৫৪ বছর পর পাকিস্তানে নিউজিল্যান্ডের সিরিজ জয়

৫৪ বছর পর পাকিস্তানে নিউজিল্যান্ডের সিরিজ জয়
Vinkmag ad

প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের দাপুটে জয়, দ্বিতীয় ম্যাচে ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে ধরাশায়ী করে ৭৯ রানের বড় জয়ে সিরিজে সমতায় ফিরে নিউজিল্যান্ড। শেষ ম্যাচে স্বাগতিকদের ২ উইকেটে হারিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নেয় নিউজিল্যান্ড। ৫৪ বছর পর পাকিস্তানের মাটিতে সিরিজ জিতল কিউইরা। 

শুক্রবার দিবারাত্রির ম্যাচে ২৮১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই জয়ের পথে ছিল নিউজিল্যান্ড। তবে ২১ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারালে রান তাড়ায় মাঝপথে একটু হোঁছট খায় নিউজিল্যান্ড। শেষদিকে গ্লেন ফিলিপসের ব্যাটে সেটা কাটিয়ে উঠে নিউজিল্যান্ড ২ উইকেটের স্বস্তির জয় পায়। সেই সাথে ঘরের মাঠে ২-১ ব্যবধানে পাকিস্তান হারিয়ে সিরিজ জিতে নেয় নিউজিল্যান্ড।

২৮১ রানে জবাবে খেলতে নেমে নিউজিল্যান্ড ফিন অ্যালেন ও ডেভন কনওয়ের ব্যাটে দারুণ সূচনা করে। দুই ওপেনার মিলে উদ্বোধনী জুটিতে তুলেন ৪৩ রান৷ ইনিংসের নবম ওভারে বদলি ফিল্ডার তৈয়ব তাহিরের দুর্দান্ত থ্রোতে রান আউট হয়ে ফিরেন অ্যালেন (২৫)। আরেক ওপেনার ডেভন কনওয়ে ছিলেন উইকেটে অবিচল, আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা কনওয়ে এ ম্যাচেও করেন ফিফটি। সেই সাথে কেন উইলিয়ামসনের সাথে ৬৫ রানের দারুণ এক জুটিতে দিয়ে যান দলের জয়ের ভিত গড়ে। দলীয় ১০৮ রানে কনওয়েকে (৫৩) ফিরিয়ে তাদের এই জুটি ভাঙেন আঘা সালমান।

কনওয়ের বিদায়ের পর ড্যারিল মিচেলের সাথে আরও একটি পঞ্চাশ রানের জুটি বাঁধেন কেন উইলিয়ামসন। তাদের সেই জুটিতে জয়ের দিকেই হাটতে থাকে নিউজিল্যান্ড। তখনই ড্যারিল মিচেলকে (৩১) ফিরিয়ে কিউইদের জয়ের পথ মসৃণ করে দেন আঘা সালমান। ফলে ১৬০ রানেই তৃতীয় উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। ৯ রান পরেই কেন উইলিয়ামসন (৫৩) হন রান আউটের শিকার। এক ওভার পরে এসে মাইকেল ব্রেসওয়েলকে ফেরান উসামা মীর। ফলে মাত্র ২১ রানের ব্যবধানে নিউজিল্যান্ডের ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ফিরে পাকিস্তান।

এরপর ম্যাচে প্রায় সমানে সমানে ছিল নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তান। সেখান থেকে নিউজিল্যান্ড এগিয়ে যায় গ্লেন ফিলিপসের ঝড়ো ফিফটিতে। ফিলিপসের ব্যাটিংয়ে ছন্নছাড়া হয়ে যায় পাকিস্তানের বোলিং লাইনআপ। মাত্র ২৮ বলে চার ছক্কা এবং ৩ বাউন্ডারিতে করেন ফিফটি। সেই সাথে সপ্তম উইকেটে মিচেল সান্টনারকে নিয়ে ৬৪ রানে জুটি গড়েন মাত্র ৪৪ বলে। দলীয় ২৬৯ রানে স্যান্টনারকে (১৫) ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন মোহাম্মদ নওয়াজ।

এরপর ইশ সৌধিকে দ্রুত ফেরালেও সেটা নিউজিল্যান্ডের জয়ে বাধা হয়ে ওঠেনি ফিলিপসের কারণে। সাতে খেলতে নেমে এই ব্যাটার ৪২ বলে ৬৩ বলে অপরাজিত ইনিংস খেলে নিউজিল্যান্ডকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। ৬৩ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংসে চারটি করে ছক্কা ও চার মারেন ফিলিপস। তার এই বিধ্বংসী ইনিংসে নিউজিল্যান্ড দুই উইকেটে জয় পায় ১১ বল বাকী থাকতে। নাসিম শাহ জায়গায় খেলতে নেমে মোহাম্মদ হাসনাইন ছিলেন উইকেট শুন্য, ৬.১ ওভারে রান গুনেছেন ৪২।

