ওয়েল্লালাগের লড়াই ম্লান করে দুই দিনে ভারতের দুই জয়

ভারত শ্রীলঙ্কা 2

ওয়েল্লালাগে– দ্য ম্যান বিহাইন্ড এভ্রিথিং! কি বোলিং, কি ব্যাটিং; চেষ্টা করে গেলেন সবদিক থেকেই। ফিল্ডিংয়েও একটা দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়েছেন। কিন্তু ২১৩ রানে ভারতকে আটকানোর পরেও ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে গেল। সুপার ফোরে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৪১ রানের পরাজয় গুনতে হলো। ভারত সেখানে পেল দ্বিতীয় জয়।

কলম্বোর প্রেমাদাসায় প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কান স্পিনারদের সামনে কঠিন পরীক্ষাই দিতে হলো ভারতীয় ব্যাটারদের। ওয়েল্লালাগে একাই নিলেন ৫ উইকেট। প্রথমে রোহিত, গিল, কোহলি– এরপর বিরতি দিয়ে, রাহুল ও পান্ডিয়া। পরের ধাপে এলেন আসালাঙ্কা। একাই তুলে নিলেন প্রতিপক্ষের চার চারটি উইকেট। লক্ষ্যটা ছিল ২১৪ রানের। কিন্তু লঙ্কানদের টপ অর্ডারের ব্যর্থতায়, সে লক্ষ্য বড় হয়ে দাঁড়ায়। পরবর্তীতে ওয়েল্লালাগে ও ধনঞ্জয়া মিলে শেষ চেষ্টা করেছেন, কিন্তু ম্যাচ বাঁচাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৪১ রানের পরাজয় মেনে নিতে হয়েছে লঙ্কানদের।

২১৪ রানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে নেমেছিল লঙ্কানরা। ঘরের মাঠে দেখতে ছিল সামান্য। মোকাবিলা করতে গিয়ে অবশ্য তেমনটা দেখা যায়নি। জাসপ্রীত বুমরাহ ও মোহাম্মদ সিরাজ মিলেই শ্রীলঙ্কার প্রথম ৩ উইকেট তুলেছেন। দলীয় রান তখন মাত্র ২৫। টপ অর্ডারের প্রথম ৩ ব্যাটার ফেরার পর, কিছুটা ধুঁকতে হয়েছে দলটিকে।

সাদিরা সামারাবিক্রমা ও চারিথ আসালাঙ্কা মিলে সেই ধাক্কা কিছুটা সামাল দিয়েছিলেন ৪৩ রানের জুটি দিয়ে। সামারাবিক্রমা ব্যক্তিগত ১৭ রানে কুলদীপ যাদবের শিকার হলেন। সঙ্গীহীন আসালাঙ্কাও আর রইলেননা বেশিক্ষণ, একই বোলারের বলে পরের ওভারেই ব্যক্তিগত ২২ রানে যখন ফিরছেন, তখন লঙ্কানদের দলীয় রান ৭৩, ৫ উইকেট হারিয়ে। অধিনায়ক দাসুন শানাকা ও ধনঞ্জয়া ডি সিলভা মিলে সেই চাপও কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করতে থাকলেন। যেহেতু লক্ষ্যমাত্রা বেশি ছিল না। দলীয় ৯৯ রানে শানাকা ফিরলে, সেসময় লঙ্কানদের শেষ দেখেই ফেলছিল অনেকে।

কিন্তু ডি সিলভা তখনো ছিলেন, আর সাথে দুনিথ ওয়েল্লালাগে। বোলিংয়ে ৫ উইকেট তোলার পর, ব্যাটিংয়েও দারুণ ছন্দে শুরু করেন ওয়েল্লালাগে। বেশ ভদ্রস্থ স্ট্রাইক-রেট রেখে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। দুই ব্যাটার মিলে অর্ধশতক ছাড়ানো জুটি গড়লেন। কিন্তু রবীন্দ্র জাদেজার বলে ধনঞ্জয়া ৩০ গজ বৃত্তে বন্দী হলেন। ভেঙে গেল, ৬৩ রানের জুটি। ধনঞ্জয়া ফিরলেন ৬৬ বলে ৪১ রানে।

তখন ওয়েল্লালাগে’র প্রয়োজন ছিল একজন যোগ্য সঙ্গী। তা আর হয়ে ওঠেনি। মাহিশ থিকশানা কিছুক্ষণ চেষ্টা করলেন, কাসুন রাজিথা ততটুকুও নয়। মাথিশা পাথিরানা এসেও ফিরলেন কুলদীপের বলে। শেষ পর্যন্ত ৪১.৩ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১৭২ রানের সংগ্রহ তুলতে সক্ষম হয় শ্রীলঙ্কা।

