হৃদয়ের রাজত্বে সিলেটের চারে চার

হৃদয়ের রাজত্বে সিলেটের চারে চার
Vinkmag ad

তেজি ঘোড়ার মতো টগবগিয়ে বিপিএলের ঢাকা পর্ব পাড়ি দিলেন তৌহিদ হৃদয়। হ্যাটট্রিক ম্যান অব দ্য ম্যাচে মিরপুরে হৃদয়ের রাজত্ব। ঢাকা ডমিনেটরসের বিপক্ষে সিলেট স্ট্রাইকার্সের জয়ে ম্যান অব দা ম্যাচ সেই তৌহিদ হৃদয়ই। আরও একবার! তৌহিদ হৃদয় যেন বিপিএলের আকাশে নতুন ধ্রুবতারা। তার দাপটে সিলেট স্ট্রাইকার্সের টানা ৪ জয়। 

এই নিয়ে টানা তিন ম্যাচে তৌহিদ হৃদয়ের হাতে উঠল ম্যাচ সেরার পুরস্কার। তিনটিই দুর্দান্ত ব্যাটিং প্রদর্শনে। অবিশ্বাস্য নজির বললেও কম বলা হয়। চার ম্যাচ ধরে জয়ের স্বাদ নিচ্ছে মাশরাফির সিলেট স্ট্রাইকার্স। ফলে টেবিলের শীর্ষে থেকে ঢাকা পর্ব শেষ করল তারা। আজকের ম্যাচে ঢাকার বিপক্ষে সিলেট পেল ৬২ রানের রোমাঞ্চকর জয়। 

প্রথম ঢাকা পর্বের শেষ ম্যাচে টস জিতে ঢাকা ডমিনেটরস দলপতি নাসির হোসেন। তার আমন্ত্রণে আগে ব্যাট করতে নামে সিলেট স্ট্রাইকার্স। ওয়াইড দিয়ে ইনিংস শুরু করা নাসির প্রথম ওভারে খরচ করেন ১১ রান। শুরুর ওভার থেকে মারমুখী মেজাজ দেখান সিলেটের ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত।

বাউন্ডারি হজম করে ওভার শুরু করা তাসকিন আহমেদ শেষ বলে বিদায় করেন মোহাম্মদ হারিসকে। উইকেটের পেছনে মোহাম্মদ মিঠুনের হাতে ক্যাচ তুলে ফেরার আগে ৬ বলে ৬ রান হারিসের। এরপর তাসকিন, নাসির, সানি, মুনাবিরাদের বিরুদ্ধে দারুণ সব স্ট্রোক্স খেলতে থাকেন শান্ত ও হৃদয়। সিলেটের আগের দুই ম্যাচের জয়ের নায়ক তৌহিদ হৃদয় এদিনও ছুটেন পাগলা ঘোড়ার মতো। শান্ত-হৃদয় জুটি ফিফটি ছাড়িয়ে বড় স্কোরের দিকে এগোতে থাকে।

সৌম্যকে ছক্কা হাঁকিয়ে ৩৬ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন শান্ত। পরের ওভারেই শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ হন ৫৭ রানে থাকা শান্ত। এতেই ভেঙে যায় ৫৭ বলে গড়া শান্ত-হৃদয়ের ৮৮ রানের জুটি। দারুণ শুরু করেও ইনিংস বড় করতে পারেননি জাকির হাসান (১০)। মুশফিকুর রহিমও প্যাভিলিয়নে ফিরে যান দ্রুত। আরাফাত সানির বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে যেয়ে ৬ রানে ক্যাচ হন মুশফিক।

৩২ বলে পঞ্চাশ রান করা তৌহিদ হৃদয় এরপর হয়ে যান আরও ভয়ংকর। মাঝে থিসারা পেরেরার ব্যাট থেকে আসে ১১ রান। প্রথম ৪ বলে ১১ রান খরচ করা তাসকিন শর্ট বল দিয়ে পান সাফল্য। থিসারাকে ফিরিয়ে দখলে নেন নিজের দ্বিতীয় উইকেট।

