গিলের রেকর্ড গড়ার দিন ব্রেসওয়েল ভয় ধরিয়ে দিয়েছিলেন ভারতকে

গিলের রেকর্ড গড়ার দিন ব্রেসওয়েল ভয় ধরিয়ে দিয়েছিলেন ভারতকে
Vinkmag ad

শুবমান গিলের অনবদ্য ডাবল সেঞ্চুরিতে ৩৫০ রানে পুঁজি পাওয়া ভারতীয় বোলাররা শুরুতে চেপে ধরেছিল নিউজিল্যান্ডকে। দ্রুত ৪ উইকেট তুলে নিয়ে কোনঠাসা করে দিয়েছিল কিউইদের, তবে সেই বিপর্যয় কাটিয়ে নিউজিল্যান্ড জয়ের লড়াইয়ে ফিরে মাইকেল ব্রেসওয়েলের ব্যাটে।

শেষ অব্দি লড়াই চালিয়ে ব্রেসওয়েল যখন থামেন, তখন জয় থেকে মাত্র ১৩ রান দূরে। অথচ শেষ ১২৬ বলে ২১৯ রানের হিসাবটা প্রায় মিলিয়ে ফেলেছিলেন ব্রেসওয়েল। শেষ ওভারে শারদুল বাধায় সেটা আর হয়নি। চরম উত্তেজনা পূর্ণ ম্যাচে ১২ রানে শ্বাসরুদ্ধকর জয়ে মাঠ ছাড়ে ভারত।

ভারত প্রথমে ব্যাট করে শুবমান গিলের ২০৮ রানের রেকর্ড গড়া ইনিংসে সংগ্রহ করে ৩৪৯ রান। জবাবে নিউজিল্যান্ডও কম যায়নি, মাইকেল ব্রেসওয়েলের ৭৮ বলে ১৪০ রানের ইনিংসে কিউইরা থামে ৩৩৭ রানে।

অভিষেকের পর থেকেই ব্যাট হাতে অপ্রতিরোধ্য, দুর্বার গতিতে ছুটছেন অবিরত। ভারতের হয়ে মাত্র ১৯ ইনিংসে ছুঁয়েছেন হাজার রানের মাইলফলক। যেখানে পেছনে ফেলেছেন তারই সতীর্থ ভিরাট কোহলি ও শিখর ধাওয়ানকে। কোহলি-ধাওয়ানে চেয়ে ৫ ইনিংস কম খেলেই ১০০০ রান করেছেন গিল। নিজ দেশে প্রথম হলেও বিশ্বে তিনি দ্বিতীয়।

দ্রুত হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করার দিনে নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন গিল। হায়দারাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাট করতে নেমে গিল উদ্বোধনী জুটিতে গড়েন ৬০ রানের। কিউই বোলার ব্লেয়ার টিকনাররের বলে ৩৮ বলে ৩৪ রানের ইনিংস খেলে রোহিত ফিরলে থামে উদ্বোধনী জুটি। তবে থামেননি গিল, কারণ নিজের সেরাটা যে এখনো জমানো আছে।

রোহিতের পর ভিরাট কোহলি আজ ফিরেন দ্রুত, মিচেল স্ট্যান্টনার সরাসরি বোল্ড করে তাকে ফেরান মাত্র ৮ রানে। এরপর ক্রিজে আসেন ইশান কিশান, বাংলাদেশের বিপক্ষে ডাবল সেঞ্চুরি করেও যার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ কাটাতে হয়েছিল ডাগ আউটে বসে। তিন ম্যাচ পর একাদশে ফিরলেও কিশানের জন্য সেটা সুখকর হয়নি। ১৪ বল খেলে ৫ রানের বেশি করতে পারেননি। দলীয় ১১০ রানে তাকে ফেরান লকি ফার্গুসন।

