সরফরাজ বীরত্বে সিরিজ হার এড়াল পাকিস্তান

সরফরাজ বীরত্বে সিরিজ হার এড়াল পাকিস্তান
Vinkmag ad

৩১৯ রান তাড়ায় শুরুতেই হোঁচট খায় পাকিস্তান, শুন্য রানে দুই উইকেট হারিয়ে তৃতীয় দিন শেষ করে স্বাগতিক পাকিস্তান। করাচি জাতীয় স্টেডিয়ামে পঞ্চম দিনে আবার ৮০ রানে নেই ৫ উইকেট। দ্রুত উইকেট পড়তে থাকায় হারের শঙ্কায় পাকিস্তান, তবে সেখান থেকে স্বাগতিকরা ঘুরে দাঁড়ায় সরফরাজ আহমেদের অনবদ্য সেঞ্চুরিতে। শেষ জুটিতে ২১ বল খেলে রোমাঞ্চ ছড়ানো শ্বাসরুদ্ধকর করাচি টেস্ট ড্র করে মাঠ ছাড়েন নাসিম শাহ ও আবরার আহমেদ।

টেস্ট ক্রিকেটে পঞ্চম দিনে তিনশো রান তাড়া করা কঠিন ব্যাপার, তার উপরে যদি শুন্য রানেই হারায় ২ উইকেট, তাহলে তো সেটা কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে যায়। সেই রান তাড়া আরও কঠিন করে তুলেন কিউই বোলাররা। পঞ্চম দিনের শুরুতেই প্রথম ইনিংসে ৮৪ রান করা ইমাম উল হককে ফিরিয়ে পাকিস্তানকে চাপে ফেলেন ইশ সৌধি। তবে সেই চাপ সামলে উঠার চেষ্টা করেন অধিনায়ক বাবর আজম ও শান মাসুদ। দুজনের ব্যাটেই পাকিস্তান প্রথম প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা চালায়। তবে সেই চেষ্টাও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি, লাঞ্চের আগে মাত্র এক ওভারের ব্যবধানে বাবর ও মাসুদকে ফিরিয়ে পাকিস্তানকে ব্যাকফুটে টেলে দেন মাইকেল ব্রেসওয়েল। ইনিংসের ২৩তম ওভারে বাবর (২৭) এবং ২৫তম ওভারে ফিরেন শান মাসুদ ৩৫ রানে। ৮০ রানে ৫ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।

দলীয় সংগ্রহ একশো ছোয়ার আগে ৫ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে, ব্যাটিং ব্যর্থতায় যখন ম্যাচ হারের আশঙ্কা- তখনই পাকিস্তানের ত্রাতা হয়ে আসেন সরফরাজ আহমেদ। প্রথম ইনিংসে ১২৫ রানের ইনিংস খেলা সাউদ শাকিলকে নিয়ে গড়েন ১১৭ রানের জুটি। সেই জুটিতেই প্রাথমিকভাবে ধাক্কা সামলিয়ে ম্যাচে ফিরে পাকিস্তান। ১২৩ রানের ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে সাউদ শাকিলের অবদান ৩২ রান। শাকিলের ৩২ রানের ছোট ইনিংসটির মাহাত্ম্য কম নয়, কারণ তখন রানের চেয়ে উইকেটে সময়ক্ষেপণ করাটাই ছিল জরুরি। সেই কাজটাই শাকিল করেছেন দারুণ ভাবে, ৩২ রান করতে বল খেলেছেন ১৪৬টি। ধৈর্য্যশীল শাকিলকে ফেরাতে কৌশলী হন ব্রেসওয়েল। ইনিংসের ৬৮তম ওভারের পঞ্চম বলে অফস্ট্যাম্পের বাইরে শর্ট বল করেন, সেখানে কিছুটা টার্ন পান ব্রেসওয়েল আর তাতেই ধৈর্য্যচুতি ঘটে শাকিলের। সেই বলে টপ এজ হয়ে শাকিল ধরা পড়েন ড্যারিল মিচেলের হাতে। তখন সেই কাঙ্ক্ষিত ব্রেক থ্রু পায় নিউজিল্যান্ড, তাতে ভাঙে ১২৩ রানের ষষ্ঠ উইকেট জুটি।

