পাকিস্তানকে পাত্তা না দিয়ে ভারতের সবচেয়ে বড় জয়

ভারত পাকিস্তান 3

প্রথম ইনিংসে শুধু ভারতীয় ব্যাটিং প্রদর্শনী চলল বলা ভালো। উদ্বোধনী দুই ব্যাটারের অর্ধশতক রান। রাহুল-কোহলি মিলে দুইশো ছাড়ানো জুটি, দুজনের ব্যাটে আসা শতক- সব মিলিয়ে পাকিস্তানি বোলারদের তুলোধুনো অবস্থা করার যাবতীয় কর্ম সম্পন্ন করেছে ভারত। শুধু ব্যাটে নয়, বলেও একই কর্ম সাধন করেছে ভারতীয় দল। কুলদীপ তো একাই নিয়েছেন ৫ উইকেট। সুপার ফোরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ২২৮ রানের জয় পেয়েছে ভারত।

কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে এক পরিবর্তন নিয়ে নেমেছিল ভারত। শ্রেয়াস আইয়ার নেই পিঠে খিঁচুনির কারণে। তার বদলে দীর্ঘ সময় পর ইনজুরি থেকে দলে ফিরেছেন লোকেশ রাহুল। পাকিস্তান দল টসে জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। দলটির আগের রাতে দেওয়া একাদশ ছিল অপরিবর্তিত। পাকিস্তানি বোলারদের বেশ শাসন করে রোহিত-গিল মিলে ১২১ রানের জুটি গড়লেন। মাঠে কোহলি-রাহুল থাকা অবস্থায় বৃষ্টি নামে গতকাল।

রিজার্ভ ডে রাখার ফজিলত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ লাভ করেছে। তবে রিজার্ভ ডে-এর ম্যাচও বৃষ্টির কারণে শুরু হতে দেরি হয়। শ্রীলঙ্কার স্থানীয় সময় বিকাল ৪.৪০ মিনিটে খেলা শুরু হয়। আগের দিনের অবস্থান থেকেই। ভারতের রান ২৪.১ ওভারে ১৪৬। পাকিস্তান শিবিরে দুঃসংবাদ শোনা যায়, এই ম্যাচে হারিস রউফ আর বল করতে পারবেননা, ইনজুরি বোধ হওয়ায়। এজন্য কিছুটা অবশ্য পিছিয়ে ছিল পাকিস্তান। আজ ২৪.১ ওভার থেকে ব্যাটিং শুরু করে শেষ পর্যন্ত কোহলি ও রাহুল দুজনের শতকে ৩৫৬ রানে ইনিংস শেষ করে ভারত। পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে কোন সুবিধাই করতে পারেনি। দলীয় ইনিংসে বড় রান বাদ দিয়েই, শেষ করতে হয়েছে নিজেদের খেলা। ৮ উইকেট হারিয়েছে দলটি ১২৮ রানেই। ফলে ২২৮ রানের বড় পরাজয় বরণ করতে হয় তাঁদের।

এর আগে গতকাল ভারতের উদ্ধোধনী দুই ব্যাটার ছিলেন উজ্জ্বল। রোহিত শর্মার ব্যাট ধীরে চললেও, শুবমান গিল খারাপ বল ছাড়েননি। দুই ব্যাটার যেন পণ করে নেমেছিলেন। শাহীন শাহ আফ্রিদির প্রথম ওভারের প্রথম ৫ বল ডট খেলে, ৬ষ্ঠ বলে ছক্কা হাঁকান রোহিত। ভারতের উদ্বোধনী জুটি পাওয়ারপ্লে থেকে ৬১ রান তোলে৷ বোঝা যায় কি ধরনের ব্যাটিং করেছে তাঁরা। সেই জুটি দলীয় রান ১২১ পর্যন্ত নিয়ে যায়।

রোহিত ও গিলের ফেরার সময়টা ছিল কাছাকাছি। যে শাদাব খানকে ৬,৬,৪ হাঁকিয়েছেন, তাঁর বলেই ফাহিম আশরাফের দারুণ ক্যাচে ফিরতে হলো এই ওপেনিং ব্যাটারকে। করলেন ৪০ বলে ৫৬ রান। পরের ওভার করতে এলেন শাহীন। সেই ওভারের পঞ্চম বলে আর্লি হিট করে আগা সালমানের হাতে ক্যাচ দিলেন গিল। ৫২ বলে ৫৮ করা হলো, ইনিংস এরচেয়ে বড় হলো না।