ভারতীয় বোলারদের পক্ষে, কুলদীপ যাদব নেন ৪ উইকেট। রবীন্দ্র জাদেজা ও জাসপ্রীত বুমরাহ নেন ২ টি করে উইকেট। মোহাম্মদ সিরাজ ও হার্দিক পান্ডিয়া নেন ১ টি করে উইকেট।

এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় রোহিত অধিনায়ক রোহিত শর্মা। এর আগেরদিন পাকিস্তানের বিপক্ষে বড় জয় পেয়েছিল ভারত। ব্যাটিং ছিল দুর্দান্ত। রোহিত শর্মা ও শুবমান গিল মিলে সেখান থেকেই শুরু করলেন। যদিও প্রথমে কিছুটা থিতু হয়ে নিতে হয়েছে। উদ্ধোধনী দুই ব্যাটারের জুটিতে আসে ৮০ রান। পাওয়ারপ্লে’র পর প্রথম ওভার করতে আসেন দুনিথ ওয়েল্লালাগে, সেই ওভারেই ‘ব্রেকথ্রু’, ১৯ রানে ফিরে যান গিল।

কোহলি ও রোহিতের উইকেট তুলতেও সময় নেননি ওয়েল্লালাগে। দুজনকে ফিরিয়েছেন এক রানের ব্যবধানে। লোকেশ রাহুল ও ইশান কিষান মিলে পরবর্তী জুটি গড়ে তোলেন। ৬৩ রানের জুটিতে আবারও ভাঙন ধরায় এই স্পিনার। আগের ম্যাচে শতক করা রাহুল এই ম্যাচে ফেরেন ৩৯ রান করে।

ইশানের সাথে তখন নতুন ব্যাটার হার্দিক পান্ডিয়া। এবার ওয়েল্লালাগে নিজের ভূমিকা পাল্টালেন। চারিথ আসালাঙ্কার বলে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নিলেন। ইশান ফিরলেন ৬১ বলে ৩৩ রান করে। ইশানের ফেরার পর দলের খাতায় আর ২ রান যোগ হয়, সেসময় ওয়েল্লালাগের শেষ ওভারের শেষ বলে পান্ডিয়া এজ হন। শ্রীলঙ্কা রিভিউ নেয়। আল্ট্রা-এজ জানিয়ে দেয়, ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ উইকেট পাচ্ছেন ২০ বছর বয়সী তরুণ স্পিনার।

পরের ব্যাটাররা আর তেমন কোনো সুবিধা করতে পারেননি। আসালাঙ্কার ডেলিভারিতে রবীন্দ্র জাদেজা ১৯ বল খেলে ৪ রান, জাসপ্রীত বুমরাহ ১২ বল খেলে ৫ রান, কুলদীপ যাদব ১ বলে খেলে ০ রানে ফিরেছেন। ভারতের তখন ৯ উইকেট হারিয়ে ১৮৬ রান। ক্রিজে ছিলেন একাদশে ফেরা অক্ষর প্যাটেল, সাথে মোহাম্মদ সিরাজ। রান তেমন তুলতে পারেননি। যতটুকু সময় ছিলেন, লঙ্কান স্পিনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছেন। দুইশো পেরোতে সাহায্য করলেন বটে। মাঝে বৃষ্টির বাঁধাও ছিল কিছু সময়। মাহিশ থিকশানার বলে অক্ষর ফিরলেন ৩৬ বলে ২৬ রান করে। সিরাজ অন্যপ্রান্তে ১৯ বলে ৫ রান করে রইলেন অপরাজিত।

শ্রীলঙ্কার বোলারদের পক্ষে, দুনিথ ওয়েল্লালাগে বল করেছেন ১০ ওভার, রান দিয়েছেন ৪০, উইকেট নিয়েছেন ৫ টি। চারিথ আসালাঙ্কা ৯ ওভার বল করে, ১৮ রান দিয়ে, ৪ উইকেট তুলেছেন। বাকি এক উইকেট নিয়েছেন মাহিশ থিকশানা।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

হৃদয়ের অপেক্ষা শেষ হল, বন্ধু ওয়াল্লেলাগের পারফর্ম্যান্সে বেজায় খুশি

Read Next

সাদিরাকে স্টাম্পড করতে রাহুলের বিশেষ বার্তায় সফল কুলদ্বীপ

Total
0
Share