শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ, পাকিস্তানকে হতাশ করে ফাইনালে শ্রীলঙ্কা

শ্রীলঙ্কা

১১তম বারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কা। ফাইনালে যাওয়ার লড়াই। কেউ কেউ বলছেন অঘোষিত সেমিফাইনাল। রিজওয়ান-ইফতিখারের শত রানের জুটিতে লঙ্কানদের জন্য লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায় ২৫২ রানের। সেই লক্ষ্যমাত্রা ভেদ করতে গিয়ে মেন্ডিস-আসালাঙ্কা মিলেও গড়লেন সমান ১০০ রানের জুটি। আসালাঙ্কা টিকে রইলেন জয়ের শেষ সীমানা পর্যন্ত। ২ উইকেটের স্মরণীয় জয়ে, ১১ তম বারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কা।

৪২ ওভারের ম্যাচ। দুই দলের একাদশে ছিল পরিবর্তন। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বৃষ্টির কারণে ম্যাচ শুরু হতে কিছু বিলম্ব হয়। খেলার মাঝেও একবার বৃষ্টি বাগড়া দেয়। প্রথমে ব্যাট করতে নামা পাকিস্তান ২৫২ রান করতে সক্ষম হয় নির্ধারিত ওভারে। সেখানে মোহাম্মদ রিজওয়ান খেলেছেন ৮১ রানের ইনিংস। লঙ্কানদের জন্য লক্ষ্য ছিল ২৫২ রানের-ই। কুশল মেন্ডিসের ৯১ রানের ইনিংস, শেষদিকে চারিথ আসালাঙ্কার সাহসী ব্যাটিংয়ের উপর ভর দিয়ে নিজেদের লক্ষ্যকে সহজ করে ফেলে লঙ্কানরা। যদিও পুরো ম্যাচেই তা সহজই ছিল স্বাগতিকদের জন্য। শেষ দিকে কিছুটা চাপে পড়লেও আসালাঙ্কার দৃঢ় মনোভাব লঙ্কানদের জয়ের পথ সহজ করে দেয়।

২৫৩ রানের লক্ষ্য বৃষ্টি-আইনে ১ রান কমে ২৫২ রান হয়। সেই লক্ষ্য মোকাবিলা করতে গিয়ে শ্রীলঙ্কার শুরুটা বেশ ভালোই হয়। পাওয়ারপ্লে-তে শুধুমাত্র কুশল পেরেরার রানআউট ছিল দুঃখজনক। একাদশে ফেরা পেরেরা দারুণ খেলছিলেন। ৪ টি বাউন্ডারি মেরে তাঁর রান যখন ১৭, শাদাব খানের এক দুর্দান্ত থ্রো-তে ফিরতে হয় তাঁকে। ৯ ওভারের পাওয়ার-প্লেতে ১ উইকেট হারিয়ে ৫৭ রান তুলতে সক্ষম হয় স্বাগতিক দল।

দলীয় ৭৭ রানে নিজের বলে নিজেই ক্যাচ ধরে পাথুম নিশাঙ্কাকে তালুবন্দি করেন শাদাব। ফলে লঙ্কানদের দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটে। পরের সময়টুকু রূপকথার মতো ব্যাট করতে থাকেন কুশল মেন্ডিস ও সাদিরা সামারাবিক্রমা। ৯৮ বলে ১০০ রানের জুটি গড়েন। সামারাবিক্রমা ইফিতিখারের বল স্টেপ-আউট করে খেলতে গেলে ৪৮ রান করেই ফিরতে হয়। এই শত রানের জুটি লঙ্কানদের ভিত গড়ে দেয়। জয়ের পথ সহজ করে দেয়।

মেন্ডিস নিজের দায়িত্ব আগলেই খেলছিলেন। নতুন ব্যাটার চারিথ আসালাঙ্কা শুরু থেকেই কিছুটা অ্যাটাক করতে চাইলেন। ইফতিখারের বলে নব্বইয়ের ঘরে এসে মেন্ডিসকেই আবারও ফিরতে হলো, হারিস নিলেন অসাধারণ এক ক্যাচ। এশিয়া কাপে দ্বিতীয়বারের মতো নব্বইয়ের ঘরে আউট হলেন মেন্ডিস। ৮৭ বলে ৯১ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে বিদায় নিলেন এই ব্যাটার।

অধিনায়ক দাসুন শানাকা আসালাঙ্কার সঙ্গী হিসেবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ইফতিখারের বলেই অসংলগ্ন শট খেলে বিদায় নিয়েছেন মাত্র ২ রান করে। দলীয় রান তখন ৫ উইকেট হারিয়ে ২২২। তখনো ২৪ বলে ২৮ রান প্রয়োজন জিততে। কিছুটা চাপ বোধহয় সেসময় বোধ করতে থাকে লঙ্কানরা।

