সাকিবের ইনিংস ম্লান করে সিলেটের মহাকাব্যিক জয়

featured photo updated v 11
Vinkmag ad

ক্যাচ মিস, ফিল্ডিং মিসের ম্যাচে শেষ হাসি হাসল সিলেট স্ট্রাইকার্স। ম্লান হয়ে গেল সাকিব আল হাসানের অনবদ্য ৬৭ রানের ইনিংস। শান্ত, তৌহিদের দাপুটে ব্যাটিংয়ের পর জাকিরের ক্যামিও। শেষদিকে মুশফিক ও পেরেরার ঝড়ো ব্যাটে সিলেটের টানা দ্বিতীয় জয়। ৮ জন বোলারকে দিয়ে বল করায় বরিশাল; তবে সাফল্যের খাতায় কেবল ৪ উইকেট।

বিপিএলে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই হেসেছে সাকিবের ব্যাট। তবে সাকিবের ৬৭ রানের ইনিংসে দুই ক্যাচ ছাড়েন ইমাদ ওয়াসিম ও আকবর আলি। ব্যক্তিগত ৩২ রানেই সাকিব ফিরে যেতে পারতেন প্যাভিলিয়নে। এরপর ৬৪ রানে সাকিবের ক্যাচ ছাড়েন আকবর আলি। দু’বারই বোলার ছিলেন মোহাম্মদ আমির।

এর আগে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নামে ফরচুন বরিশাল। দুই ওপেনারের ব্যাটে উড়ন্ত শুরু। সিকান্দার রাজাকে বাউন্ডারি মেরে আমন্ত্রণ জানিয়ে বিজয়-সিলভার ৩১ বলে পঞ্চাশ রানের পার্টনারশিপ। প্রথম পাওয়ার-প্লের ৬ ওভারে বরিশালের স্কোরবোর্ড ৫৪/০।

দারুণ সব স্ট্রোক খেলে ব্যক্তিগত ২৯ রানে এনামুল হক বিজয় উইকেট হারান। সিলেটের কাণ্ডারি মাশরাফির হাত ধরেই আসে ব্রেকথ্রু। পরের ওভারে ইমাদ ওয়াসিম ফেরান চতুরঙ্গ ডি সিলভাকে। এই ওপেনারের ব্যাট থেকে আসে ৩৬ রান। মাশরাফির দ্বিতীয় শিকার ইফতিখার আহমেদ। জ্বলে উঠার আগেই ১৩ রানে থেমে গেল ইফতিখারের ব্যাট।

এরপর সাকিবকে সঙ্গ দিতে আসেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এই জুটিতে ভালো ছন্দ পায় বরিশাল। কিন্তু থিসারা পেরেরাকে ওভার বাউন্ডারি হাঁকাতে যেয়ে বাউন্ডারি লাইনে শান্তর হাতে ধরা পড়েন ১২ বলে ১৯ করা রিয়াদ। ৩ রানের বেশি পাননি হায়দার আলি; হয়েছেন রেজাউর রহমান রাজার বলে বোল্ডের শিকার।

ছোট ছোট জুটিতে সাকিব এগিয়ে নেন দলকে। ২৬ বলে পূর্ণ করেন অর্ধশত রান। শুরু থেকেই মারমুখী সাকিব শেষদিকে হয়েছেন আরও ভয়ংকর। তবে ইনিংসের শেষ ওভারে মাশরাফি এসে তুলে নেন সাকিবের উইকেট। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে সাকিব ৬৭ রানের ইনিংসটা সাজিয়েছেন ৭ চার ও ৪ ছক্কায়, ৩২ বলে। ওভারের পঞ্চম বলে মিরাজকে (১) ডিরেক্ট থ্রোতে রান আউট করেন মাশরাফি।

শেষপর্যন্ত ফরচুন বরিশালের ইনিংস থামে ১৯৪ রানের বড় সংগ্রহে। আফগান অলরাউন্ডার করিম জানাত অপরাজিত থাকেন ১৭ রানে।

চট্টগ্রামের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে ১৮ রান খরচায় ১ উইকেট পাওয়া মাশরাফি আজ শিকার করেন ৩ উইকেট। এছাড়া একটি করে উইকেট যায় ইমাদ, রাজা ও পেরেরা।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে রান আউট দিয়ে সিলেট স্ট্রাইকার্সের ইনিংস শুরু। খালেদের দুর্দান্ত থ্রোতে ১ রানেই কাটা পড়েন কলিন অ্যাকারম্যান। মিরাজ প্রথম ওভারেই পেয়ে যেতেন উইকেটের দেখা। কিন্তু হায়দার আলি ক্যাচ ছাড়েন ৯ রানে থাকা তৌহিদ হৃদয়ের।

নতুন জীবন পেয়ে রীতিমতো তান্ডব চালান তৌহিদ। ৩২ বলে দলীয় পঞ্চাশ রানে পৌঁছায় সিলেট। পাওয়ার-প্লের ৬ ওভারে বরিশালের স্কোরবোর্ডে ছিল ৫৪/০, সিলেটের ৫৪/১।

১১তম ওভারে কামরুল ইসলাম রাব্বির করা তৃতীয় বলে বল আকাশে তুলেন ৪৪ রানে থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত। সহজ ক্যাচ ছাড়েন ইফতিখার আহমেদ। আর এই সুযোগেই শান্ত-হৃদয় মিলে ৬৭ বলে গড়েন শতরানের জুটি। এরপরই নিজের ভুলে রান আউটে কাটা পড়েন শান্ত। ২ রানের জন্য হয়নি ফিফটি।

শান্ত ফিফটি মিস করলেও তৌহিদ হৃদয় ঠিকই ফিফটি পূর্ণ করে নেন। কিন্তু এরপর উইকেটে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি হৃদয়। করিম জানাতের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে বিদায় নেওয়ার আগে ৩৪ বলে করেন ৫৫ রান। জাকির হাসান খেলে গেছেন ক্যামিও ইনিংস। ডি সিলভা নিজের বলে নিজেই ক্যাচ নিয়ে ফেরান ভয়ংকর হয়ে ওঠা জাকিরকে।

মাত্র ১৮ বল খেলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় জাকির সাজান তার ৪৩ রানের ইনিংস। মুশফিকুর রহিম এরপর থিসারা পেরেরাকে নিয়ে লড়াই চালান। ১৯ তম ওভারের শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে সিলেটের জয় নিশ্চিত করেন থিসারা পেরেরা। ৯ বলে ২০ রান করে অপরাজিত থাকেন থিসারা পেরেরা। ১১ বলে ২৩ রান করে অপরাজিত থাকেন মুশফিকুর রহিম। 

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

সিডনিতে বৃষ্টির সাথে অস্ট্রেলিয়ার দাপট

Read Next

ম্যাচ বাই ম্যাচ অধিনায়ক শুনে আকাশ থেকে পড়লেন এবাদত!

Total
1
Share