এবার উইন্ডিজ বধ, রুয়ান্ডার স্বপ্নযাত্রা চলছেই

featured photo updated v 30
Vinkmag ad

দক্ষিণ আফ্রিকায় যেন রাজ করতে এসেছে রুয়ান্ডার তরুণীরা। ৮০ লাখ জনসংখ্যার আফ্রিকান দেশটি ইতিমধ্যে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছে গ্রুপ পর্বে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে। সুপার সিক্সে আজ ক্রিকেটের আরেক পরাশক্তি ওয়েস্ট ইন্ডিজের মেয়েদের হারিয়ে ইতিহাস গড়ার পাশাপাশি ক্রিকেটে রুয়ান্ডার স্বপ্নযাত্রাও বটে।

ক্রিকেটে রুয়ান্ডা অতটা সমৃদ্ধ নয় যতটা খ্যাতি আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ক্রিকেটে ক্যারিবিয়ান ছেলে বলেন আর মেয়ে বলেন সবাই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। সেদিক থেকে রুয়ান্ডার ক্রিকেটে অর্জনটা শুন্যের কোটায়, ছেলেদের মতো মেয়েদের ক্রিকেটেও তারা বেশ পিছিয়ে বলা যায়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যেমন রুয়ান্ডার বলার মতো কিছু ছিল না, তেমনি আইসিসির সহযোগী দেশের তালিকায়ও নেই আফ্রিকান এই দেশটির নাম। এমনকি এর পরের সারির দেশগুলোতেও রুয়ান্ডার নাম খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তাতে অবশ্য তাদের কিছু আসে যায় না। ব্যাট-বলের খেলা ক্রিকেটে নিজেদের জানান দিতে বাইশগজে। আর সেটা তারা ভালভাবেই দিচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত আইসিসি প্রথম নারী অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে।

গ্রুপ পর্বে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে রুয়ান্ডার স্বপ্ন যাত্রার শুরু, এরপর জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে সুপার সিক্স নিশ্চিত করে রুয়ান্ডা। সেখানেও বড় চমক নিয়ে হাজির রুয়ান্ডার তরুণীরা, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হারলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৪ উইকেট হারিয়ে আরেকটি ইতিহাসের জন্ম দিয়েছে তারা।

দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমের ইউনিভার্সিটি ওভালের ১ নম্বর মাঠে সিলভিয়া উসাবিমানা ও মারি তুমুকুন্দে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মাত্র ৭০ রানে গুটিয়ে দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের মেয়েদের। ক্রিকেটের একসময়ের পরাশক্তি উইন্ডিজের মেয়েদের দেওয়া ৭১ রানের লক্ষ্য জিসেলি ইশিমুয়ির ব্যাটে রুয়ান্ডা টপকে যায় ৪ উইকেট হাতে রেখে।

৭১ রান তাড়ায় রুয়ান্ডা দ্রুত ২ উইকেট হারায় রুয়ান্ডা। ১২ রানে সাজঘরে ফিরেন মারভেলি উয়াসি, ১৩ রানে আবার ফিরে যান জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়ের নায়ক হেনরিয়েট ইশিমুয়ি। এরপর চারে ব্যাট করতে নামা জিসেলি ইশিমুয়ির ব্যাটে জয়ের পথেই হাটে রুয়ান্ডা, দ্বিতীয় উইকেটে ওপেনার সিনথিয়া তুয়াইজিরিকে নিয়ে যোগ করেন ১৯ রান। দলীয় ৩২ রানে সিনথিয়া (১২) ফিরে গেলেও উইকেটে অবিচল থাকেন ইশিমুয়ি।

এরপর দ্রুত আরও দুই উইকেট হারায় রুয়ান্ডা, তা অবশ্য রুয়ান্ডার ৪ উইকেটের জয়ে বাধা হতে পারেনি ইশিমুয়ির ব্যাটে। ৫৩ বলে সময় উপযোগী ৩১ রানের ম্যাচ জয়ী ইনিংস খেলে মাঠ ছাড়েন ইশিমুয়ি। আর তাতে ৪ উইকেটের জয়ে ক্রিকেট ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষর লেখা হয়ে যায় রুয়ান্ডার নাম। ক্রিকেটের বিশ্ব আসরে প্রথম খেলতে এসে তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে নতুন ইতিহাসের সূচনা করে। এটাকে ক্রিকেটে রুয়ান্ডার স্বপ্ন যাত্রারও শুরু বলা যায়।

এর আগে সিলভিয়া উসাবিমানা ও মারি তুমুকুন্দের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পথ হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। রুয়ান্ডার এই দুই তরুণী মিলে শিকার করেন উইন্ডিজের ৮ উইকেট। দুজনেই ৪টি করে উইকেট শিকার করেন। রুয়ান্ডার মেয়েদের বোলিং কারিশমায় মাত্র ৭০ রানেই থামে উইন্ডিজ। যেখানে সর্বোচ্চ ১৮ রান আসে ওপেনার রিলেয়ানা গ্রিমন্ডের ব্যাট থেকে। রুয়ান্ডার বোলাররা এতোটাই আঁটসাঁট বোলিং করেছেন যে উইন্ডিজের আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি।

সিলভিয়া উসাবিমানা ২০ রানে শিকার করেন ৪ উইকেট আর ৪ উইকেট শিকার করতে মারি তুমুকুন্দে ৩.৩ ওভারে ব্যয় করেন মাত্র ৮ রান।

৩১ রানের অপরাজিত ম্যাচজয়ী ইনিংসে রুয়ান্ডার ৪ উইকেটের জয়ের নায়িকা ইশিমুয়ি।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

ঢাকায় ব্লেক, খুলনায় হোপ

Read Next

আসিফের সঙ্গে শাহীনের তুলনা না করতে বলছেন উথাপ্পা

Total
8
Share