উইকেটে থিতু হওয়ার আগেই ইমাদ ওয়াসিমকে (১) নিজের বলে ফিরতি ক্যাচ নেন আল-আমিন হোসেন। উইকেট আসা-যাওয়া মিছিলের বিপরীতে দাঁড়িয়ে তৌহিদ হৃদয় চালিয়ে চান তান্ডব। সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন হৃদয়, কিন্তু ভাগ্য খারাপ। হলো না টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম শতরান।

নামের পাশে ৭৮ রান নিয়ে আল-আমিন হোসেনের শেষ ওভার ছয় দিয়ে শুরু করেন হৃদয়। প্রথম বলেই ছয় মেরে গ্যালারিতে বল পাঠান হৃদয়, পরের বলেও ওভার বাউন্ডারির আশায় ব্যাট চালান। কিন্তু বাউন্ডারি লাইনে মুনাবিরার হাতে ধরা পড়লে থেমে যায় হৃদয়ের ৮৪ রানের ইনিংস। ৪৬ বলে এই ইনিংস সাজাতে হৃদয় সমান পাঁচটি করে চার ও ছয় হাঁকান। তার পাঁচ ছয়ের দু’টি আসে সৌম্যর বল থেকে, আল-আমিন হোসেনকেও হাঁকান দুই ছয়, বাকি একটি মারেন আরিফুল হককে।

আগের তিন ম্যাচে ব্যাট করতে না পারা মাশরাফি বিন মর্তুজাকে আজ দেখা যায় ফিনিশিংয়ের ভূমিকায়। আর তাতেই এবারের বিপিএলে প্রথম দল হিসেবে দুইশো রানের গণ্ডি টপকায় সিলেট স্ট্রাইকার্স।

২০২ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়ায় নেমে পাক ওপেনার আহমেদ শেহজাদকে শুরুতেই হারায় ঢাকা ডমিনেটরস। মাশরাফিকে ওভার বাউন্ডারি হাঁকাতে যেয়ে আকবর আলির হাতে ক্যাচ হন শূন্য শেহজাদ। পরের ওভারে মোহাম্মদ আমির এসে তুলে নেন আরেক ওপেনার দিলশান মুনাবিরার (১২) উইকেট।

ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছেন সৌম্য সরকার। সেইসঙ্গে ভুগছেন রান খরায়। খুলনার বিপক্ষে ম্যাচে ১৬ রান করা সৌম্য আজ উইকেট হারান ৬ রানে। আর তাতেই মাশরাফির ঝুলিতে ঢুকে যায় দ্বিতীয় উইকেট। এরপর মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে জুটি গড়ে ডমিনেটরস শিবিরে স্বস্তি ফেরান অধিনায়ক নাসির হোসেন।

৪৭ বলে মিঠুন-নাসিরের ৭৭ রানের অনবদ্য জুটি ভেঙে সিলেটকে ব্রেকথ্রু এনে দেন থিসারা পেরেরা। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে ২৮ বলে ৩ চার ও ২ ছয়ে মিঠুন সাজান তার ৪২ রানের ইনিংস। ১৪তম ওভারে ইমাদ ওয়াসিম পরপর দুই বলে ফেরান উসমান গনি ও আরিফুল হককে। উসমান ১ রান পেলেও আরিফুল হয়েছেন গোল্ডেন ডাক।

১ রানের বেশি পাননি তাসকিন আহমেদ; হয়েছেন মোহাম্মদ আমিরের দুই নম্বর শিকার। দলকে এগিয়ে নিয়ে এসে উইকেট বিসর্জন দেন নাসির হোসেন। ফেরার আগে অবশ্য ঢাকার অধিনায়কের ব্যাট থেকে আসে ৪৪ রান।

আল-আমিন হোসেনকে ৬ রানে ফিরিয়ে দেন নাজমুল হোসেন শান্ত। আর তাতেই ১৩৯ রানে থেমে যায় ঢাকা ডমিনেটরসের ইনিংস। ফলে ৬২ রানের বড় জয়ে টেবিলের শীর্ষে থেকে ঢাকা পর্ব শেষ করল সিলেট স্ট্রাইকার্স। 

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

সাকিব, সোহান, বিজয়কে গুনতে হচ্ছে জরিমানা

Read Next

তৌহিদ হৃদয়কে নিয়ে দুঃসংবাদ দিল সিলেট স্ট্রাইকার্স

Total
1
Share