সাকিবদের রানের পাহাড়ে চাপা পড়েছে রংপুর

featured photo updated v 25
Vinkmag ad

সাকিব, ইফতিখার চার-ছয়ের বন্যা বইয়ে দেন সাগরিকায়। এই দুই’য়ের ১৯২* রানের জুটিতে ২৩৮ রানের রেকর্ড গড়া সংগ্রহ ফরচুন বরিশালের স্কোরবোর্ডে। ইফতিখার সেঞ্চুরি হাঁকাতে পারলেও সাকিবকে ফিরতে হয়েছে ১১ রানের আক্ষেপ নিয়ে। জবাব দিতে নেমে ১৭১ রানে থামে রংপুর। ৬৭ রানের বড় জয়ের ম্যাচে সেরার পুরস্কার শতরান হাঁকানো ইফতিখারের হাতে। 

বিপিএলের ১৮তম ম্যাচে সাকিব-ইফতিখার তান্ডবে ১৯২ রানের জুটি; ফরচুন বরিশালের সর্বোচ্চ ২৩৮ রানের রেকর্ড। ইফতিকারের সেঞ্চুরি আর সাকিবের ৮৯* রানে রংপুরকে ২৩৯ রানের টার্গেট দেয় বরিশাল। রংপুরের হয়ে বলার মতো ইনিংস কেবল শামিম হোসেনের ব্যাটে। শেষদিকে এই তরুণের ২৪ বলের ৪৪ রানের ক্যামিওতে কমলো রংপুরের হারের ব্যবধান।

সাকিব-ইফতিখারের ১৯২* রানের জুটি টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে ৫ম উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি। ইফতেখার আহমেদ সেঞ্চুরি পূর্ণ করে প্যাভিলিয়নে ফিরলেও সাকিব আল হাসানের ১১ রানের আক্ষেপ।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম পাওয়ার-প্লের মধ্যেই ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে ফরচুন বরিশাল। এনামুল হক বিজয় উইকেট হারান ব্যক্তিগত ১৪ রানে। তিনে নামা ইব্রাহিম জাদরান হয়েছেন ডাক। হারিস রউফ এক ওভারেই শিকার করেন জোড়া উইকেট।

পরের ওভারেই হাসান মাহমুদের বাজিমাত। তার ঝুলিতেও জোড়া শিকার। ২৪ রানে থাকা মেহেদী হাসান মিরাজকে ফিরিয়ে দিয়ে তুলে নেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে। গোল্ডেন ডাকের লজ্জায় পড়েন রিয়াদ। ৪৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলা ফরচুন বরিশাল গ্ল্যামার ফিরে পেয়েছে ৬ ওভার পর।

অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের সঙ্গে পাক তারকা ইফতিখার আহমেদের তান্ডবে রীতিমতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে যায় রংপুরের বোলিং লাইন। প্রথম ১০ ওভারে ৭৩ করা বরিশাল পরের দশ ওভারে স্কোরবোর্ডে জমা করেছে ১৬৫ রান। আর তাতেই ২৩৮ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ।

১৮তম ওভার শেষে সাকিব ছিলেন ৭২ রানে, আর ইফতিখার ৭০ রানে। ১৯তম ওভারে হারিস রউফকে হ্যাটট্রিক ছয় হাঁকিয়ে ইফতিখার পৌঁছে যান ৮৯ সংগ্রহে। তখন সাকিবের ৭৭। শেষ ওভারে সেঞ্চুরি হাঁকাতে ইফতিখারের লাগে ১১, সাকিবের ২৩। মেহেদী হাসানের প্রথম তিন বলেই ৪, ৬, ১ নিয়ে সেঞ্চুরি উদযাপনে মাতেন ইফতিখার। বাকি তিন বলের প্রথমটিতে আসে বাউন্ডারি, তবে লেগ বাই’তে। শেষ দুই বলে দুই ছক্কা হাঁকিয়ে সাকিব পৌঁছান ৮৯ এ।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে মেহেদী হাসান মিরাজের স্পিন ঘূর্ণির সামনে পড়ে রংপুর রাইডার্স। পাওয়ার-প্লেতে ৩৮ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে রংপুর। রান-আউটে কাটা পড়ার আগে রনি তালুকদারের ব্যাট থেকে আসে ১১ রান।

তিনে নামা পারভেজ হোসেন ইমন ১ রান করতেই মিরাজের হাতে দিয়েছেন ফিরতি ক্যাচ। আরেক ওপেনার পাকিস্তানি তরুণ সাইম আইয়ুব ১৮ রানে হয়েছেন বোল্ড। মিরাজ এক ওভারে তুলে নেন জোড়া উইকেট।

স্বদেশী মোহাম্মদ জুনিয়রের কাছে পরাস্ত শোয়েব মালিক (৯)। দারুণ খেলতে থাকা মোহাম্মদ নাইমও পড়েছেন রান-আউটের ফাঁদে। সাজঘরের পথে হাটা শুরুর আগে মাত্র ১৮ বল খেলে ৬ চারে ৩১ রানের ইনিংস সাজান নাইম। দুই রানে থাকা মেহেদীকে দিয়ে মিরাজ দখলে নেন তিন নম্বর উইকেট।

৭৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলা রংপুরকে এরপর টেনে তুলেন মোহাম্মদ নওয়াজ ও শামিম হোসেন। তবে ৫৭ রানের এই জুটি ভাঙার ভূমিকায় আসেন ওয়াসিম জুনিয়র। ব্যাটে ঝড় তুলে চাওয়া নওয়াজকে ৩৩ রানের বেশি করতে দেননি। এরপর কামরুল ইসলাম রাব্বি এসে পরপর দুই বলে বিদায় করেন রবিউল হক (১৩) ও হারিস রউফকে (০)।

শেষবেলায় শামিম হোসেনের লড়াইয়ে রংপুরের কমেছে হারের ব্যবধান।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

সাকিব-ইফতিখারের তান্ডবে ভাঙল বিশ্বরেকর্ড

Read Next

‘সাকিব ভাইকে বলেছিলাম ১০০ করার স্বপ্ন…’

Total
3
Share