শামি-সিরাজদের সামনে নিউজিল্যান্ডের অসহায় আত্মসমর্পন

শামি-সিরাজদের সামনে নিউজিল্যান্ডের অসহায় আত্মসমর্পন
Vinkmag ad

মোহাম্মদ শামি ও মোহাম্মদ সিরাজের গতির ঝড় যেকোনো ব্যাটারের জন্য সামলানো দায়। সাথে শুরুতে যদি জ্বলে উঠেন হার্দিক পান্ডিয়া, তাহলে তো কথাই নেই। যেকোনো দল শুরুতেই ধরাশায়ী হয়ে যাবে অনায়াসে, আজ রায়পুরে হয়েছেও তাই।

শামি-সিরাজের সাথে বল হাতে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটার জন্য কাল হয়ে উঠেন পান্ডিয়াও। ফলাফল মাত্র ১৫ রানে ৫ হারায় নিউজিল্যান্ড। মিডল অর্ডারে গ্লেন ফিলিপস, মাইকেল ব্রেসওয়েল ও মিচেল সান্টনারের ব্যাটিং দৃঢ়তায় শেষমেশ ১০৮ রানের পুঁজি পায় নিউজিল্যান্ড।

রান তাড়ায় নিউজিল্যান্ডকে কোনো রকম সুযোগ না দিয়ে ৮ উইকেটের জয় নিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ জয় নিশ্চিত করে ভারত। সেই সাথে ঘরের মাঠে টানা আট ওয়ানডে সিরিজ জিতে নেয় ভারত।

ভারত উইকেট বরাবরই স্পিন বান্ধব, নতুবা স্পোর্টিং হয়ে থাকে। তবে রায়পুরের শহীদ বীর নারায়ণ সিং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম যেন ভিন্ন বার্তাই দিল, নিজের বুকে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ ধারণ করতেই উপমহাদেশীয় উইকেটের চিন্তাই যেন পালটে দিল ভারতের নতুন এই মাঠ।

এতোটা পেস বান্ধব উইকেট হবে, সেটা হয়তো কল্পনাও করতে পারেনি পেস স্বর্গে বাস করা ব্ল্যাক ক্যাপসরা। শামি-সিরাজ-হার্দিকদের সামনে ডেভন কনওয়ে, হেনরি নিকোলসদের ভুগতে দেখে যেকেউ বলে দিতে পারে নিউজিল্যান্ডের ১০৮ টপকাতেও ভারতকে কিছুটা বেগ পেতে হবে। কারণ পেস উইকেটে গতির সাথে দারুণ সুইংয়ে ভারতীয় ব্যাটারদের নাকানিচুবানি খাওয়ানোর মতো বোলার নিউজিল্যান্ডের একাদশে রয়েছে।

তবে সেটা হতে দেননি ভারতের দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও শুবমান গিল। রোহিত-গিলের ব্যাটে যেন বদলে গেল উইকেটের আচরণ, একটু যা ছিল বোলারদের স্বর্গ, নিমিষেই তা হয়ে গেল ব্যাটিং স্বর্গ। ১০৭ রান তাড়ায় সাবলীলভাবেই ব্যাট চালান দুজনেই কিউই বোলারদের কোনো সুযোগ না দিয়েই উদ্বোধনীয় জুটিতে দুজনে যোগ করেন ৭২ রান। রোহিত মাত্র ৪৭ বলে ৭ বাউন্ডারি এবং ২ ছক্কায় করেন ফিফটি। ফিফটির পর রোহিতকে থামান হেনরি শিপলি। ৫০ বলে ৫১ রানে ফিরেন রোহিত।

এরপর গিল-ভিরাট জুটিতে ভারত পায় ২৬ রান, ১০৮ রানের তাড়ায় ভিরাট ফিরেন ১১ রানে। দলীয় ৯৮ রানে ভিরাট ফেরান মিচেল সান্টনার। ভিরাটের বিদায়ের পর আর কোনো উইকেট পড়তে দেননি শুবমান গিল ও ইশান কিশান। ইশানকে সাথে নিয়ে মাত্র কুড়ি ওভার পার হতেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন গিল। নিউজিল্যান্ডের ১০৮ ভারত টপকে যায় মাত্র ২০.১ ওভারে ৮ উইকেট হাতে রেখে। ৪০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ম্যাচ শেষ করে আসেন শুবমান গিল। সাথে ৯ বলে ২ বাউন্ডারিতে ৮ রানে অপরাজিত থাকেন কিশান।

এর আগে দারুণ গতির সাথে নিখুঁত লাইন লেন্থ আর দুর্দান্ত সুইংয়ে শুরুতে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের চাপে ফেলেন মোহাম্মদ শামি ও মোহাম্মদ সিরাজ। দারুণ এক ডেলিভারিতে প্রথম ওভারেই শুন্য রানে ফেরান ওপেনার ফিন অ্যালেনকে। শামি ওভারের প্রথম বল থেকেই আউটসুইংয়ে বেশ ভুগিয়েছেন অ্যালেনকে। শেষমেশ সেই সুইংয়েই কাবু করেছেন শামি। দলীয় ৮ রানে সিরাজের বলে পরাস্ত তিনে খেলতে আসা হেনরি নিকোলস। সিরাজের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে নিকোলস ফিরেন মাত্র ২ রানে। এরপর দুর্দান্ত আউটসুইংয়ে শামি ফেরান ড্যারিল মিচেলকে, এবার নিজের বলে নিজে ক্যাচ লুফে নেন শামি। মিচেল ফিরেন মাত্র ১ রান করে। ফলে নিউজিল্যান্ড ৩ উইকেট হারায় মাত্র ৯ রানে।

