তাসকিনের আগুন বোলিংয়ে অবশেষে ঢাকার জয়

featured photo updated v 34
Vinkmag ad

ছোট টার্গেট তাড়া করতে নেমে বেশ বিপাকে পড়তে হয় খুলনার ব্যাটিং লাইনকে। সৌম্য সরকারের মারকুটে ব্যাটিংয়ের পরও ঢাকা ডমিনেটরসের স্কোরবোর্ডে আসে কেবল ১০৮। সৌম্য একা করেছেন ৫৭, ঢাকার বাকি দশ ব্যাটার মিলে ৫১। ব্যাটারদের ব্যর্থতায় নাহিদুল ইসলামের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ের ম্যাচেও হারতে হল খুলনা টাইগার্সকে। মাত্র ৯ রান খরচায় ৪ উইকেট নিয়ে ঢাকার জয়ের নায়ক তাসকিন!

টানা ৬ ম্যাচে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতার পর অবশেষে জয়ের মুখ দেখল ঢাকা ডমিনেটরস। এবারের আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই খুলনার বিপক্ষে সর্বশেষ জয় পেয়েছিল ঢাকা। আজ মধুর প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও পারেনি খুলনা। ১০৮ রান টপকাতে নেমে তাদের চরম ব্যাটিং বিপর্যয়, পায়নি ৮৪ রানের বেশি। তাসকিনের আগুন বোলিংয়ে ঢাকা পেল ২৪ রানের জয়।

এর আগে নাহিদুল ইসলাম ও নাসুম আহমেদের স্পিন বিষে নীল হয় ঢাকা ডমিনেটরসের ব্যাটিং লাইন। এই দুইয়ের কাছেই যেন কুপোকাত ঘরের দল। খুলনা টাইগার্সের স্পিনার নাহিদুলের ৪-২-৬-৪; এটিই এখন পর্যন্ত এবারের বিপিএলের সেরা বোলিং ফিগার। নাহিদুলের ক্যারিয়ার সেরা টি-টোয়েন্টি বোলিং।

নাহিদুলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উইকেট শিকার করেন আরেক স্পিনার নাসুম আহমেদ। তিনি ৪ ওভারে মাত্র ১১ রান খরচায় দখলে নেন তিনটি উইকেট। আর তাতে ১০৮ রানেই গুটিয়ে যায় ডমিনেটরসের ইনিংস।

স্পিনারদের এমন ঘূর্ণি জাদুর রাতে হেসেছে ঢাকার ওপেনার সৌম্য সরকারের ব্যাট। এবারের বিপিএলে একের পর এক ম্যাচে ব্যর্থ হওয়া সৌম্য আজ ফিরলেন নিজের চেনা ছন্দে। পাওয়ার হিটিংয়ের ক্যারিশমা দেখালেন মিরপুরে বিপিএল দেখতে আসা দর্শকদের, জায়গায় দাঁড়িয়ে হাঁকিয়েছেন ছয়। ৩৮ বলে ফিফটি হাঁকানো সৌম্য অবশ্য এরপর বেশিপথ এগোতে পারেননি। ব্যক্তিগত ৫৭ রানে থাকা সৌম্যকে থামিয়ে দেন নাসুম। ফেরার আগে ৪৫ বলে ৬ চার ও ২ ছয়ে সাজান এই ইনিংস।

নাহিদুল, নাসুমের তোপেড় সামনে পড়ে দুই অংকের ঘর ছুঁয়েছেন কেবল ৩ ব্যাটার। ৩ জন হয়েছেন ডাক। সৌম্য’র পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২ রান আসে তাসকিন আহমেদের ব্যাট থেকে। আল-আমিন হোসেন অপরাজিত থাকেন ১০ রানে।

আগের ম্যাচে ৪ করা ওপেনার মিজানুর রহমানের আজকের সংগ্রহ ১। উসমান গনি ও মোহাম্মদ মিঠুনকে রানের খাতা খুলতেই দেননি নাহিদুল। বিপিএলে অভিষেক হওয়া ইংলিশ ব্যাটার অ্যালেক্স ব্লেক ১৭ বল খেলে করেছেন ৩ রান। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তিনি দেখালেন টেস্ট ক্রিকেটের প্রদর্শনী। টানা ৪ ওভার করে প্রথম চার উইকেটের ৪টিই একা হাতে দখলে নেন নাহিদুল।

ব্লেকের মতোই টেস্ট মেজাজী রূপ নেওয়া অধিনায়ক নাসির ১১ বলে করেন ৫। তাকে অবশ্য ফেরান ওয়াহাব রিয়াজ। এরপর ইনিংসের ১৫তম ওভারে নাসুমের নিচু হয়ে আসা বলে স্টাম্প হারান সৌম্য। এক বল পরই নাসুমের লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন ৩ রানে থাকা আরিফুল হক। আফগান আমির হামজা হয়েছেন নাহিদ রানার শিকার। তিনি ৬ বল খেলে করেন এক। ফলে নির্ধারিত ওভারের দুই বল বাকি থাকতেই শেষ হয়ে যায় ঢাকার ইনিংস। ১১৮ বলে ১০ উইকেট খুইয়ে তাদের সংগ্রহ ১০৮।

ছোট লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই উইকেট হারান খুলনার ক্যারিবীয় ওপেনার শাই হোপ। নিজের দ্বিতীয় ওভারে এসেই তাসকিন স্টাম্প ভেঙে দেন হোপের। প্রথমবারের মতো বিপিএল মাতাতে এসে প্রথম ম্যাচে হোপের সংগ্রহ ৫। তিনে নামা মাহমুদুল হাসান জয় ৪ রান করতেই নিয়েছেন বিদায়। অধিনায়ক নাসিরের ডেলিভারিতে জয় ক্যাচ তুলেন আরিফুলের হাতে।

নিজের দ্বিতীয় ওভারে নাসিরের দ্বিতীয় শিকার তামিম ইকবাল। ২৩ বলে ৩০ করে সাজঘরে ফেরত যান তামিম। ১০ বল খেললেও ৪ রানের বেশি করতে পারেননি আজম খান। ব্যক্তিগত ২১ রানে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন অধিনায়ক ইয়াসির চৌধুরী। এডিআরএসের সাহায্য নিয়েও বাঁচতে পারেননি ইয়াসির।

নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে যাওয়া আমির হামজা আমাদ বাটকে (৭) ফিরিয়ে দেখা পান প্রথম উইকেটের। এরপর দারুণ এক ডেলিভারিতে আল-আমিন হোসেন বোল্ড করেন নাহিদুলকে (৫)।

১৬তম ওভারে এসে তাসকিন ঝরালেন আগুন। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে ফিরিয়ে স্টাম্প ভাঙেন নাহিদ রানার। আর তাতেই ৮৪ রানে গুটিয়ে যায় খুলনার ইনিংস। ঢাকা পায় ২৪ রানের স্বস্তির জয়।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

শান্তকে অনবদ্য বানানোর অন্যতম কারিগর সোহেল ইসলাম

Read Next

দাপট দেখিয়ে নিউজিল্যান্ডকে হারাল ভারত

Total
1
Share