শাকিলের সাথে ১২৩ রানের জুটি গড়ার পথে সরফরাজ আহমেদ পেয়ে যান সিরিজে চতুর্থ ফিফটির দেখা। সপ্তম উইকেটে আঘা সালমানের সাথে ৭০ রানের জুটি গড়ার পথে সেই ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রুপান্তর করেন সরফরাজ। ৬০ বলে ৫ বাউন্ডারি ফিফটি আর ১৩৫ বলে ৯ চার এবং ১ ছক্কায় করেন সেঞ্চুরি। বছর চারেক পর দলে ফিরে তিন ফিফটির পর সেঞ্চুরি করে দলকে জয়ের দিকেই নিয়ে যাচ্ছিলেন সরফরাজ। দিনের খেলা প্রায় শেষের দিকে তখন, ওভার পাঁচ ছয়েক বাকী। সেই সময় ব্রেসওয়েলে মিডল এন্ড অফ করা বল কিছুটা টার্ন করে সরফরাজের প্যাডের দিকে যায়, সেই বলে ফ্লিকের চেষ্টায় ধরা পড়েন লেগ স্লিপে। আর তাতেই ১১৮ রানে থামতে হয় তাকে।

সেই সাথে ম্যাচ হারের শঙ্কায় স্থবিরতা দেখা দেয় পাকিস্তান শিবিরে। কারণ দিনের সরফরাজ যখন সাজঘরে ফিরেন, দিনের খেলা তখন ওভার ছয়েক বাকী। পাকিস্তানের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩২। জয় না হোক সরফরাজ থাকলে হয়তো, গুটি কয়েক ওভার নাসিম শাহকে নিয়ে কাটিয়ে দিতেন অনায়াসে। সেই স্বস্তির এক ড্রতে নিষ্পত্তি হতো ফলাফল। সরফরাজের বিদায়ে ধরে নেওয়া হয়েছিল নিউজিল্যান্ড জিততে যাচ্ছে ম্যাচ। কারণ জয় থেকে ৩২ দূরে থাকা পাকিস্তানের হাতে ছিল মাত্র এক উইকেট। ক্রিজে ব্যাটারের কেউ স্বীকৃত কোনো ব্যাটার নন।

তবে হারের শঙ্কায় কাটিয়ে দিয়েছেন পাকিস্তানের দুই বোলার নাসিম শাহ ও আবরার আহমেদ। ব্যাট হাতে দুজনে মিলে দশম উইকেটে খেলেন মূল্যবান ২১টি বল, যেখানে আবার এক ছক্কা এবং এক চারে ব্রেসওয়েলের এক ওভার থেকে ১০ রান নেন নাসিম শাহ।

ইনিংসের ৯০তম ওভারের পঞ্চম বলে আবরারকে এলবিডব্লিউ’র ফাদে ফেলে জোরালো আবেদন করেন ইশ সৌধি। সেই আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার! নিউজিল্যান্ডের জয়ের জন্য তো তখন এই একটা উইকেটেই দরকার, রিভিউ যেহেতু আছে সেটা কাজে লাগানোই বুদ্ধিদীপ্ত রণকৌশল। তবে রিভিউ সিদ্ধান্ত আসতে সময়ক্ষপণ হবে, তাতেই বাধে গড়িমসি। রিভিউ নিব কি নিব না, এমন দুটানায় থাকা টিম সউদি, নিয়ে নেন রিভিউ। তবে সেটা কাজে আসে না, বরং সময়ের অপচয় হয়েছে বটে। রিভিউ যায় পাকিস্তানের পক্ষে। ৩১৯ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে দিন শেষে পাকিস্তান ৯ উইকেটে সংগ্রহ করে ৩০৯ রান।

করাচির আকাশে ঠিকঠাক আলো থাকলে খেলা হতে পারত আরও তিন ওভার, আর সেটা হলে দুইদলের জয়ের সম্ভাবনা ছিল। তবে আলোকসল্পতার কারণে ৩ ওভার বাকি থাকতে খেলা থামিয়ে দেন ফিল্ড আম্পায়াররা। আর তাতেই রোমাঞ্চ ছড়ানো শ্বাসরুদ্ধকর করাচি টেস্টে ড্রতে সন্তুষ্ট থাকতে হয় পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডকে।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৪টি উইকেট শিকার করেন মাইকেল ব্রেসওয়েল। এছাড়া ২টি করে উইকেট নেন টিম সউদি ও ইশ সৌধি।

চার বছর পর টেস্ট দলে ফিরে ম্যাচ বাঁচানো সেঞ্চুরিতে ম্যাচ সেরা হয়েছেন পাকিস্তানের সরফরাজ আহমেদ। করাচি টেস্টের দুই ইনিংসে এক সেঞ্চুরি এবং ফিফটিতে সরফরাজ করেছেন ১৯৬ রান। ম্যাচ সেরা পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে চার ইনিংসে তিন ফিফটি এবং এক সেঞ্চুরিতে ৮৩.৭৫ গড়ে রান করেছেন ৩৩৫ রান করে সিরিজ সেরাও হয়েছেন সরফরাজ।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

মিরপুরের উইকেট ও কন্ডিশন ভালো লাগে মৃত্যুঞ্জয়ের

Read Next

রনি ঝড়ের পর হাসান-রাজাদের বোলিং তোপে রংপুরের সহজ জয়

Total
8
Share