এদিকে উইকেট আগলে রেখে সাবলীল ব্যাট করছেন শুবমান গিল। ইনিংস মেরামত করতে দরকার যোগ্য সঙ্গ, সেটাও পাচ্ছেন না ঠিকঠাক। তাকে নিয়ে ভারতকে এগিয়ে নেওয়ার কথা ছিল যাদের, সেই ভিরাট-ইশানরাও ফিরেছেন খুব দ্রুত। তবে হাল ছাড়েননি গিল, এক হাতে ভারতকে টেনে তুলেন। সংগ্রহ নিয়ে যান সাড়ে তিনশো ছাড়িয়ে।

মাঝে অবশ্য ৬৫ এবং ৭৪ রানের জুটি গড়ে গিলকে কিছুটা সাহস জুগিয়েছেন সুরিয়াকুমার যাদব ও হার্দিক পান্ডিয়া। সুরিয়াকুমারের সাথে গিল ৬৫ রানের জুটি গড়েন মাত্র ৫৩ বলে। যেখানে সুরিয়াকুমারের ব্যাট থেকে আসে ২৬ বলে ৩১ রান এবং ২৭ বলে ৩৩ রান যোগ করেন গিল। এরপর পান্ডিয়ার সাথে ৭৪ রানের সেই জুটি আসে ৬৭ বলে। হার্দিক পান্ডিয়া মন্তর গতিতে এগুলেও গিল ছিলেন আগ্রাসী মেজাজে। জুটিতে যেখানে পান্ডিয়া ২৮ রান করতে বল খেলেন ৩৮টি, সেখানে ২৯ বলে যোগ করেন ৪১ রান।

৫২ বলে ফিফটি করা গিল সেঞ্চুরিতে পৌঁছে যান ১৪ বাউন্ডারি এবং ২ ছক্কায় মাত্র ৮৭ বলে। সেখান থেকে গিল দেড়শো করেন ১২২ বলে, ১৯ বাউন্ডারি আর ৩ ছক্কায় সাজান গিল তার ইনিংসটি। সেই সাথে কুলদ্বীপ যাদবের সাথে গিল গড়েন ১৬ বলে ৪৩ রানের ঝড়ো এক জুটি। সেই জুটিতেই গিল পেয়ে যান প্রথম দ্বিশতকের দেখা। ক্যারিয়ারের ১৯তম ইনিংসে ১৪৫ বলে ডাবল সেঞ্চুরি করেন গিল। যেখানে শেষ ৮ বলে হাঁকান ৫ ছক্কা, সেখানেও আবার লুকি ফার্গুসনের মতো বোলারকে টানা ৩ ছক্কা হাঁকিয়ে ১৮২ থেকে পৌঁছে যান ডাবল সেঞ্চুরিতে। শেষ পর্যন্ত গিল থামেন ১৪৯ বলে ২০৮ রান করে। যাতে ছিল ১৮টি চার এবং ৯টি ছক্কার মার।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে ২টি করে উইকেট শিকার করেন হেনরি শিপলি ও ড্যারিল মিচেল। ১টি করে উইকেট পান লকি ফার্গুসন, ব্লেয়ার টিকনার ও মিচেল স্ট্যান্টনার।

ভারতের ৩৪৯ রানের জবাবে নিউজিল্যান্ডের শুরুতেই ছিটক যায় ম্যাচ থেকে। দলীয় ২৮ রানেই নিউজিল্যান্ড হারায় ডেভন কনওয়ের উইকেট। এরপর ৪২ রানের ছোট এক জুটি পেলেও সেই জুটি ভেঙে যাওয়ার পর ছন্দ হারায় কেন উইলিয়ামসন বিহীন নিউজিল্যান্ড। দলীয় ৭০ রানে ফিন অ্যালেনকে (৪২) ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন শার্দূল ঠাকুর। এরপর কুলদ্বীপ যাদব ও মোহাম্মদ সিরাজ মিলে একে একে ফেরান হেনরি নিকোলস (১৮), ড্যারিল মিচেলকে (৯)। ফলে ৮৯ রানে ৪ উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড।

