টানা তিন জয় সিলেটের, তান্ডব চালাচ্ছেন তৌহিদ হৃদয়

featured photo updated v 13
Vinkmag ad

বিপিএল (বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ) ২০২৩ এ জয়রথ ছুটছেই সিলেট স্ট্রাইকার্সের। একের পর এক জয় তুলে নিচ্ছে তারা, চটগ্রাম, বরিশাল বধের পর এবার কুমিল্লা। টানা তিন জয়ে রীতিমতো উড়ছে মাশরাফির দল সিলেট। বিপরীতে টানা হারে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের অবস্থান। ঝড়ো ফিফটিতে আবারও ম্যাচ সেরা তৌহিদ হৃদয়। মুশফিকের ফিনিশিংয়ে ৫ উইকেটের জয় নিশ্চিত হল সিলেটের।

বিপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে তৌহিদ হৃদয় উইকেটে আসার আগেই ৮ উইকেটের বড় জয় নিশ্চিত করে সিলেট স্ট্রাইকার্স। নিজেদের ২য় ম্যাচে ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে সিলেটের জয়ের নায়ক তৌহিদ হৃদয়। আগের সিনেমার নায়ক হৃদয় আজকের ম্যাচেও দেখালেন ক্যারিশমা। ৩৫ বলে তুলে নেন ফিফটি; ব্যাক টু ব্যাক ফিফটি। টানা দুই ম্যাচে সেরা হয়েছেন তৌহিদ হৃদয়।

এক দিনের বিরতির পর সিলেট-কুমিল্লার ম্যাচ দিয়ে মাঠে ফিরে বিপিএলের ৯ম আসর। আগের ম্যাচে মুশফিক টস করতে নামলেও আজ কয়েন হাতে আইকনিক ক্যাপ্টেন ম্যাশ। জিতে গেলেন টসও; ব্যাটিংয়ে পাঠান কুমিল্লাকে।

শুরুর বলেই থিসার পেরেরাকে বাউন্ডারি হাঁকান ভিক্টোরিয়ান্সের ওপেনার লিটন দাস। এক বল পর ফের বাউন্ডারি। কিন্তু পরের বলে ক্যাচ তুলে বিদায় নেন লিটন; অল্পতেই থেমে যায় ঝড়। আরেক ওপেনার সৈকত আলি ইনিংসের চতুর্থ ওভারে মাশরাফিকে হাঁকান হ্যাটট্রিক বাউন্ডারি। নিজের প্রথম ওভার করতে এসে ম্যাশের খরচ ১৫ রান।

ইমাদ ওয়াসিম পরের ওভারে এসেই মিডল স্টাম্প ভেঙে দেন ভয়ংকর হয়ে উঠা সৈকতের। ফেরার আগে ১২ বল খেলে ৪ চারের সাহায্যে সৈকত করেন ২০ রান। অধিনায়ক ইমরুল কায়েসকে (২) বেশিক্ষণ টিকতে দেননি মোহাম্মদ আমির। পাওয়ার-প্লের প্রথম ৬ ওভারে ৪৭ রান তুলতে কুমিল্লা হারায় ৩ উইকেট।

এরপর ডেভিড মালানের সঙ্গে জাকের আলি অনিকের ৫৩ রানের জুটি এগিয়ে নেয় কুমিল্লাকে। কিন্তু মালান ইনিংসের শুরুটা করেন ধীরগতিতে। ১৩ নম্বর বলে বাউন্ডারির দেখা পান মালান। তার ২য় বাউন্ডারি আসে ২৬ বলের মাথায়।

তবে দলীয় ৯৯ রানে থিসারাকে ছয় হাঁকাতে যেয়ে বাউন্ডারি লাইনে আকবর আলির হাতে ক্যাচ হন ডেভিড মালান। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে মালান ৩৯ বল খেলে করেন ৩৭ রান। মালান ফিরে গেলেও উইকেটে সচল থাকেন জাকের।

