হারিসের লক্ষ্যই ছিল, শুরুতে উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে চাপে ফেলা

হারিস রউফ

লাহোরে সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের পেসেই কুপোকাত হলো বাংলাদেশ দল। চেষ্টা করেছিলেন সাকিব-মুশফিক, তাদের শতরানের জুটি ভাঙতে চোখের পলকেই শেষ হয়ে যায় ব্যাটিং লাইন। বাংলাদেশকে ধসিয়ে দেওয়া হারিস রউফ পেয়েছেন ম্যাচ সেরা ক্রিকেটারের পুরষ্কার। বোলিংয়ে এসে তার মন্ত্র ছিল একটাই, শুরুতেই উইকেট তুলে নেওয়া। এভাবেই তিনি বাড়তি চাপে ফেলে দেন প্রতিপক্ষ দলকে, তিন ম্যাচে মোট ৯ উইকেট তুলে নিয়ে হারিস এখন শীর্ষস্থানে।

বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয় যেন পুরো এশিয়া কাপ জুড়েই চলছে। এক দেশ থেকে অন্য দেশে, ক্যান্ডি থেকে লাহোর, তবুও যেন ছন্দ খোঁজে পাচ্ছে না টাইগার ব্যাটাররা। সবশেষ পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে স্কোরবোর্ডে রান যোগ হওয়ার আগেই উইকেট হারান ওপেনার মেহেদী হাসান মিরাজ। আর শেষ ৩ রানে হারায় শেষের ৪ উইকেট।  ১৯৩ রানে গুটিয়ে গিয়ে বাংলাদেশ ম্যাচ হেরেছে ৭ উইকেটে। 

হারিস রউফ মাত্র ১৯ রান খরচায় ৪ উইকেট শিকার করে হয়েছেন ম্যাচ সেরা ক্রিকেটার। দারুণ পারফর্ম্যান্সের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে হারিস সৃষ্টিকর্তার শুকরিয়া আদায় করেছেন। উইকেট শিকারের এই ধারা নিয়ে যেতে চান বিশ্বকাপের মঞ্চেও। 

‘এমন পারফরম্যান্সের জন্য শুরুতেই মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি শুকরিয়া আদায় করি। দলের পরিবেশ ভালো হওয়াটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সতীর্থরা যখন আপনাকে সমর্থন যোগাবে, আপনার সাথে উদযাপন করবে তখন সহজ হয়ে যায়। দলের বন্ধন বেশ দৃঢ়। এটা বিশ্বকাপেও ধরে রাখতে হবে। তার আগে এশিয়া কাপ, সেটা এখনও শেষ হয়নি। বিশ্বকাপ পর্যন্ত যেন আমরা এভাবেই খেলতে পারি।’

এশিয়া কাপে এখন পর্যন্ত ৩ ম্যাচেই হারিস রউফের শিকার মোট ৯ উইকেট। সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হারিস হতে চান টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়। বল হাতে নিলে তার লক্ষ্য থাকে একটাই শুরুতেই উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে ব্যাকফুটে ফেলে দেওয়া। এমনটা হয়েছে বাংলাদেশ ম্যাচেও। নিজের প্রথম ওভার করতে এসে তৃতীয় বলেই শর্ট বলে বিপাকে ফেলেন ওপেনার মোহাম্মদ নাইম শেখকে। নাইম পুল খেলতে গিয়ে বল তুলে দেন আকাশে, বোলার হারিস রউফ নিজেই লুফে নেন সহজ ক্যাচ।

পরের ওভার করতে এসে ফের হারিস রউফের আঘাত। এবার ১৪৫ কি.মি গতির বলে স্ট্যাম্প ভাঙেন তাওহীদ হৃদয়ের। এক হারিসের পেস তান্ডবে রীতিমতো ধ্বংসস্তূপ হয়ে যায় বাংলাদেশের টপ অর্ডার। হারিস এরপর শিকার করেছেন মুশফিকুর রহিম ও তাসকিন আহমেদকেও। নিজের পরিকল্পনা হারিস রউফ ম্যাচ শেষে শোনালেন এভাবে, 

‘আপনি যত ভালো করবেন তত আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাবে। শুরুতে উইকেট তুলে নিলে ব্যাটিং দল চাপে পড়ে যায়। সেখান থেকে মোমেন্টাম ধরে রাখতে হয়, এখানে চাপের কিছু নেই। কন্ডিশনের চাহিদা অনুযায়ী খেলতে হবে। সবসময় তো আর কন্ডিশন পক্ষে থাকে না। এমন উইকেট আছে পেসাররা উল্টো বেশি গতিতে বল করলে মার খায়। দলের হয়ে যেই পারফর্ম করে, তাতে দলেরই লাভ। দল সমর্থন করে, তাই খেলোয়াড়রাও ভালো করে যাচ্ছে।’

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

এখনও সেরা কম্বিনেশনে খোঁজে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ম্যাচ থেকে নিয়েছে শিক্ষা

Read Next

শ্রীলঙ্কার বৃষ্টি যেন বাংলাদেশ দলের পিছু ছাড়ছে না

Total
0
Share