মাশরাফির প্রথম টার্গেটে ছিল মুশফিক, এরপরই শান্ত

featured photo updated v 15
Vinkmag ad

২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক নাজমুল হোসেন শান্ত এবার রানের ফোয়ারা ছোটাচ্ছেন সিলেট স্ট্রাইকার্সের জার্সি গায়ে। বাঁহাতি এই ব্যাটারের ব্যাটের সুবাস ছড়িয়ে পড়েছে বিপিএলের প্রান্তরে-প্রান্তরে। বিশ্বকাপে পারফর্ম করে যেভাবে নির্বাচকদের আস্থার প্রতিদান দিলেন এবার সেই আস্থার প্রতিদান মাশরাফিকে দিলেন শান্ত। তবে বিপিএলের ড্রাফটে ম্যাশের প্রথম টার্গেটে ছিল মুশফিক, এরপরই শান্ত।

ড্রাফটের টেবিলে সিলেট স্ট্রাইকার্সের আইকন ও দলপতি মাশরাফি বিন মর্তুজার প্রথম টার্গেট ছিল মুশফিকুর রহিম। দেশ সেরা এই ব্যাটারকে দলে টানার প্রসঙ্গে মাশরাফির বক্তব্য, ‘আমাদের প্ল্যানই ছিল কিছুটা ইয়াংদের। কিন্তু সত্যিকার অর্থে প্রথম টার্গেটই ছিল মুশফিক।’

মুশফিককে দলে ভিড়িয়ে শান্তর দিকে হাত বাড়ায় ম্যাশ। শান্তর বিশ্বকাপ পারফর্মেন্স ছিল মাশরাফির ভাবনায়। সব সমালোচলনার বিপরীতে যেয়ে বিশ্বকাপের গোটা আসরে ব্যাট হাতে যেভাবে আলো ছড়িয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, তাতেই যে মুগ্ধ মাশরাফি।

গতরাতে ঢাকা ডমিনেটরসকে হারিয়ে টানা চার জয় মাশরাফিদের। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে সিলেটের থিংক ট্যাংক মাশরাফি শোনালেন বিপিএলের ড্রাফট টেবিলের পেছনের গল্প,

‘মুশফিককে পাওয়ার পর আমাদের অপশন ছিল আমরা শান্তকে ডেকেছি। শান্তর অ্যাবিলিটি নিয়ে অনেকে অনেক কথা বললেও শান্ত কিন্তু বিশ্বকাপে দুইশো রান করে এসেছে। অলমোস্ট বাংলাদেশের যারা ক্রিকেট দেখে তারা সবাই সমালোচনা করেছে। বাংলাদেশের এই সমালোচলনার বিরুদ্ধে যেয়ে যে দুইশো রান করে তার মানে সে ভালো ফর্মে আছে।’

অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচে ম্যাচে ১১৬ স্ট্রাইক রেটে ১৮০ রান করেছেন শান্ত। এতো এতো সমালোচনার পরও শান্ত যেভাবে পারফর্ম করেছে ম্যাশের মতে, সেটা আউট অফ দ্য বক্স। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ দুই ফিফটিও এসেছে এই বাঁহাতির ব্যাট থেকে। শান্ত’র বিশ্বকাপ পারফর্মেন্স ও সিলেট স্ট্রাইকার্সে যুক্ত করার প্রসঙ্গ আসতেই মাশরাফি বলেছেন,

‘অনেক প্লেয়ারকেই দেখেছি তারা ভেঙে পড়েছে কিন্তু শান্ত এর ভেতর দিয়ে রান করেছে। আমিও তো ক্রিকেট খেলি, আমার কাছে মনে হয়েছে এতো আলোচনা ও সমালোচলনার ভেতর যে দুইশো করেছে সে দারুণ টাচে আছে। এখানে অন্য কে কি ভাবলো কোনো বিষয় না।’

ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন সিলেট স্ট্রাইকার্সের অন্যতম ব্যাটার নাজমুল হোসেন শান্ত। প্রথম চার ম্যাচে দলের জয়ে রেখেছেন দারুণ ভূমিকা। ঢাকা পর্বের বিপিএল শেষে ১৬৭ রান (৪৩*, ৪৮, ১৯, ৫৭) নিয়ে টেবিলের দুইয়ে শান্ত। বিপিএলে এর আগেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন শান্ত।

আর শীর্ষে সিলেটেরই তৌহিদ হৃদয়। তার ১৯৫ রান এসেছে কেবল তিন ইনিংসে, তিনটিতেই ছাড়িয়ে গেছেন পঞ্চাশ। শেষ ম্যাচে তো ৪৬ বলে করেন ৮৪ রান। সঙ্গে জাকির হাসানের ব্যাটও চার-ছক্কায় আলো ছড়াচ্ছে। চার ম্যাচে তার সংগ্রহ মোট একশো। তৌহিদ হৃদয়, জাকির হাসানই যেন মাশরাফির ট্রামকার্ড।

‘আমরা যে ইয়াং প্লেয়ারদের টার্গেট করেছি তৌহিদ হৃদয়, জাকির হাসান। এই দুইজনকে আমরা শুরু থেকেই টার্গেট করেছি। ভেরি লাকি যে, অন্যরা কেউ ডাকেনি আমরা পেয়েছি। এটা আমাদের ভাগ্য সহায় করেছে। দিশেষে মাঠে কেমন পারফর্ম করেছি, আমাদের বিদেশিরা ভালো খেলেনি, লোকালরা দলকে জিতিয়েছে।’

টানা তিন ম্যাচে তৌহিদ হৃদয়ের হাতে উঠল ম্যাচ সেরার পুরস্কার। তিনটিই দুর্দান্ত ব্যাটিং প্রদর্শনে। অবিশ্বাস্য নজির বললেও কম বলা হয়। চার ম্যাচ ধরে জয়ের স্বাদ নিচ্ছে মাশরাফির সিলেট স্ট্রাইকার্স। ফলে টেবিলের শীর্ষে থেকে ঢাকা পর্ব শেষ করল তারা।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

আমি তখন ক্যামিও না খেললে দল ব্যাকফুটে পড়ে যেত: মিরাজ

Read Next

মিরপুরের উইকেটের প্রশংসায় মাশরাফি, দেখছেন বড় সম্ভাবনা

Total
1
Share