৪১ তম ওভারে শাহীনের পর পর দুই বলে ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ও দুনিথ ওয়েল্লালাগে ফিরে গেলে আবারও কিছুটা চাপ তৈরি হয় লঙ্কানদের জন্য। নতুন ব্যাটার প্রমোধ মধুশান। শেষ ৬ বলে প্রয়োজন ৮ রান। বোলিংয়ে অভিষিক্ত জামান খান। প্রথম বলেই আসালাঙ্কাকে স্ট্রাইক দেয় মধুশান। দ্বিতীয় বল ডট দেওয়ার পর তৃতীয় বলে আসালাঙ্কা একটি সিঙ্গেল খেলেন। তবে চতুর্থ বলেই বাঁধে বিপত্তি। ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউটের শিকার হন মধুশান।

২ বলে তখন প্রয়োজন ৬ রান। নাটকীয়তা তখনো বাকি। জামান খানের পরের ডেলিভারি এজ হয়ে থার্ড ম্যান অঞ্চল দিয়ে চার হয়ে যায়। শেষ বলে ২ রান প্রয়োজন লঙ্কানদের। আসালাঙ্কার ফাইটিং-স্পিরিট তখনো বাকি ছিল। চমৎকারভাবে স্কয়ার-লেগে ঠেলে দিয়ে সহজেই ২ টি রান তুলে নেন মাথিশা পাথিরানার সাথে। শ্রীলঙ্কা তাঁদের কাঙ্ক্ষিত জয় পায়।

পাকিস্তানের বোলারদের পক্ষে, ইফতিখার আহমেদ নিয়েছেন ৩ উইকেট। শাহীন শাহ আফ্রিদি পেয়েছেন ২ টি উইকেট। শাদাব খান নিয়েছেন ১ টি উইকেট।

এর আগে পাকিস্তান টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। ওপেনিংয়ে বরাবরের মতোই ফখর জামান হতাশ করেছে। ফিরেছেন মাত্র ৪ রান করে। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে অধিনায়ক বাবর আজম ও একাদশে সুযোগ পাওয়া ওপেনার শফিক মিলে শুরুর ধাক্কা কাটানোর চেষ্টা করেন। ৬৪ রানের জুটি গড়লে, বাবর ফিরে যান দুনিথ ওয়েল্লালাগের ডেলিভারিতে, স্টাম্পিং হয়ে। ৩৫ বলে ২৯ রানে।

মোহাম্মদ রিজওয়ান এসে শফিককে সঙ্গ দেন। এই ওপেনার এরমধ্যে নিজের অর্ধশতক পূরণ করেন। মাথিশা পাথিরানার শর্ট ডেলিভারিতে পুল করতে গিয়ে টপ এজ হয়ে ৫২ রানে ফিরতে হয় শফিককে। মিডল-অর্ডারে হারিস ও নওয়াজ দুজনেই হতাশ করেছেন। ৩ ও ১২ রান তুলেছেন যথাক্রমে।

একপ্রান্তে দৃঢ় চিত্তে ব্যাট করে যাচ্ছিলেন রিজওয়ান। তাঁকে সঙ্গ দিচ্ছেন তখন ইফতিখার আহমেদ। দুইজন মিলে শত রানের জুটি গড়েন। নির্ধারিত ওভারের আগে, ৪১ তম ওভারে ইফতিখার ফিরলেন ৪৭ রান করে৷ হলো না অর্ধশতক। ফলে ১০৮ রানের জুটি ভেঙে যায়। দলীয় রান তখন ৬ উইকেট হারিয়ে ২৩৮ রান।

নতুন ব্যাটার শাদাব খান এসে শেষ ওভারে মধুশানের ডেলিভারিতে কুশল মেন্ডিসের দারুণ ক্যাচে ফিরলেন। মোহাম্মদ রিজওয়ান ছিলেন শেষ পর্যন্ত। শতক পূরণ হয়নি। তবে ভূমিকা রাখলেন দলের সংগ্রহ তুলতে। অপরাজিত থাকলেন ৭৩ বলে ৮৬ রানের ইনিংস খেলে।

শ্রীলঙ্কার বোলারদের পক্ষে, মাথিশা পাথিরানা ৩ উইকেট, প্রমোধ মধুশান ২ উইকেট, দুনিথ ওয়েল্লালাগে ও মাহিশ থিকশানা নিয়েছেন ১ টি করে উইকেট।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

অঘোষিত সেমি-ফাইনালে রিজওয়ানের দাপট

Read Next

বাবরকে বসিয়ে রেখে অপমানই করল পাকিস্তানি সাংবাদিকরা

Total
0
Share