ভিরাট কোহলি ও লোকেশ রাহুল গতকাল যেখানে শেষ করেছিলেন, আজ সেখান থেকেই শুরু করলেন। রাহুল ও কোহলি মিলে শত রানের জুটি ছাড়িয়ে গিয়ে, দুই শতকে পড়ে। যে রাহুল ছিলেন লম্বা সময় ইনজুরিতে, নিজের ‘কামব্যাক’ ম্যাচে শতকও হাঁকিয়ে বসলেন। এর আগে শেষ ওডিআই খেলেছেন এ বছরের মার্চে। ২০২৩ সালে তাঁর ছিল না কোন শত রানের ইনিংস। বিশ্বকাপের আগে যেন ভারতের মিডল অর্ডারে স্বস্তি এনে দিল রাহুলের ইনিংস।

কোহলি নিজেও সেঞ্চুরি হাঁকাতে সময় নিলেননা। রাহুলের পরপরই নিজেও ক্যারিয়ারের ৪৭ তম সেঞ্চুরির পথে গিয়েছেন আর ১৩০০০ ওডিআই রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন। দুজনের অপরাজিত জুটি ছিল ১৯৪ বলে ২৩৩ রানের। কোহলি ৯৪ বলে ১২২ রানে ও রাহুল ১০৬ বলে ১১১ রানে অপরাজিত ছিলেন।

৩৫৭ রানের বড় এক লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে পাকিস্তান। ভারতের ব্যাটিংয়ে শুরুতে যে আগ্রাসী ভাব ছিল, পাকিস্তানে সেটা অনুপস্থিত দেখা যায়। তা মূলত ভারতের বোলারদের কল্যাণেই। পিচের চূড়ান্ত সুবিধা আদায় করতে থাকে রোহিতের দল। জাসপ্রীত বুমরাহ ও মোহাম্মদ সিরাজ মিলে একেবারে ‘ফায়ারি’ স্পেল যাকে বলে, তাই করলেন। ওপেনিং ব্যাটার ইমাম-উল-হকের উইকেট দলীয় ১৭ রানেই তুলে নিলেন বুমরাহ।

অন্যদিকে হার্দিক পান্ডিয়া পাওয়ারপ্লের পরের ওভার করতে এসে বাবরের অসাধারণ এক ডেলিভারিতে বাবর আজমের উইকেট ভেঙে দেন। ব্যাট আর প্যাডের ফাঁক গলে স্টাম্প খুঁজে নিয়েছিল পান্ডিয়ার সেই বল। বাবর ফেরেন ব্যক্তিগত ১০ রান করে।

১১ ওভার শেষে দলীয় রান যখন ২ উইকেট হারিয়ে ৪৪, তখন প্রেমাদাসায় আবারও বৃষ্টি হানা দেয়। বেশ কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকার পর, আবার শুরু হয়, একই জায়গা থেকে। একপাশে ফখর জামান তখনো ছিলেন। অন্যপ্রান্তে নতুন ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান। বৃষ্টি পরবর্তী প্রথম ওভারের চতুর্থ বলে শার্দুল ঠাকুরের লেংথ বল সর্পিল গতিতে ব্যাটের কানায় লেগে উইকেটরক্ষকের হাতে গিয়ে পড়ে। পাকিস্তানের জন্য যেন ঘোর অন্ধকার তখন। রিজওয়ান ফিরেছেন মাত্র ২ রান করে।

ফখর ও আগা সালমান মিলে যে চেষ্টাটুকু করে যাচ্ছিলেন, সেখানে বাঁধা হয়ে দাঁড়ালেন কুলদীপ যাদব। দুইজনের উইকেটই নিজ হাতে তুলেছেন এই স্পিনার। পাকিস্তান সেসময় ৫ উইকেট হারিয়ে ৯৬ রানে অবস্থান করছে। পরের ৩ উইকেটও নিজের পকেটে পুড়লেন কুলদীপ। ফলে ৫ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করাও হয়ে গেছে তাঁর। হারিস ও নাসিম ব্যাটিংয়ে না নামলে, ভারত ২২৮ রানে তাঁদের কাঙ্ক্ষিত জয়ের দেখা পায়।

পাকিস্তানের বোলারদের পক্ষে, শাদাব খান ও শাহীন শাহ আফ্রিদি ১ টি করে উইকেট নিয়েছেন। ভারতীয় বোলারদের পক্ষে কুলদীপ যাদব একাই নিয়েছেন ৫ উইকেট। জাসপ্রীত বুমরাহ, শার্দুল ঠাকুর ও হার্দিক পান্ডিয়া নিয়েছেন ১ টি করে উইকেট।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

নাইমকে আগলে রেখে যা বললেন নির্বাচক রাজ্জাক

Read Next

ব্রিটিশ বাংলাদেশি রবিন দাসের ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড!

Total
0
Share