কোহলির আরও এক সেঞ্চুরির দিন ম্লান শানাকা বীরত্ব

কোহলির আরও এক সেঞ্চুরির দিন ম্লান শানাকা বীরত্ব
Vinkmag ad

অভিষেকের পর থেকেই ব্যাট হাতে বাইশগজে ঝড় তুলেছেন নিয়মিত, তার মতো এতোটা ধারাবাহিক ব্যাটার বিশ্ব ক্রিকেট আগে দেখেনি কখনো। ব্যাট হাতে নামলেই যেন রানের ফুলঝুরি ছুটত উইকেটের চারপাশে। একটা সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেঞ্চুরি করাটাকে অভ্যাসে পরিণত করা সেই ভিরাট কোহলিকেও ক্রিকেটের মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখতে হয়েছিল। হয়ে হয়েও হচ্ছিল না সেঞ্চুরি। সেই দুঃসময়কে পেছনে ফেলতে ভিরাট মাস খানেক থেকেছেন ক্রিকেটের বাইরে, এমনকি সেই সময় ক্রিকেট ব্যাটটাও স্পর্শ করে দেখেননি।

সেই বিশ্রাম কাটিয়ে কোহলি ফিরেছেন স্বরূপে, ২০১৯ সালের পর সেঞ্চুরি না পাওয়া কোহলি রানে ফিরেন দুবাই অনুষ্ঠিত ২০২২ সালের এশিয়া কাপ টি২০ দিয়ে। হংকংয়ের বিপক্ষে ৫৯* দিয়ে শুরু, এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ জয়ী ৬০*। পরপর দুই ম্যাচে ফিফটিতে আত্মবিশ্বাস ফিরে পান কোহলি, তার এক ম্যাচ পরে ১০২১ দিনের দীর্ঘ বিরতির পর কোহলি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সেঞ্চুরির দেখা পান। সেই সাথে কাটে ১০২১ দিনের সেঞ্চুরি খরা। ২০২২ সালে এশিয়া কাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সেই ম্যাচে ৫৩ বলে ১১ বাউন্ডারি এবং চার ছক্কায় কোহলি পেয়ে যান বহুল কাঙ্ক্ষিত সেঞ্চুরির দেখা। দীর্ঘদিনের সেঞ্চুরি খরা কাটিয়ে ভিরাট সেদিন অপরাজিত ছিলেন ৬১ বলে ১২ বাউন্ডারি এবং ৬ ছক্কায় ১২২ রানে।

এরপর পর পিছনে ফিরে থাকাতে হয়নি কোহলি, দুঃসহ সেই স্মৃতি পেছনে ফেলে ভিরাট ছুটছেন দুর্বার গতিতে। টি২০’র মতো ওয়ানডেতেও সেঞ্চুরির খরা কাটিয়ে ভিরাট করছেন পরপর দুই সেঞ্চুরি। গেল বছর বাংলাদেশের বিপক্ষে সেঞ্চুরি দিয়ে ফেরা, নতুন বছরের প্রথম ম্যাচে আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলতে নেমে খেলেছেন ১১৩ রানের ঝলমলে ইনিংস। কোহলির সেঞ্চুরি ছাড়া ভারতের ইনিংসে ফিফটি হাঁকিয়েছেন দুই ওপেনার রোহিত শর্মা (৮০) ও শুবমান গিল (৭০)। কোহলির সেঞ্চুরি আর রোহিত-গিলের ফিফটিতে ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে তুলে ৩৭৩ রান। জবাবে শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক দাসুন শানাকার ৮৮ বলে ১০৮ রানের দৃষ্টিনন্দন ইনিংসের পরও ৩০৬ রানের বেশি করতে পারেননি। ফলে ৬৭ রানের জয়ে টি২০ সিরিজের মতো ওয়ানডেতেও এগিয়ে যায় ভারত।

মঙ্গলবার গোহাটির বর্ষাপারা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হয় ভারত। গেল বছর ডিসেম্বরে বাংলাদেশ বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে ইনজুরিতে পড়া ভারতের রোহিত শর্মা ইনজুরি কাটিয়ে ফিরেন ভারতের একাদশে। রোহিত ফেরায় বাংলাদেশের বিপক্ষে ডাবল সেঞ্চুরি করেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে জায়গা হয়নি ইশান কিশানের। কারণ রোহিতের ইনজুরিতেই সুযোগ পেয়েছিলেন বাংলাদেশের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে, তাই রোহিত ফিরলে কিশান জায়গা হারাবেন এটা নিশ্চিত ছিল আগেই।

ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা রোহিত ব্যাট হাতেও ছিলেন দুর্দান্ত, টস হেরে ব্যাট করতে শুবমান গিলকে নিয়ে ১৪৩ রানের দারুণ এক উদ্বোধনী জুটি গড়েন রোহিত। ১৪৩ রানের সেই জুটি গড়তে রোহিত-গিল জুটি বল খেলেন মাত্র ১১৮টি। দলীয় ১৪৩ রানে লঙ্কান অধিনায়ক শানাকার বলে এলবিডব্লিউর হয়ে ফেরার আগে শুবমান গিল ৬০ বলে ১১ বাউন্ডারিতে ৭০ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন।

গিলের বিদায়ের পর রোহিতও বেশি উইকেটে ঠিকতে পারেননি, দলীয় ১৭৩ রানে দিলশান মাদুশাঙ্কার বলে বোল্ড সাজঘরে ফিরেন রোহিত। আউট হওয়ার আগে রোহিত ৬৭ বলে ৯ বাউন্ডারি এবং ৩ ছক্কায় ৮৩ রানে মূল্যবান ইনিংস খেলেন।