পাঁচে ব্যাট করতে আসা টম লাথাম কিছুটা দেখেশুনে এগুতে থাকেন। ষষ্ঠ উইকেটে গ্লেন ফিলিপসের সাথে ২১ রানের জুটি গড়ে নিউজিল্যান্ডের জয়ের আশার বাতি জ্বালান, এরপর মাইকেল ব্রেসওয়েলের সাথে আরও ২১ রান যোগ করেন লাথাম। তবে সেই জুটি বড় হতে দেননি ভারতের দুই পেসার মোহাম্মদ সিরাজ ও মোহাম্মদ শামি। দলীয় ১১০ রানে গ্লেন ফিলিপসকে ১১ রানে আউট করেন মোহাম্মদ শামি, আর দলীয় ১৩১ রানে লাথামকে থামিয়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন মোহাম্মদ সিরাজ।

তবে ম্যাচের সেরা জুটিটা আসে সপ্তম উইকেটে, মাইকেল ব্রেসওয়েল ও মিচেল সান্টনারের ব্যাটে। দেড়শো ছাড়ানো সেই জুটি কাধের কিনারা থেকে নিউজিল্যান্ডকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল একদম জয়ে বন্দরে। ব্রেসওয়েলের একক লড়াই কিউইরা ম্যাচ প্রায় জিতে গিয়েছিল। সান্টনারের সাথে ১০২ বলে ১৬২ রানের জুটি গড়েন ব্রেসওয়েল। সেই জুটি গড়ার পথে ব্রেসওয়েল ১১ বাউন্ডারি এবং ৬ ছক্কায় ৫৭ বলে করেন সেঞ্চুরি। তাকে দুর্দান্ত সঙ্গ দেওয়া স্ট্যান্টনারও ৩৮ বলে ১ ছক্কা এবং ৭ বাউন্ডারিতে করেন ফিফটি।

দলীয় ২৯২ রানে মিচেল স্ট্যান্টনারকে (৫৭) ফিরিয়ে সেই ভাঙেন মোহাম্মদ সিরাজ। পরের বলে হেনরি শিপলিকে ফিরিয়ে হ্যাট্রিকের সুযোগ তৈরি করেন সিরাজ৷ তবে ওভারের শেষ বলটি ভালভাবেই মোকাবেলা করেন লকি ফার্গুসন। এ যাত্রায় ফার্গুসন সফল হলেও উইকেটে থাকতে পারেননি বেশিক্ষণ, হার্দিক পান্ডিয়ার বলে শুবমান গিলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন মাত্র ৮ রান করে।

শেষ ৬ বলে তখন নিউজিল্যান্ডের দরকার ২০ রান, উইকেটে কেবল ব্যাটার মাইকেল ব্রেসওয়েল। শতক হাঁকিয়ে ব্রেসওয়েল তখন দেড়শোর পথে, এদিকে নিউজিল্যান্ডের একমাত্র আশাভরসাও তিনি। ওভারের প্রথম বলে মারলেন ছক্কা, সেখানেও দেখাল দিল নিউজিল্যান্ডের জয়ের আশা। তবে দ্বিতীয় বলে আর কোনো সুযোগ দেননি শারদুল এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে থামিয়ে দেন তাকে। ব্রেসওয়েল ফিরেন ৭৮ বলে ১২ বাউন্ডারি এবং ১০ ছক্কায় ১৪০ রান করে। সেই সাথে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ১২ রানে জয় পায় ভারত।

৪৬ রানে ৪ উইকেট শিকার করে ভারতের ১২ রানের জয়ের মূল কারিগর মোহাম্মদ সিরাজ। এছাড়া ২টি করে উইকেট নিয়ে ভারতের ১২ রানে বড় ভূমিকা রেখেছেন কুলদ্বীপ যাদব ও শার্দূল ঠাকুর।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

রোমাঞ্চকর ম্যাচে আইরিশদের হারাল জিম্বাবুয়ে

Read Next

গিলের ২০৮ এ রেকর্ড বইয়ে ওলটপালট

Total
8
Share