শামি-সিরাজের সাথে বেশ আটসাট বোলিং করেছেন হার্দিক পান্ডিয়াও। ৬ ওভারের হাত ঘুরিয়ে হার্দিক ৩ ওভার নিয়েছেন মেইডেন। রান দিয়েছেন ১৬, সাথে তুলে নিয়েছেন ২ উইকেট। শামি-সিরাজের সাথে হার্দিকও নিউজিল্যান্ডের ধ্বংসের গুরু, ইনিংসের দশম ওভারে ডেভন কনওয়েকে (৭) ফেরান হার্দিক। তাতেই ১৫ রানে নেই নিউজিল্যান্ডের ৪ উইকেট। এরপর পেস ত্রয়ীর সাথে যোগ দেন শার্দূল ঠাকুর, তিনি ফেরান টম লাথামকে (১)। ভারতীয় বোলারদের বিধ্বংসী বোলিংয়ে ১৫ রানেই নেই কিউই ৫ ব্যাটার। যে হারে সফরকারীরা উইকেট হারাচ্ছিল তাতেই মনে হচ্ছিল আজ বুঝি সর্বনিম্ন রানেই অলআউট হয়ে যাবে নিউজিল্যান্ড।

তবে সর্বনিম্ন রানে অলআউট হতে কিউইদের, গ্লেন ফিলিপস, মাইকেল ব্রেসওয়েল ও মিচেল সান্টনার ব্যাটিং দৃঢ়তায় নিউজিল্যান্ড শুধু সর্বনিম্ন রানে অলআউট হওয়ার শঙ্কা এড়ায়নি পাশাপাশি সংগ্রহ একশো ছাড়ায়। ভারতের বোলারদের সামলিয়ে ইনিংস মেরামতে নামেন গ্লেন ফিলিপস ও মাইকেল ব্রেসওয়েল। সেই চেষ্টায় দুজনে গড়েন ৪১ রানের জুটি, যাতে স্বস্তি ফিরে নিউজিল্যান্ড শিবির। শুধু স্বস্তি নয়, একটা সম্মান জনক সংগ্রহের সম্ভাবনাও জাগে তখন। তবে সেই জুটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি মোহাম্মদ শামি আক্রমণে এলে। সিরিজ দুর্দান্ত ব্যাট করা মাইকেল ব্রেসওয়েলকে (২২) ফিরিয়ে ৪১ রানে জুটি থামান। দারুণ এক জুটির পর ব্রেসওয়েল ফেরাটা কিউইদের জন্য দুশ্চিন্তারও কারণ বটে, প্রথম ম্যাচে তো ব্রেসওয়েলই একাই ভারতকে হারিয়ে দিয়েছিলেন প্রায়। ব্রেসওয়েলের পর কার্যত কেউ নেই নিউজিল্যান্ডকে দাঁড় করানোর।

এরপর গ্লেন ফিলিপস ও মিচেল সান্টনারের ব্যাটে আরও একটি চল্লিশোর্ধ্ব জুটি আসে। মিচেল সান্টনারকে (২৭) ফিরিয়ে ৪৭ রানের সপ্তম উইকেট জুটি থামান হার্দিক পান্ডিয়া। ফলে ১০৩ রানে ৭ উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। পান্ডিয়ার পর নিউজিল্যান্ড শিবিরে আঘাত হানেন ওয়াশিংটন সুন্দর, এবার তার শিকার গ্লেন ফিলিপস। ১৫ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর তিলে তিলে সফরকারীদের ইনিংসটি টেনে তুলছিলেন ফিলিপস। সেই ফিলিপস থামিয়ে সুন্দর এক কথায় নিউজিল্যান্ডকেই থামিয়ে দেন। দলীয় ১০৩ রানে ফিলিপস ফিরলে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস থামে ১০৮ রানে। আউট হওয়ার আগে ফিলিপস ৫২ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ৩৬ রানে ইনিংস খেলে নিউজিল্যান্ডকে বিপর্যয় কাটিয়ে শতরানের পুঁজি পাইয়ে দেন ফিলিপস।

মোহাম্মদ শামি ৬ ওভার বোলিং করে ১ মেইডেন ১৮ রানে ৩ উইকেট শিকার করে মূলত নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের নিয়ে ধ্বংসলীলায় মাতেন। সাথে হার্দিক পান্ডিয়া ও ওয়াশিংটন সুন্দর ২টি করে উইকেট শিকার করে নিউজিল্যান্ডকে ১০৮ রানে বেধে ফেলত কার্যকর ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া একটি করে উইকেট শিকার করেন মোহাম্মদ সিরাজ, কুলদীপ যাদব ও শার্দূল ঠাকুর।

১৮ রানে ৩ উইকেট শিকার করে ভারতের ৮ উইকেটের সহজ জয়ের নায়ক মোহাম্মদ শামি।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশের নারী দল ঘোষণা

Read Next

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ সুপার সিক্সে দেখল হার

Total
8
Share