দুই সেঞ্চুরিতে ভারতের পাহাড়সম সংগ্রহ

ভারত পাকিস্তান 2

প্রথম ইনিংসে শুধু ভারতীয় ব্যাটিং প্রদর্শনী চলল বলা ভালো। উদ্বোধনী দুই ব্যাটারের অর্ধশতক রান। রাহুল-কোহলি মিলে দুইশো ছাড়ানো জুটি, দুজনের ব্যাটে আসা শতক- সব মিলিয়ে পাকিস্তানি বোলারদের তুলোধুনো অবস্থা করার যাবতীয় কর্ম সম্পন্ন করেছে ভারত। ৫০ ওভার ব্যাট করে ৩৫৭ রানের লক্ষ্যমাত্রা দাঁড় করিয়েছে দলটি।

রিজার্ভ ডে রাখার ফজিলত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ লাভ করেছে। তবে রিজার্ভ ডে-এর ম্যাচও বৃষ্টির কারণে শুরু হতে দেরি হয়। শ্রীলঙ্কার স্থানীয় সময় বিকাল ৪.৪০ মিনিটে খেলা শুরু হয়। আগের দিনের অবস্থান থেকেই। ভারতের রান ২৪.১ ওভারে ১৪৬। পাকিস্তান শিবিরে দুঃসংবাদ শোনা যায়, এই ম্যাচে হারিস রউফ আর বল করতে পারবেননা, ইনজুরি বোধ হওয়ায়। এজন্য কিছুটা অবশ্য পিছিয়ে ছিল পাকিস্তান। আজ ২৪.১ ওভার থেকে ব্যাটিং শুরু করে শেষ পর্যন্ত কোহলি ও রাহুল দুজনের শতকে ৩৫৬ রানে ইনিংস শেষ করে ভারত।

কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে এক পরিবর্তন নিয়ে নেমেছিল ভারত। শ্রেয়াস আইয়ার নেই পিঠে খিঁচুনির কারণে। তার বদলে দীর্ঘ সময় পর ইনজুরি থেকে দলে ফিরেছেন লোকেশ রাহুল। পাকিস্তান দল টসে জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। দলটির আগের রাতে দেওয়া একাদশ ছিল অপরিবর্তিত। পাকিস্তানি বোলারদের বেশ শাসন করে রোহিত-গিল মিলে ১২১ রানের জুটি গড়লেন। মাঠে কোহলি-রাহুল থাকা অবস্থায় বৃষ্টি নামে গতকাল।

এর আগে ভারতের উদ্ধোধনী দুই ব্যাটার ছিলেন উজ্জ্বল। রোহিত শর্মার ব্যাট ধীরে চললেও, শুবমান গিল খারাপ বল ছাড়েননি। দুই ব্যাটার যেন পণ করে নেমেছিলেন। শাহীন শাহ আফ্রিদির প্রথম ওভারের প্রথম ৫ বল ডট খেলে, ৬ষ্ঠ বলে ছক্কা হাঁকান রোহিত। ভারতের উদ্বোধনী জুটি পাওয়ারপ্লে থেকে ৬১ রান তোলে৷ বোঝা যায় কি ধরনের ব্যাটিং করেছে তাঁরা। সেই জুটি দলীয় রান ১২১ পর্যন্ত নিয়ে যায়।

রোহিত ও গিলের ফেরার সময়টা ছিল কাছাকাছি। যে শাদাব খানকে ৬,৬,৪ হাঁকিয়েছেন, তাঁর বলেই ফাহিম আশরাফের দারুণ ক্যাচে ফিরতে হলো এই ওপেনিং ব্যাটারকে। করলেন ৪০ বলে ৫৬ রান। পরের ওভার করতে এলেন শাহীন। সেই ওভারের পঞ্চম বলে আর্লি হিট করে আগা সালমানের হাতে ক্যাচ দিলেন গিল। ৫২ বলে ৫৮ করা হলো, ইনিংস এরচেয়ে বড় হলো না।

ভিরাট কোহলি ও লোকেশ রাহুল গতকাল যেখানে শেষ করেছিলেন, আজ সেখান থেকেই শুরু করলেন। রাহুল ও কোহলি মিলে শত রানের জুটি ছাড়িয়ে গিয়ে, দুই শতকে পড়ে। যে রাহুল ছিলেন লম্বা সময় ইনজুরিতে, নিজের ‘কামব্যাক’ ম্যাচে শতকও হাঁকিয়ে বসলেন। এর আগে শেষ ওডিআই খেলেছেন এ বছরের মার্চে। ২০২৩ সালে তাঁর ছিল না কোন শত রানের ইনিংস। বিশ্বকাপের আগে যেন ভারতের মিডল অর্ডারে স্বস্তি এনে দিল রাহুলের ইনিংস।

কোহলি নিজেও সেঞ্চুরি হাঁকাতে সময় নিলেননা। রাহুলের পরপরই নিজেও ক্যারিয়ারের ৪৭ তম সেঞ্চুরির পথে গিয়েছেন আর ১৩০০০ ওডিআই রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন। দুজনের অপরাজিত জুটি ছিল ১৯৪ বলে ২৩৩ রানের। কোহলি ৯৪ বলে ১২২ রানে ও রাহুল ১০৬ বলে ১১১ রানে অপরাজিত ছিলেন।

পাকিস্তানের বোলারদের পক্ষে, শাদাব খান ও শাহীন শাহ আফ্রিদি ১ টি করে উইকেট নিয়েছেন।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

ইনজুরিতে মাঠের বাইরে হারিস রউফ

Read Next

নাইমকে আগলে রেখে যা বললেন নির্বাচক রাজ্জাক

Total
0
Share