পাকিস্তানের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন আঘা সালমান ও মোহাম্মদ ওয়াসিম। ১টি করে উইকেট শিকার করেন মোহাম্মদ নওয়াজ ও উসামা মীর।

এর আগে করাচির জাতীয় স্টেডিয়ামে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে তিন পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে পাকিস্তান। যেখানে অভিষেক হয় কামরান গোলামের (কনকাশন সাব), আর ওপেনার ইমাম উল হকের জায়গায় যুক্ত হন শান মাসুদ, নাসিম শাহ জায়গায় একাদশে ফিরেন মোহাম্মদ হাসনাইন।

ওপেনার ইমাম উল হকের জায়গায় খেলতে নেমে তেমন কিছু করে দেখাতে পারেননি শান মাসুদ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ফিরেছেন ডাক মেরে। তিনে খেলতে নামা অধিনায়ক বাবর আজমও দলের প্রয়োজনে জ্বলে উঠতে ব্যর্থ। ইনিংসের সপ্তম ওভারে দলীয় ২১ রানে মাইকেল ব্রেসওয়েলের বলে স্ট্যাম্পিং হয়ে বাবর ফিরেছেন মাত্র ৪ রানে।

২১ রানে ২ উইকেটে হারানোর পর একটু ব্যাকফুটেই ছিল পাকিস্তান। ওপেনার ফখর জামান ও মোহাম্মদ রিজওয়ান মিলে দলকে সামনের দিকে নিয়ে এগুতে থাকেন সমানতালে। দুজনের ব্যাটে শুরুর ধাক্কা পাকিস্তান কাটিয়ে উঠে অনায়াসে, ফখর-রিজওয়ান মিলে তৃতীয় উইকেটে যোগ করেন ১৫৪ রান। ১৬১ বলে ১৫৪ রানের সেই জুটি ফখর ও রিজওয়ান অবদান প্রায় সমান। দেড়শো ছাড়ানো সেই জুটি গড়ার পথে দুজনেই করেন ফিফটি। ফখরের ফিফটি আসে ৬৫ বলে ৭ বাউন্ডারিতে, আর রিজওয়ান পঞ্চাশ করতে বল খেলেন মাত্র ৫৩টি।

ইনিংসের ৩৩তম ওভারে ইশ সৌধির বলে ব্যক্তিগত ৭৭ রানে বোল্ড হয়ে রিজওয়ান সাজঘরে ফিরলে ভাঙে সেই জুটি। ৭৪ বলে ৭৭ রানের সেই ইনিংসটি রিজওয়ান সাজান ৬ বাউন্ডারিতে। রিজওয়ানের বিদায়ের পর সেঞ্চুরি হাঁকিয়েই রান আউট হয়ে সাজঘরে ফিরেন ফখর জামান। ১২০ বলে সেঞ্চুরি করা ফখর থামেন ১০১ রানে। ১০ বাউন্ডারি এবং ১ ছক্কায় ফখর সাজান তার দুর্দান্ত সেঞ্চুরিটি।

ফখর-রিজওয়ানের পর আর কোনো বড় জুটি পায়নি পাকিস্তান। ফলে পাকিস্তানও সংগ্রহ তিনশো পার করতে পারেনি। ম্যাচের (৩০-৪০) দশ ওভার দুর্দান্ত বোলিং করে স্বাগতিকদেরকে চেপে ধরে নিউজিল্যান্ড, ফখর-রিজওয়ানের ব্যাটে উড়তে থাকা পাকিস্তান তাই তিনশোর আগেই থামে ২৮০ রানে। পাকিস্তানের সংগ্রহ আড়াইশো ছাড়ায় আঘা সালমানের ৪৩ বলে ৪৫ রানের ইনিংসে। সেই সাথে পাকিস্তান শেষ ১০ ওভারে ৮০ তুলতে পাকিস্তান উইকেট হারায় ৫টি। যেখানে পড়েছে আঘা সালমানের মূল্যবান উইকেটটিও।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে টিম সউদি ৩টি এবং লুকি ফার্গুসন শিকার করেন ২টি উইকেট। এছাড়া একটি করে উইকেট পান মাইকেল ব্রেসওয়েল ও ইশ সৌধি।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

উইজডেনের বর্ষসেরা টেস্ট স্পেলের শীর্ষে এবাদতের ৬ উইকেট

Read Next

ভারতের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে ফিরলেন পৃথ্বী, নেই রোহিত-কোহলি-রাহুল

Total
1
Share