আল-আমিনের বোলিং তান্ডবের পর নাসিরের অধিনায়কোচিত ইনিংসে জিতল ঢাকা

featured photo updated v 8
Vinkmag ad

মিরপুরে বিকেল না গড়াতেই হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়ছে চারদিক। তবে এর মাঝেই আলো ছড়িয়েছেন ঢাকার পেসার আল-আমিন হোসেন। ৪ উইকেট শিকার করে খুলনার ব্যাটিং লাইনকে ডুবিয়ে দেন। এরপর নাসির হোসেনের অধিনায়কোচিত ৩৬* রানের ইনিংসে ঢাকা ডমিনেটরস পায় ৬ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয়। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতলেন নাসির। 

২০২৩ বিপিএলের আজকের ১ম ম্যাচ দুপুর দেড়টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও প্রতিকুল আবহাওয়ার কারণে ম্যাচ শুরু ২ টায়। এর আগে টস জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ঢাকা ডমিনেটরসের অধিনায়ক নাসির হোসেন। দলকে ব্রেকথ্রু এনে দেন নাসিরই। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে ২য় বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে পরের বলে স্টাম্প ভাঙে শারজিল খানের। খুলনা টাইগার্সের হয়ে চুক্তি অনুযায়ী ৩ ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশে আসেন শারজিল। কিন্তু প্রথম ম্যাচে বিদায় নেন ৭ রান করতেই।

তিনে নামা মুনিম শাহরিয়ার ইনিংস শুরু করেন বাউন্ডারি হাঁকিয়ে। তবে ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ মুনিম। নিজের প্রথম ওভারে এসেই বল হাতে আগুন ছুঁড়লেন পেসার আল-আমিন হোসেন; তৃতীয় বলেই পেয়ে যান সাফল্য। লাফিয়ে উঠা বলে মুনিম ক্যাচ তুলেন উইকেটের পেছনে। প্রথম বলে হাঁকানো বাউন্ডারি নিয়েই প্যাভিলিয়নে ফেরত যান।

আল-আমিনের এই ওভারের বাকি ৩ বলে দুই বাউন্ডারি মারেন পাক তারকা ব্যাটার আজম খান। তবে প্রথম পাওয়ার-প্লেতেই উইকেট হারান ধুঁকতে থাকা তামিম ইকবাল। আরাফাত সানি বোলিংয়ে এসে দ্বিতীয় বলে হজম করেন বাউন্ডারি, এক বল পরেই তামিমকে ফেলেন ফাঁদে। ১৫ বলে ৮ করা তামিমকে ফেরাতে সহজ ক্যাচ নেন নাসির হোসেন।

এরপর ইয়াসির আলি ও আজম খানের জুটি এগোচ্ছিল বেশ ভালো ভাবেই। কিন্তু ফের বাঁধা হয়ে দাঁড়ালেন আরাফাত সানি। ভয়ংকর হয়ে উঠার আগেই আজম খানের স্টাম্প তুলে নেন সানি।  ফেরার আগে ১২ বল খেলে আজম করেন ১৮ রান। নিজের তৃতীয় ওভারে মাত্র ১ রান খরচায় ১ উইকেট সানির ঝুলিতে।

সানির দেখানো পথেই নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে যান মুক্তার আলি, আল-আমিন। দলপতি নাসির হোসেন তার শেষ ওভারের শেষ বলে তুলে নেন ইয়াসির আলি চৌধুরীর (২৪) মূল্যবান উইকেট। তবে আগের ৩ ওভারে ১৬ রান খরচ করা নাসির শেষ ওভারে দেন ১৩ রান। সবমিলিয়ে ২৯ রান খরচায় তার দখলে আসে ২ উইকেট।

দলীয় ৮৭ রানে আল-আমিনের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফেরার আগে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ২৮ বল খেলে করেন ১৬ রান। ১৯ ওভার শেষে দলীয় একশো রান পূর্ণ করে খুলনা টাইগার্স। শেষ ওভারে আরও দুই উইকেট শিকার করেন আল-আমিন। ফেরার আগে ৭ রা আসে নাহিদুলের ব্যাট থেকে। ওয়াহাব রিয়াজের ৩ বলে ১০ রানের ক্যামিও। এডিআরএসের কল্যাণে লেগ বিফোর থেকে বেঁচে যাওয়া সাব্বির রহমান ইনিংস শেষ করে আসেন ১১ বলে ১১ নিয়ে।  ৮ উইকেটে খুলনা টাইগার্সের সংগ্রহ ১১৩।

বল হাতে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট আল-আমিন হোসেনের, খরচ করেন ২৮ রান। এছাড়া দুটি করে উইকেট নেন নাসির হোসেন, আরাফাত সানি। তাসকিন আহমেদ উইকেটশূন্য থাকলেও ৪ ওভারে রান দেন কেবল ১৪।

ছোট লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরত যান পাকিস্তানি ওপেনার আহমেদ শেহজাদ। তিনে নামা সৌম্য সরকার এরপর লড়াই চালান দিলশান মুনাবিরাকে নিয়ে। ব্যক্তিগত ১৬ রানে সৌম্য বিদায় নিলে ভাঙে ৩১ রানের জুটি। সৌম্যকে ফেরাতে ওয়াহাব রিয়াজের নিচু হয়ে আসা বলে ক্যাচ নেন স্বদেশী উইকেটকিপার আজম খান।

ইনিংসের ৮তম ওভারে প্রথম বোলিংয়ে এসে কোনো টানা দুই ওয়াইড, সঙ্গে চার, এরপর নো বল, সঙ্গে এক; ৮ রান শূন্য বলে। অফিসিয়াল প্রথম বলে সৌম্য হাঁকান ছয়। অর্থাৎ এক বলে ওয়াহাব রিয়াজের খরচ ১৪ রান। দ্বিতীয় বলে সৌম্যকে ফিরিয়ে স্বস্তি পান রিয়াজ। এরপর টানা চার বল ডট দিয়ে নাটকীয়তাই ভরপুর এক ওভার শেষ করেন ওয়াহাব রিয়াজ।

মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন পরের ওভারে এসে তুলে নেন ওপেনার দিলশান মুনাবিরার উইকেট। প্রথম দুই ওভার দারুণ বল করা পল ভন মেকেরেন নিজের তৃতীয় ওভারে সাফল্য পান। বোল্ড হয়ে ফেরার আগে মিঠুনের ব্যাট থেকে আসে ৮ রান (১৪ বলে)।

ইনিংসের ১৬.২ ওভারে মেকেরেনের বলে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ তুলেন নাসির হোসেন। কিন্তু পাকিস্তানি ক্রিকেটার শারজিল খান তালুবন্দি করার আগেই বল হাত ফসকে বেরিয়ে যায়। এ যাত্রায় নতুন জীবন পাওয়া অধিনায়ক নাসির এরপর একাই ম্যাচ শেষ করে আসেন।

মাঝে ১৪ রানে থাকা উসমান গনিকে ফিরিয়ে সাইফউদ্দিন দখলে নেন নিজের দ্বিতীয় শিকার। নাসিরের বাউন্ডারিতে পাঁচ বল হাতে থাকতেই ৪ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ঢাকা ডমিনেটরস। দারুণ জয়ে তাদের বিপিএল শুরু। ৩৬ বলে ৩৬ রানের হার-না-মানা ইনিংস খেলেন নাসির। পেয়েছেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। 

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

নাজাম শেঠির কথা ভিত্তিহীন বলছে এসিসি

Read Next

সাকিব-মাশরাফি আছেন একাদশে, টস করলেন মিরাজ-মুশফিক

Total
1
Share