ভারতের কাছে জেতা ম্যাচ হারল বাংলাদেশ

received 173980195689749
Vinkmag ad

অবিশ্বাস্যভাবে বাংলাদেশকে হারিয়ে ইমার্জিং এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারত। সেমিফাইনালে টাইগারদের ৫১ রানে হারিয়ে শিরোপার মঞ্চে পা রাখল ইয়াশ ডুলের দল। নিশ্চিত জিততে থাকা ম্যাচে বাংলাদেশ গুটিয়ে গেল ১৬০ রানে। শেষ ২৬ রান তুলতে বাংলাদেশ হারায় ৫ উইকেট। ফাইনালে ভারত-পাকিস্তান।

৩৪.২ ওভারে বাংলাদেশ ১৬০ রানে গুটিয়ে যায়। ফলে ৫১ রানের রোমাঞ্চকর জয়ে ফাইনালে পাকিস্তানের সঙ্গী ভারত।

বাংলাদেশের স্পিন বিষে নীল আর পেস আক্রমণের সামনে ধ্বংসস্তূপ হয়ে ভারত করতে পারে কেবল ২১১ রান। টাইগার স্কোয়াডের সবাই আজ বল হাতে আলো ছড়ালেন। বিপরীতে ভারতের চরম ব্যর্থতার দিনে ইয়াশ ডুলের অধিনায়কোচিত ইনিংসে হল রক্ষা। লক্ষ্য তাড়ায় নেমে দুই ওপেনারের ব্যাটে উড়ন্ত সূচনা পায় বাংলাদেশ।

পাওয়ার প্লের প্রথম ১০ ওভারে নাইম শেখ ও তানজিদ হাসান তামিম দেখালেন স্ট্রোক্সের ফুলঝুরি। তবে ৭০ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে ৩৮ রানে থাকা নাইম শেখ বোল্ড হলে। ফের দাপুটে ফিফটি তামিমের ব্যাটে। তবে পঞ্চাশ ছোঁয়ার পরই তিনি বিদায় নেন। ৫৬ বলে ৮ চারে করেন ৫১ রান।

আগের ম্যাচের মতো আজ জ্বলে উঠতে ব্যর্থ জাকির হাসান। ৫ রানের বেশি করতে পারেননি এই ব্যাটার। এরপর অধিনায়ক সাইফ হাসান ফেরেন ২২ রানের ইনিংস খেলে। সাইফের বিদায়ের পর সৌম্য এসেও ধরতে পারেননি হাল। আগের বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে পরের বলে তুলেন ক্যাচ।

মাহমুদুল হাসান জয় ও আকবর আলির ব্যাটে চড়ে এগোয় বাংলাদেশ। কিন্তু মুহূর্তেই যেন সব তছনছ।

ইমার্জিং এশিয়া কাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আগে টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় বাংলাদেশ এ দলের অধিনায়ক সাইফ হাসান। সাই সুদর্শন ও অভিষেক শর্মার ব্যাটে ভারত পায় দারুণ শুরু। তবে বাংলাদেশকে নিজের শুরুর ওভারেই ব্রেকথ্রু এনে দেন তানজিম হাসান সাকিব। তার পেস তোপে শুরুর পাঁচ বল লড়াই করে শেষ বলে ব্যর্থ বাউন্সার সামলাতে। উইকেটের পেছনে আকবর আলির হাতে ক্যাচ তুলেন ২৪ বলে ২১ করা সুদর্শন।

এরপর আউট, নট-আউট কাণ্ড। ভারতীয় ‘এ’ দলের ইনিংসের ১৪ তম ওভারের ৪র্থ বল। স্পিনার রাকিবুল হাসানের টার্ন করা বল ব্যাটে-বলে করতে পারেননি তিননামা নিকিন জোসে। উইকেটের পেছনে থাকা আকবর আলি দ্রুতই স্টাম্প ভেঙে দিয়ে স্টাম্পিংয়ের আবেদন জানান। থার্ড আম্পায়ার বিশ্লেষণ করে আউটের লাল বাতি জ্বালায়, উদযাপনে মেতে উঠে বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা। মুহূর্তেই তা বদলে হয়ে যায় সবুজ।

বেঁচে যাওয়া নিকিন জোস এরপর জুটি গড়েন অভিষেক শর্মার সঙ্গে। নিকিনকেই ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন অধিনায়ক সাইফ হাসান। ২৯ বল খেলা নিকিন করেন ১৭ রান। পরের ওভারে অভিষেক শর্মাকেও বিদায় করেন রাকিবুল হাসান। তার ব্যাট থেকে আসে ৩৪ রান। রাকিবুলের দ্বিতীয় শিকার নিশান্ত সিন্ধু। ১৬ বলের বাউন্ডারিবিহীন ইনিংসে রান কেবল ৫। দলীয় ৯১ রানে ৪র্থ উইকেট হারায় ভারত।

পরপর দুই ওভারে দ্রুতই ফেরত যান রিয়ান পরাগ ও ধ্রুব জুরেল। ১২ রানে থাকা রিয়ানের স্টাম্প ভাঙেন তানজিম সাকিব। পরের ওভারে শেখ মেহেদীর বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে উইকেটকিপার ব্যাটার ধ্রুব জুরেল (১)। মেহেদী নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান হারশিত রানাকে। ব্যক্তিগত ৯ রানে যখন হারশিত ফেরেন তখন ৭ উইকেটে ভারতের স্কোরবোর্ডে ১৩৭।

তবে এদিন বিপরীত রূপ নেন ভারতীয় অধিনায়ক ইয়াশ ডুল। ৬৫ বলে এদিন তুলে নেন লিস্ট এ ক্যারিয়ারের তার দ্বিতীয় ফিফটি। ডুলের সাথে জুটি গড়ে বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছিলেন মানব সুথার। তবে ব্যক্তিগত ২১ রানে তাকে ফিরতে হয় রান আউটের শিকার হয়ে।

আগের ম্যাচে ১০ ওভারের কোটা পূরণ করা সৌম্য সরকার আজ বল হাতে আসলেন ইনিংসের ৪৭ তম ওভারে। এসেই করলেন বাজিমাত। ফিরিয়ে দেন ক্যামিও শট খেলতে থাকা রাজবর্ধন হাঙারগেকারকে। এরপর শেষ ব্যাটারকে নিয়েও লড়াই চালিয়ে যেতে থাকেন অধিনায়ক ডুল। তাকে যেন এদিন কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছিলো না।

বল হাতে স্পিন ত্রয়ী রাকিবুল, মেহেদী ও সাইফ ছিলেন দুর্দান্ত। রাকিবুল ৩৬ রান খরচায় দুই উইকেট নেন, ২৯ রানের বিনিময়ে সাইফের ঝুলিতে ১, মেহেদী হাসান ৩৯ রান খরচ করে দুই উইকেট।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

ফাইনালে যেতে ভারতকে অল্পতেই আটকে দিল বাংলাদেশ

Read Next

ইনিংস হার এড়ানো নিয়েই শঙ্কা অস্ট্রেলিয়ার!

Total
0
Share