শ্রীলঙ্কার কাছে আরও একবার হারল বাংলাদেশ

বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা 2

সুপার ফোরে বাংলাদেশ দলের দ্বিতীয় হার। এক ব্যাটসম্যান কম খেলিয়ে বাড়তি স্পিনার নিয়ে নামার পরেও, তেমন লাভবান হতে দেখা যায়নি দলকে। ২৫৮ রানের লক্ষ্যমাত্রা মোকাবিলা করতে যেয়ে ব্যাটে তেমন কোনো ইতিবাচকতা দেখায়নি বাংলাদেশ। শুধুমাত্র হৃদয়ের ৮২ রানের ইনিংস ব্যতীত। শেষদিকে নাসুম আর হাসানের চেষ্টা কিছুটা আনন্দ দিলেও, শ্রীলঙ্কা ঘরের মাটিতে ব্যাট-বলে দারুণভাবেই আটকে দিয়েছে প্রতিপক্ষকে। সুপার ফোরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে লঙ্কানদের জয় ২১ রানে।

টস জেতা যেন সাকিব আল হাসান নিজের ব্যক্তিগত করে নিয়েছেন। টানা চতুর্থবারের মতো টস জিতলেন এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বোর প্রেমাদাসাতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিলেন। লঙ্কান অধিনায়ক দাসুন শানাকা টস পরবর্তী জানালেন, ব্যাটিং নেওয়ার ইচ্ছাই ছিল তাঁদের। তবে সাকিব কেন ফিল্ডিংয়ের দিকে গেলেন এদিন? অবশ্য সিদ্ধান্তটি খারাপ নেননি তিনি। বাংলাদেশ লঙ্কানদের আটকে দিল ২৫৭ রানে। সে আটকে দেওয়াও যেন আর পরে আর নিজেদের থাকেনি। ব্যাটিংয়ে টপ অর্ডারের ব্যর্থতা, লোয়ার অর্ডারেও সুবিধাজনক সাহায্য না পাওয়া– সব মিলিয়ে শুধু হৃদয়-মুশফিক জুটিই ছিল বলার মতো। বাকিরা তো শুধু এলেন আর গেলেন। শেষে নাসুম আর হাসান মিলে যা একটু চেষ্টা করে গেলেন, শেষ পর্যন্ত আর সেটা আর তীর দেখেনি। ফলে ৪৮.১ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ২৩৬ রান সংগ্রহ বাংলাদেশের। মাঠ ছাড়তে হয় ২১ রানের হার নিয়ে।

বাংলাদেশ একাদশে ছিল একটি পরিবর্তন। আফিফ হোসেনের পরিবর্তে স্পিনার নাসুম আহমেদ ছিলেন একাদশে। ২৫৮ রানের লক্ষ্য নিয়ে আগের ম্যাচের দুই ওপেনার মাঠে নামলেন। মেহেদী হাসান মিরাজ ও মোহাম্মদ নাঈম মিলে শুরুটা তুলনামূলক ভালোই করেছেন। নাঈম বেশ স্লো ব্যাটিং করলেও, মিরাজ স্ট্রাইক মেনেই ব্যাট করছিলেন। পাওয়ারপ্লে থেকে দুইজন মিলে বিনা উইকেটে ৪৭ রান তুললেন। দলীয় ৫৫ রানে এক পুল শট খেলতে গিয়ে দাসুন শানাকার বলে ৩০ গজ বৃত্তে ক্যাচ হয়ে ফিরলেন মিরাজ, ২৯ বলে ২৮ রান করে। মিরাজের সঙ্গী হলেন নাঈমও, দলীয় ৬০ রানে ফিরলেন ৪৬ বলে ২১ রান করে।

সেসময় দরকার ছিল একটা লম্বা জুটি। সাকিব আল হাসান ও লিটন দাস সে প্রয়োজন মেটাতে পারেননি। সাকিব ফিরলেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের ন্যায়। মাথিশা পাথিরানার বলে বাইরের বলে এজ হয়ে। লিটনও আস্থার প্রতিদান দেননি। ২৪ বলে ১৫ রান করে দুনিথ ওয়েলালাগের শিকার হয়েছেন। এদিন ভরসা দিয়েছেন মুশফিকুর রহিম ও তাওহিদ হৃদয়।

হৃদয় আগের ম্যাচগুলোতে সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারেননি। এদিন দলের প্রয়োজনে থিতু হওয়ার চেষ্টা দেখা গেছে ক্রিজে এসেই। মুশফিক-হৃদয় মিলে বাংলাদেশ দলকে নতুন করে উজ্জীবিত করে যাচ্ছিল। একসময় এমন বোধ এসেছে যে, দুইজন ইতিবাচক ফলাফল এনেই ইনিংস শেষ করবে। কিন্তু শানাকার বলে মুশফিক ফিরলেন, ৪৮ বলে ২৯ রানে। ৭২ রানের জুটি ভেঙে যায়।

