়াও হয়েছে। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে এগিয়ে গেছেন তারা দু’জনও।

ক্রিকেটের চিরকালীন নিয়মেই কখনও কখনও ঢুকতে হয়েছে অন্ধকার গলিতে। তবে পরক্ষণেই দু’জন আবার উদ্ভাসিত হয়েছেন আলোয়, ভাসিয়েছেন সাফল্যের বন্যায়।

টাইগার ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় দুই নায়ক আবার এক বিন্দুতে মিলছেন, আগামীকাল অস্ট্রেলিয়ার সাথে ম্যাচ দিয়ে ৫০তম টেস্ট খেলতে নামবেন দু’জনেই। উপহার তারাই দিতে পারেন দেশকে, পেতে পারেন নিজেরাও। তাদেরকে দিতে পারে সতীর্থরা, তারা দিতে পারেন সতীর্থদের। দরকার এই সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার সাথে শুধু একটি জয়।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

কথার লড়াই শেষে এবার মাঠের লড়াই

Read Next

ইংল্যান্ডের হয়ে শেষের ঘোষণা কেভিন পিটারসেনের

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
0
Share