ম্লান আক্সার প্যাটেল, শ্রীলঙ্কার জয়ের নায়ক দাসুন শানাকা

featured photo updated
Vinkmag ad

ম্যাচটা ছিল ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার, কিন্তু লড়াইটা যেন ছিল দাসুন শানাকা ও আক্সার প্যাটেলের। শানাকার ব্যাটে যেমন ২০৬ রানে বিশাল পুঁজি পায় শ্রীলঙ্কা, ঠিক তেমনি প্যাটেলের ব্যাটে লড়াইটা জমায় ভারত। দুজনেই ব্যাটে-বলে দুই দলের সেরা খেলোয়াড়, দুজনের ব্যাটেই ফিফটি আসে মাত্র ২০ বলে, বোলিংয়ে নিয়েছেন সমান দুটি করে উইকেট। দাসুন শানাকা তো শেষ ওভারে প্যাটেল এবং শিবাম মাভিকে ফিরিয়ে ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়েও দলের জয়ে কার্যকরী ভূমিকা রাখেন। সেই সাথে ১৬ রানে ভারতকে হারিয়ে প্রথম ম্যাচে ২ রানের হারের আক্ষেপ গোছানোর সুযোগ পায় লঙ্কানরা।

প্রথম ম্যাচ তো প্রায় জিতেই গিয়েছিল শ্রীলঙ্কা, শেষ ওভারে হিসাব মিলাতে না পারায় হারতে হয়েছিল মাত্র ২ রানে। মুম্বাইয়ে সেদিন তীরে এসে তরী ডুবলেও, আজ আর সেই ভুল করেনি লঙ্কানরা। পুনেতে মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে অধিনায়ক দাসুন শানাকার অলরাউন্ড নৈপুন্যে ভারতকে ১৬ রানে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। প্রথমে ব্যাটিং ২২ বলে ৫৬* রান, পরে বোলিংয়ে ২ উইকেট শিকার করে শ্রীলঙ্কার ১৬ রানের জয়ের নায়ক অধিনায়ক শানাকাই।

বৃহস্পতিবার পুনের মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে টসে জিতে বোলিং বেছে নেয় ভারত। প্রথম ম্যাচে শিবাম মাভি আর শুবমান গিলের অভিষেক হয়, দ্বিতীয় ম্যাচেও আরও একজনের অভিষেক হয়েছে, তিনি রাহুল ত্রিপাঠি। শিবাম মাভির মতো অভিষেক তেমন রঙিন হয়নি ত্রিপাঠির, প্রথম ম্যাচেই পেয়েছেন হারের তিক্ত স্বাদ, সেই সাথে সাজঘরেও ফিরেন মাত্র ৫ রানে।

শ্রীলঙ্কার দেওয়া ২০৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাওয়া প্লে শেষ না হতেই মাত্র ৩৪ রানে চার উইকেট হারিয়ে বসে স্বাগতিক ভারত। একে একে ফিরে যান ইশান কিশান (২), শুবমান গিল (৫), আর চারে খেলতে নামা অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়াও ফিরেন মাত্র ১২ রানে। দ্রুত চার উইকেট তুলে ভারতকে কোণঠাসায় ফেলে দেন লঙ্কান পেসার কাসুন রাজিথা ও দিলশান মাদুশঙ্কা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম এবং শেষ বলে ভারতের দুই ওপেনার ইশান কিশান ও শুবমান গিলকে ফেরান রাজিথা। তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে রাহুল ত্রিপাঠিকে ফেরান দিলশান মাদুসানকা। পঞ্চম ওভারে চামিকা করুণারত্নে হার্ডিক পান্ডিয়াকে ফেরালে ৪.৪ ওভারেই চার উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয় পড়ে ভারত।

তবে সেই বিপর্যয় স্বাগতিকরা কাটিয়ে উঠে সুরিয়াকুমার যাদব ও আক্সার প্যাটেলের ৯০ রানের ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এক জুটিতে। প্যাটেল ও যাদবের ৪০ বলে ৯০ রানের সেই জুটিতে লড়াইয়ে ফিরে ভারত। কার্যকরী সেই জুটি গড়ার পথে ইনিংসের ১৪তম ওভারে হাসারাঙ্গাকে ৪ ছক্কা এবং দুই সিঙ্গেললে ২৬ রান তুলেন প্যাটেল। সেই ছক্কা ঝড়ে মাত্র ২০ বলে ২ বাউন্ডারি এবং ৬ ছক্কায় পৌছে যান ফিফটিতে। দলীয় ১৪৮ রানে সুরিয়াকুমারকে (৫১) ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন মাদুশঙ্কা।

