দাপট দেখিয়ে নিউজিল্যান্ডকে হারাল ভারত

ভারত
Vinkmag ad

শ্রীলঙ্কার পর কিউই বোলারদেরও ব্যাট হাতে দারুণ শাসন করেছে ভারতের ব্যাটার। কখনো ভিরাট কোহলি ব্যাটকে তলোয়ার বানিয়ে বেধড়ক পেটাচ্ছেন, কখনো বা শুবমান গিল শতকের পর শতক হাঁকাচ্ছেন, আবার রোহিতের ব্যাটেও চলছে রানের ফুলঝুরি। এই তিন ব্যাটার মিলেই তো কিউই বোলারদের ওপর ঝড় বইয়ে দিয়েছেন প্রতিনিয়ত।

রোহিত শর্মা, শুবমান গিল এবং ভিরাট কোহলির শতকে ওয়ানডে সিরিজে ৩-০ নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছে ভারত। মঙ্গলবার সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে রোহিত শর্মা ও শুবমান গিলের জোড়া সেঞ্চুরিতে ভারত ৩৮৬ রানের লক্ষ্য দেয় নিউজিল্যান্ডকে। জবাবে নিউজিল্যান্ড লড়াইটা করে ডেভন কনওয়ের সেঞ্চুরিতে। ম্যাচের মধ্যভাগে পরপর দুই বলে দুই উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন শার্দুল ঠাকুর। পরের ওভারে আরো উইকেট শিকার করে ম্যাচটাতে পুরোপুরি ভারতের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন শার্দুল। ভারতের ৯০ রানের জয়ে ব্যাটে-বলে অবদান রেখে ম্যাচ সেরাও হয়েছেন শার্দুল।

ইন্দোরে হোলকার ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার সিরিজের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হয় ভারত ও নিউজিল্যান্ড। সেখানে টস জিতে বোলিং বেছে নেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক টম লাথাম। টসে জিতে বোলিং নেওয়াটা যে লাথামের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল সেটা ম্যাচের শুরু থেকেই বুঝিয়েছেন ভারতীয় ব্যাটাররা। টসে হেরে ব্যাট করতে রোহিত শর্মা ও শুবমান গিল কিউই বোলারদের কোনো সুযোগই দেননি। নিউজিল্যান্ডের বোলারদের কোনো রকম পাত্তা না দিয়ে উদ্বোধনীত জুটিতে ওভার প্রতি আট রান করে এনে গড়েছেন দুইশত রানের জুটি। সাথে দুজনেই পেয়েছেন সেঞ্চুরির দেখা, রোহিত-গিলের জোড়া সেঞ্চুরিতে ভারত ৯ উইকেটে করেছে ৩৮৫ রান।

২১২ রানে উদ্বোধনীয় জুটি গড়ার পথে রোহিত শর্মা ও শুবমান গিল সেঞ্চুরি করেন যথাক্রমে ৮৩ ও ৭২ বলে। ৯ প্রায় তিন বছর পর বাউন্ডারি এবং ৬ ছক্কায় ৮৩ বলে সেঞ্চুরি করেন রোহিত। আর গিল ১৩ বাউন্ডারি এবং ৪ ছক্কায় ৭২ বলে শেষ চার ইনিংসে পেয়ে যান তৃতীয় সেঞ্চুরির দেখা।

দুজনের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ভারত দুইশো পার করে মাত্র ১৪৫ বলে। প্রায় আটের উপরে রান রেটে ভারত এগুচ্ছিল রোহিত ও গিলের ব্যাটে, সেই সাথে ইতিহাসে প্রথম ৫০০ ছাড়ানো সংগ্রহের পথেই হাটছিল ভারত। তবে সেটা আর হয়নি নিউজিল্যান্ডের বোলারদের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে। দলীয় ২১২ রানে রোহিত শর্মাকে (১০১) ফিরিয়ে নিউজিল্যান্ডকে প্রথম উইকেট এনে দেন মাইকেল ব্রেসওয়েল। এরপর গিলকেও দ্রুত ফেরান ব্লেয়ার টিকনার, গিল ফিরেন ৭৮ বলে ১১২ রানে।

দলীয় ২৬৮ রানে ইশান কিশান রান আউটে কাটা পড়লে রানের গতি থমকে যায় ভারতের। ব্যাট হাতে কিশানও আজ ছিলেন নিষ্প্রভ, ১৭ রান করতে কিশান বল খেলেছেন ২৪টি। এরপর ভিরাটও ফিরেন দ্রুত, রানের গতি বাড়াতে গিয়ে হাত খোলে খেলতে গিয়ে আউট হন জ্যাকব ডাফির বলে। আউট হওয়ার আগে ভিরাট ২৭ বলে ৩ চার এবং ১ ছক্কায় করেন ৩৫ রান। ভিরাটের পর সুরিয়াকুমার যাদবকে নিজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করেন ডাফি। আক্রমনাত্মক খেলতে থাকা সুরিয়াকুমারকে ভয়ংকর রূপধারণ করার আগেই সাজঘরে ফেরান ডাফি। আউট হওয়ার ২ ছক্কায় ১৪ রান করেন সুরিয়াকুমার।