গিল-রোহিতের পর ভারতের ইনিংসের বাকীটা সময় ছিল কোহলিময়। শ্রেয়াস আইয়ারের ৩৬ বলে ৪০ আর লোকেশ রাহুলের সাথে ৭০ বলে ৯০ রানের চমৎকার দুই জুটি গড়েন কোহলি। কোহলি-রাহুলের ৯০ রানের জুটিতে ভারতের সংগ্রহ তিনশো ছাড়ায় মাত্র ৪০.৪ ওভারে। ভারতের সংগ্রহ তিনশো পার হতেই রাহুলকে (৩৯) বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান রাজিতা।

তবে উইকেটে অবিচল ছিলেন কোহলি, মাত্র ৮০ বলে ১০ বাউন্ডারি এবং ১ ছক্কায় ছুঁয়ে ফেলেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৪৫তম সেঞ্চুরি। ৪৯ সেঞ্চুরি নিয়ে তার উপরে আছেন কেবল স্বদেশী ব্যাটিং কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার। কোহলির ৪৫তম সেঞ্চুরি থামে ১১৩ রানে। রাজিথার বলে আউট হওয়ার আগে কোহলি ৮৭ বলে ১১৩ রানের ইনিংসটি সাজান ১২ বাউন্ডারি এবং ১ ছক্কায়। ৪৮.২ ওভারে দলীয় ৩৭৩ রানে কোহলি ফিরলে ভারতের ইনিংস থামে ৩৭৪ রানে।

ভারতের ৩৭৫ রান তাড়ায় ২৩ রানেই শ্রীলঙ্কা হারায় আভিষ্কা ফার্নান্দো ও কুশল মেন্ডিসের উইকেট। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে ফার্নান্দোকে (৫) এবং ষষ্ঠ ওভারে রানের খাতা খোলার আগেই ফেরান কুশল মেন্ডিসকে ফেরান মোহাম্মদ সিরাজ।

এরপর অবশ্য ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কা ও চারিথ আসালাঙ্কার ৪১ রানের জুটিতে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায় লঙ্কান। তবে সেই জুটি লঙ্কানদের টানতে পারেনি বেশিক্ষণ। দলীয় ৬৪ রানে আসালাঙ্কাকে (২৩) ফিরিয়ে সেই জুটি ভাঙেন উমরান মালিক। তারপর নিসাঙ্কা ও ধনঞ্জয়া ডি সিলভার ৬৫ বলে ৭২ রানের চতুর্থ উইকেট জুটিতে লড়াইয়ে ফিরে শ্রীলঙ্কা। এই জুটি গড়ার পথে ফিফটি করেন নিসাঙ্কা, ৫৭ বলে বাউন্ডারিতে পঞ্চাশের ঘর স্পর্শ করেন লঙ্কান এই ওপেনার।

দলীয় ১৩৬ রানে মোহাম্মদ শামির বলে সিলভা (৪৭) ফিরলে ভাঙে সেই জুটি। ডি সিলভার বিদায়ে উইকেটে আসেন দাসুন শানাকা, পাথুম নিসাঙ্কার সাথে ২৫ রান যোগ করেন শানাকা। ১৬১ রানে নিসাঙ্কা (৭২) ফিরিয়ে দ্রুত সেই জুটি ভাঙেন উমরান মালিক। নিসাঙ্কার বিদায়ের পর একপ্রান্ত আগলে রেখে একাই লড়েন শানাকা, ৫০ বলে ৫ বাউন্ডারি এবং ১ ছক্কায় ফিফটির করার পথে একমাত্র সঙ্গ বলতে ১৭ রানের সাপোর্ট দিয়ে ছিলেন হাসারাঙ্কা।

২০৬ রানে অষ্টম উইকেট হারানোর পর, উইকেটের এক পাশে একক আধিপত্য বিস্তার করেন শানাকা। নবম ব্যাটার রাজিথার সাপোর্টে ৭৩ বলে অবিচ্ছিন্ন শতরানের জুটি গড়ে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ নিয়ে যান তিনশো পেরিয়ে। দাসুন শানাকার হার না মানা শতকে লড়াই করে শ্রীলঙ্কা শেষমেশ ম্যাচ হারে ৬৭ রানে। উইকেটের অপরপ্রান্ত থেকে আরেকটু সাহায্য পেলে হয়তো শানাকার লড়াকু শতকটি পেত পূর্ণতা। ৩৭৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় শানাকা ছয়ে নেমে খেলেন ৮৮ বলে ১০৮ রানের নান্দনিক ইনিংসটি। অপরাজিত সেই শতকটি শানাকা সাজান ১২ বাউন্ডারি এবং ৩ ছক্কায়।

ভারতের হয়ে ৫৭ রানে ৩ উইকেট শিকার উমরান মালিক। এছাড়া ২টি উইকেট পান মোহাম্মদ সিরাজ। একটি করে উইকেট নেন যুজবেন্দ্র চাহাল ও মোহাম্মদ শামি।

ক্যারিয়ারের ৪৫তম সেঞ্চুরি করে ম্যাচ সেরা হয়েছেন ভিরাট কোহলি।

Shihab Ahsan Khan

Shihab Ahsan Khan, Editorial Writer- Cricket97

Read Previous

যে নিয়ম ভঙ্গ করে শাস্তি পেলেন সাকিব, সোহান, বিজয়

Read Next

অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট স্কোয়াডে মার্ফি চমক

Total
1
Share