এরপর আর তেমন কিছু ঘটেনি বাংলাদেশের ইনিংসে। হৃদয় একাই চেষ্টা করে গেছেন একপাশে। শামীম হোসেন এসে একা রেখে চলে গেছেন হৃদয়কে। হৃদয় নিজেও মাহিশ থিকশানার বলে লেগ বিফোরের শিকার হয়ে ফিরলে বাংলাদেশের সমস্ত আশা গুড়িয়ে যায়। হৃদয় ৯৭ বলে ৮২ রান করেন। দলীয় সংগ্রহ তখন ৮ উইকেট হারিয়ে ২০১ রান।

পরবর্তীতে নাসুম আহমেদের ব্যাটে ১৫ রান এবং হাসান মাহমুদের ব্যাটে ১০ রান, দলকে কিছুটা আশা দেখায়। সে আশা অবশ্য দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ১২ বলে যখন ২২ রান প্রয়োজন, পাথিরানার নতুন ওভারের প্রথম বলেই নাসুন বোল্ড হয়ে ফেরেন। ফলে ২৩৬ রানেই সব উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ।

এর আগে বাংলাদেশের ফিল্ডিংয়ে, তাসকিন আহমেদের প্রথম ওভারের প্রথম বল ইনসাইড হয়ে উইকেটরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে যখন চার বনে গেল, তখন মনে হলো, উইকেটে বেশ মুভমেন্ট রয়েছে। যদিও প্রথম উইকেট তোলার দায়িত্ব নিয়ে নিলেন পেসার হাসান মাহমুদ, দিমুথ করুনারত্নকে ফিরিয়ে। পাওয়ারপ্লে’র প্রথম ১০ ওভার আর কোনো উইকেট পড়েনি। লঙ্কানদের রান-রেট আশানুরূপ ছিল।

পাথুম নিশানকা ও কুশল মেন্ডিস মিলে বড় জুটির আশ্বাস দিতে থাকে। অর্ধশতক ছাড়িয়ে সে জুটি ৭৪ রানে গিয়ে থামে, দারুণ বল করতে থাকা শরিফুল ইসলামের বলে লেগ বিফোরের শিকার হলেন নিশানকা। ফিরলেন ব্যক্তিগত ৪০ রান করে। তখন দলীয় রানটা ১০৮। সমস্যাটা বাঁধে তখন, যখন দলীয় ১১৭ রানে পরের উইকেটের পতন ঘটে। ব্যাটার কুশল মেন্ডিস শরিফুলের বলে ক্যাচ তুলে দিলেন। ৭৩ বলে ৫০ করে ফিরলে, লঙ্কানদের জন্য কিছুটা চাপ তৈরি হয়ে যায়।

সাদিরা সামারাবিক্রমা ও চারিথ আসালাঙ্কা মিলে সেই চাপ সামলানোর চেষ্টা করতে থাকে। কিন্তু সেই জুটিও দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তাসকিনের ডেলিভারিতে ক্যাচ নেন অধিনায়ক সাকিব, ব্যক্তিগত ১০ রানেই ফেরেন আসালাঙ্কা। ধনঞ্জয়া ডি সিলভাও ‘স্লো স্টার্ট’ করে হাসান মাহমুদের শিকার হয়ে, ১৬ বলে ৬ রান করে ফিরলেন। শ্রীলঙ্কার দলীয় রান তখন ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬৪।

৪৩ তম ওভার চলাকালীন লঙ্কান দল ২০০ পেরোয়। এরমধ্যে সামারাবিক্রমা তুলে নেন নিজের অর্ধ-শতক। ক্রিজে তখন তাঁর সাথে ছিলেন অধিনায়ক শানাকা। দুজনের জুটিও পঞ্চাশে চলে যায় ৪৫ তম ওভারের খেলায়। জুটিতে ভাঙন ধরান হাসান এসে। চিকি শট খেলতে গিয়ে হাসানের বলে বোল্ড হয়ে ফিরতে হয় শানাকাকে, ব্যক্তিগত ২৪ রান করে। ওভারটিতে অসাধারণ বল করে মাত্র ৪ রান দেন হাসান। দুনিথ ওয়েলালাগের সাথে ১৯ রান যোগ করলে, ওয়েলালাগে ফিরলেন রান আউট হয়ে। শেষ ওভারের শেষ বলে সামারাবিক্রমা ফিরলেন ৭২ বলে ৯৩ রান করে। ফলে শ্রীলঙ্কার ইনিংস শেষ হয় ৫০ ওভার খেলে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৫৭ রানে।

বাংলাদেশের বোলারদের পক্ষে হাসান মাহমুদ ও তাসকিন আহমেদ নিয়েছেন ৩ উইকেট। শরিফুল ইসলাম পেয়েছেন ২ টি উইকেট।

শ্রীলঙ্কার বোলারদের পক্ষে মাহিশ থিকশানা ও দাসুন শানাকা ও মাথিশা পাথিরানা মিলে নিয়েছেন ৩ টি করে উইকেট। দুনিথ ওয়েলালাগে নিয়েছেন বাকি ১ উইকেট।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

সঞ্জয় মাঞ্জরেকারের মুখে ফুটল টাইগারদের প্রশংসা

Read Next

সাকিবের কাঠগড়ায় চার ব্যাটার আর শুরুর বোলিং

Total
0
Share