লাবুশেইনের মা জানতেন!

লাবুশেইন

মারনাস লাবুশেইন; যার কাছে সুযোগ আসে ভিন্ন কোন নিয়মে। এর আগেও ‘কনকাশন সাব’ হয়ে নেমেছিলেন ক্রিকেটের মাঠে। গতকাল (৭ সেপ্টেম্বর) অস্ট্রেলিয়া-সাউথ আফ্রিকা ম্যাচেও একই ঘটনা। সেবার ছিল স্টিভ স্মিথের পরিবর্তে আর এবার ক্যামরন গ্রিন। শুধু নেমেই ক্ষান্ত হননি, ব্যাট চালিয়ে ৮০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন। দলের প্রয়োজনে সে ইনিংসের কার্যকারিতা ছিল জয়ের মূল্য-সমান।

ক্যামেরন গ্রিনের বাঁ-কানের পিছনে গিয়ে লাগে কাগিসো রাবাদার বাউন্সার। এমনই অবস্থা যে, মাঠের বাইরে চলে যেতে হলো। গ্রিনের স্ক্যান সম্পন্ন হয়েছে, ৮ দিনের মনিটরিং চলবে। এরপর জানা যাবে পরবর্তী অবস্থা। এরমধ্যে স্বাস্থ্যকর্মীদের পর্যবেক্ষণে থাকবে তিনি।

গ্রিন যখন মাঠ ছাড়লেন, দলের রান তখন ২ উইকেট হারিয়ে ৩৮। জস ইংলিস, ট্রাভিস হেড ও অ্যালেক্স ক্যারি ফেরার পর দাঁড়াল ৫ উইকেট হারিয়ে ৭২ রান। ২২৩ রানের লক্ষ্যমাত্রা তখন পাহাড়সম দেখাতে লাগল। সেসময় গ্রিনের ‘কনকাশন সাব’ হয়ে মাঠে নামলেন লাবুশেইন।

বলে রাখা ভাল যে, সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে ওডিআই স্কোয়াডে ছিলেননা লাবুশেইন। তাঁর প্রস্তুতি ছিল নিউজিল্যান্ড-এ এর বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়া-এ এর পঞ্চাশ ওভারের ম্যাচ নিয়ে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, স্টিভ স্মিথের ইনজুরি লাবুশেইনকে সুযোগ করে দেয়। প্রথম ওডিআইয়ের একাদশে অবশ্য সুযোগ মেলেনি। সুযোগ মিলেছে গ্রিনের রিটায়ার্ড হার্ট হওয়ার পর। লাবুশেইন যেন যুদ্ধাবস্থায় সৈন্য দলের সেই চিকিৎসক, যে কি না আহত যোদ্ধার সেবায় সবসময় এগিয়ে এসেছে।

সাউথ আফ্রিকা মূলত লাবুশেইনের ঘর। জন্ম ও বেড়ে ওঠার প্রথম ১০ বছর সেখানেই কাটিয়েছেন। ২০০৪ সালে তাঁর পরিবার অস্ট্রেলিয়াতে চলে যায়। ব্লুমফন্টেইনের মাঠ, লাবুশেইনের জন্মস্থান প্রোভিন্স থেকে ২৫০ কিলোমিটারের দূরত্ব। লাবুশেইনের মা এসেছিলেন গতকাল খেলা দেখতে। এসে দেখলেন, লাবুশেইন একাদশে নেই। তবে সেই মা আশা হারাননি। সাউথ আফ্রিকার পুরো ইনিংস দেখেছেন। বসে ছিলেন স্টেডিয়ামে। কোন একটা অনুভূতি হয়তো পেয়েছেন, ছেলে তাঁর নামবে এই মাঠে।

ছেলে মাঠে নামল। অপরাজিত ৮০ রানের ইনিংস খেলল। ম্যাচ জেতানো ইনিংস। পুরস্কার-স্বরূপ ম্যান অব দ্য ম্যাচও জেতা হলো।

ম্যাচ শেষে লাবুশেইন বলেন,

‘পুরো ম্যাচেই সে (মা) ছিল।…তাঁর মনে হচ্ছিল আমি খেলব। আমি এই ম্যাচ খেলব, এই ভাবনায় সে অনড় ছিলেন। আমি বলেছি, মা আমি একাদশ দেখেছি, আমি সেখানে নেই। তাঁর আবারও মনে হচ্ছিল আমি খেলব। তিনি ঠিক ছিলেন। সত্যি বলতে এটা ব্যাখ্যা করা কঠিন।’

বিশ্বকাপ দলে ঠাঁই হয়নি এই মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যানের। হওয়ার কথাও ছিল না আসলে। ওডিআইয়ের গড় লাবুশেইনের পক্ষে নেই। তিনি নিজেও বলেছেন, খুব বেশি অবাক হননি, স্কোয়াডে না থাকতে পেরে। তবে সুযোগ যেন আসেই। সক্ষমতা থাকলে তা আঁকড়ে ধরে রেখেই এগিয়ে যাওয়ার নিয়ম বাঁধেন কেউ কেউ, লাবুশেইনের মতো।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

শুধুমাত্র ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে রিজার্ভ ডে

Read Next

শেবাগের স্বপ্নের ওয়ানডে একাদশে প্রথম পাঁচ খেলোয়াড় যারা

Total
0
Share