তাকে সঙ্গ দিতে আসা মোসাদ্দেক হোসন সৈকতকে ব্যক্তিগত ৫ রানে রেখেই বিদায় জানান মোহাম্মদ আমির। বাউন্ডারি মেরে ইনিংসের শুরু করেন মোহাম্মদ নবী। কিন্তু পরের দুই ওভারে সিঙ্গেল, ডাবল নিয়েই কেবল সন্তুষ্ট থাকতে হয় জাকের-নবীকে।

ইনিংসের শেষ ওভারে এসে সিলেটের দলপতি মাশরাফি বিন মর্তুজা পান উইকেটের দেখা। উড়ে যায় মোহাম্মদ নবীর (৮) অফ স্টাম্প। শেষপর্যন্ত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ইনিংস থামে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪৯ রানে। ৩৫ বলে ফিফটি হাঁকানো জাকের আলি অনিক ইনিংস শেষ করে আসেন ৪৩ বলে ৫৭ রান নিয়ে। জাকেরের এই দুর্দান্ত ইনিংসের কল্যাণেই স্কোরবোর্ডে লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করাতে পারে কুমিল্লা।

১৫০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের ২য় বলে আবু হায়দার রনিকে ছক্কা হাঁকিয়ে পরের বলে উইকেট হারান স্ট্রাইকার্সের ওপেনার মোহাম্মদ হারিস। প্রথমে অবশ্য আউট দেননি অনফিল্ড আম্পায়ার, পরে এডিআরএসের সাহায্যে উইকেট নিশ্চিত করে কুমিল্লা।

দুরন্ত ভাবে হাসছে তরুণ তৌহিদ হৃদয়ের ব্যাট। আগের ম্যাচে যেখানে শেষ করেছিলেন আজ যেন সেখান থেকেই শুরু করলেন হৃদয়। প্রথম বলেই হাঁকান ছক্কা, এক বল ডট দিয়ে মারেন বাউন্ডারি। রনির ওভারের বাকি তিন বল থেকে তুলে নেন ১০ রান।

খুশদিল শাহ বল হাতে এসেই কুমিল্লাকে এনে দেন ব্রেকথ্রু। নাজমুল হোসেন শান্তর (১৯) সহজ ক্যাচ লুফে নেন ইমরুল কায়েস। তিনে নামা তৌহিদ হৃদয় এরপর লড়াই চালান জাকির হাসানকে নিয়ে। স্পিনারদের পেয়ে চার-ছয়ের বন্যা বইয়ে দেন এই দুই তরুণ ব্যাটার।

কিন্তু মোহাম্মদ নবীর নিচু হয়ে আসা বল খোঁচা দিতে যেয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ হন জাকির। মিরপুরে থেমে যায় জাকির ঝড়। উইকেট হারানোর আগে দুইশো স্ট্রাইক রেটে জাকিরের ২০ রান। অর্ধেক ইনিংস শেষে সিলেট স্ট্রাইকার্সের স্কোরবোর্ডের অবস্থা ৮৬/৩। জয়ের জন্য বাকি ৬০ বলে প্রয়োজন ছিল কেবল ৬৪ রানের।

৩৫ বলে ফিফটি হাঁকিয়ে তৌহিদ হৃদয় পরের বল মোকাবিলায় খুশদিলকে মিড অন দিয়ে হাঁকান ছয়। মারমুখী হৃদয় পরের বলে এগিয়ে এসে হয়েছেন স্টাম্পড। বিদায় নেওয়ার আগে ৩৭ বলে করেন ৫৬ রান। আগের ম্যাচে তার ব্যাট থেকে আসে ৩৪ বলে ৫৫ রান।

থিসারা পেরেরা ৬ বল খেলে করে গেছেন ৮ রান। কিন্তু অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম হার-না-মানা ২৮ রানের ইনিংস খেলে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান। ১৪ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটের বড় জয়ে সিলেট স্ট্রাইকার্স পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। সঙ্গে আকবর আলি অপরাজিত থাকেন ৪ বলে ৬ করে।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

বিপিএল বিশ্বের অন্যতম সেরা লিগ: ইফতিখার

Read Next

লিটন দাসের ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ রবিন দাস

Total
6
Share