সুরিয়াকুমারের বিদায়ের পর একা হয়ে যান প্যাটেল, তবু তার আগ্রাসী ব্যাটিং থামেনি, মারমুখী ব্যাট চালিয়ে প্রায় জিতিয়েই দিয়েছিলেন। কিন্তু একপ্রান্তে আগলে রেখে একা লড়াই করে আর কুলিয়ে উঠতে পারেননি প্যাটেল, অপরপ্রান্ত থেকে পর্যাপ্ত সাপোর্টের অভাবে শেষের হিসাব মেলাতে পারেননি তাই। ইনিংসের শেষ ওভার পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান, ওভারের তৃতীয় বলে যখন প্যাটেল ৩১ বলে ৩ বাউন্ডারি এবং ৬ ছক্কায় ৬৫ রানে আউট হন ভারত তখন জয় থেকে ১৮ রান দূরে। যা দাঁড়ায় শেষ তিন বলে তিন ছক্কার হিসাবে। তবে শেষ তিন বল থেকে মাত্র এক রানের বেশি নিতে পারেননি শিবাম মাভি। ফলে ১৬ রানের জয় নিয়ে সিরিজে সমতায় ফিরে শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কার হয়ে ২টি করে উইকেট শিকার কাসুন রাজিথা, দিলশান মাদুশাঙ্কা ও দাসুন শানাকা।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে কুশল মেন্ডিস ও পাথুম নিসাঙ্কার ব্যাটে উড়ন্ত সূচনা করে। লঙ্কান দুই ওপেনার মিলে উদ্বোধনী জুটিতে তুলেন ৫৪ বলে ৮০ রান। মেন্ডিস ৩১ বলে করেন ৫২ রান আর নিসাঙ্কার ব্যাট আসে ২৩ বলে ২৩ রান। শ্রীলঙ্কা শুরুর সেই ছন্দ ধরে রেখে সামনে এগুতে পারেনি, মিডল অর্ডারের ব্যাটারদের ব্যর্থতায়। ৮০ রানে মেন্ডিস ফেরার পর, ৮৩ রানেই ফিরেন ভানুকা রাজাপাক্ষসে। এই দুই ব্যাটারকে ফিরিয়ে কাঙ্ক্ষিত দুই ব্রেক থ্রো এনে দেন যুজবেন্দ্র চাহাল ও উমরান মালিক।

এরপর ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কা (৩৩) এবং ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে (২) ফেরান আক্সার প্যাটেল। ফলে শুন্য উইকেটে ৮০ থেকে ১১০ রানেই ৪ উইকেট হারায় লঙ্কানরা।

তবে সেখান থেকে লঙ্কানরা ঘুরে দাঁড়ায় অধিনায়ক দাসুন শানাকার ব্যাটে, দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে অধিনায়কসুলভ এক ইনিংস খেলেন শানাকা। যেখানে ২০ বলে ২ বাউন্ডারি এবং ছক্কায় করেন ফিফটি। যা লঙ্কান কোনো ব্যাটারদের মধ্যে দ্রুততম ফিফটি। সেই সাথে সপ্তম উইকেটে করুণারত্নের সাথে গড়েন ২৭ বলে ৬৮ রানের অবিচ্ছিন্ন অষ্টম উইকেট জুটি, যা লঙ্কানদের সংগ্রহ দুইশো ছাড়াতে রাখে মূল্যবান ভূমিকা। যেখানে শানাকার অবদান ১৭ বলে ৫২ আর করুনণারত্নের ব্যাট থেকে আসে ১০ বলে ১১। শানাকা-করুণারত্নের দুর্দান্ত এই জুটিতে শ্রীলঙ্কা ২০ ওভারে সংগ্রহ করে ২০৬ রান ৬ উইকেট হারিয়ে। ভারতের হয়ে ৪৮ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন উমরান মালিক। এছাড়া ২টি উইকেট শিকার করেন আক্সার প্যাটেল।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

করাচিতে জয়ের লক্ষ্যে নেমে ধাক্কা খেল পাকিস্তান

Read Next

ম্যাচের আগে হুট করে বদলে গেল শুরুর সময়

Total
13
Share