রোহিত-গিলের ব্যাটে পাহাড়সম সংগ্রহের স্বপ্ন দেখা ভারত মিডল অর্ডার ব্যাটারদের ব্যর্থতায় সেটা আর হয়নি। সেখানেও মূল কৃতিত্ব অবশ্য নিউজিল্যান্ডের বোলারদের, ভিরাট কোহলি ও সুরিয়াকুমার যাদবকে ফিরিয়ে রানের গতিপথ আটকে ধরেন ডাফি। এরপর ওয়াশিংটন সুন্দর ও ভয়ংকর হয়ে ওঠা শার্দুল ঠাকুরকে ফিরিয়ে ভারতকে রানের পাহাড় গড়তে দেননি ব্লেয়ার টিকনার। শার্দূলের ব্যাট থেকে আসে ১৭ বলে ২৫ রান।

শেষদিকে হার্দিক পান্ডিয়ার মারকাটি ব্যাটিংয়ে সাড়ে তিনশো পার করে ভারত। পান্ডিয়া আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ৩৮ বলে ৩ ছক্কা এবং ৩ বাউন্ডারির সাহায্যে ৫৪ রানের দৃষ্টিনন্দন ইনিংস খেলেন। পান্ডিয়ার অসাধারণ ব্যাটিংয়ে ভারত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ৩৮৫ রান সংগ্রহ করে।

৩টি করে উইকেট শিকার করেন জ্যাকব ডাফি ও ব্লেয়ার টিকনার। ভারতের ৩ উইকেট শিকার করতে ডাফিকে ১০ ওভারে রান গুনতে হয়েছে কাটায় কাটায় ১০০। টিকনারও সাতের বেশি ইকোনমিতে পেয়েছেন ৩ উইকেট। এছাড়া একটি উইকেট পেয়েছেন মাইকেল ব্রেসওয়েল।

জবাবে খেলতে নেমে নিউজিল্যান্ড ম্যাচ হেরেছে ৯০ রানে। নিউজিল্যান্ড ম্যাচ হারলেও ভারতের জোড়া সেঞ্চুরির জবাবটা নিউজিল্যান্ড ভালভাবে দিয়েছে ডেভন কনওয়ে দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে।

ভারতের ৩৮৫ রানের জবাবে খেলতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় বলে ওপেনার ফিন এ্যালেনের উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। স্কোর বোর্ডে কোনো রান যোগ করার আগেই এ্যালেন ফিরেন সাজঘরে। সেখান থেকে নিউজিল্যান্ড ঘুরে হেনরি নিকোলস ও ডেভন কনওয়ের শতরানের জুটিতে। দুজনের ব্যাটে রান তাড়ার সাহস পাচ্ছিল নিউজিল্যান্ড। দলীয় ১০৬ রানে নিকোলসকে (৪২) সাজঘরে ফিরিয়ে ১০৬ রানের জুটি ভাঙেন কুলদীপ যাদব।

তবে এখানেই থামেনি নিউজিল্যান্ডের প্রচেষ্টা, তৃতীয় উইকেটে ড্যারিল মিচেলকে নিয়ে আরো ৭৮ রানের মূল্যবান জুটি গড়েন কনওয়ে। এই জুটি গড়ার পথে কনওয়ে ৭১ বলে ৭ চার এবং ৭ ছক্কার সাহায্যে পৌঁছে সেঞ্চুরিতে।

ইনিংসের ২৬তম ওভারে পরপর দুই বলে সেট ব্যাটার ড্যারিল মিচেল (২৪) এবং উইকেটে আসা কিউই অধিনায়ক টম লাথামকে আউট করে নিউজিল্যান্ডকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন শার্দুল ঠাকুর। ফলে ১৮৪ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। এক ওভার পরে এসে ছয়ে খেলতে নামা গ্লেন ফিলিপসকে (৫) ফিরিয়ে নিউজিল্যান্ড কোনঠাসায় ফেলে দেন শার্দুল। ১৬ রানের মাথায় দ্রুত ৩ উইকেট হারানোর পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি সফরকারীরা।

২৩০ রানে ডেভন কনওয়ে ১৩৮ রানে সাজঘরে ফিরলে ভারতের ম্যাচ জয় তখন সময়ের অপেক্ষা। ১০০ বলে ১২ বাউন্ডারি এবং ৮ ছক্কার সাহায্যে ১৩৮ রানের লড়াকু ইনিংস খেলা কনওয়ে ফিরেন উমরান মালিকের বলে।

এরপর মাইকেল ব্রেসওয়েল ও মিচেল সান্টনার মিলে যা করেছেন তাতে শুধু নিউজিল্যান্ডকে হারের ব্যবধান কমাতে সাহায্য করেছে। মাইকেল ব্রেসওয়েল ২২ বলে করেন ২৬ রান। সান্টনারের ব্যাট থেকে আসে ২৯ বলে ৩৪ রান। এরপর আর কেউ তেমন সুবিধা করতে পারেননি, ফলে ২৯৫ রানে থামে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। ৯০ রানের জয়ে ভারত সিরিজ জিতে ৩-০ তে।

মিডল ওভারে দ্রুত তিন উইকেট শিকার করে নিউজিল্যান্ডকে ম্যাচ থেকে ছিটকে শার্দুল ঠাকুর হয়েছেন ম্যাচ সেরা। বোলিংয়ে ৪৫ রানে ৩ উইকেট এবং ব্যাটিংয়ে ১৭ বলে ২৫ রান করার ফল পেয়েছেন শার্দুল।

তিন ম্যাচে একটি দ্বিশতক এবং একটি শতকে ১৮০ গড়ে ৩৬০ রান করে সিরিজ সেরা হয়েছেন শুবমান গিল।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

তাসকিনের আগুন বোলিংয়ে অবশেষে ঢাকার জয়

Read Next

আইসিসির বর্ষসেরা টেস্ট দলে অজি-ইংলিশদের দাপট

Total
1
Share